হুমকি, পাল্টা হুমকি ও টানা সামরিক উত্তেজনার পর অবশেষে ইরানের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত সামরিক হামলা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক দিন আগেও পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ভিন্ন। গত কয়েক সপ্তাহের তীব্র সামরিক সংঘাত ও কূটনীতির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে হামলা বাতিলের এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাল, তার একটি ধারাবাহিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
হামলা পুনরায় শুরু ও যুদ্ধবিরতির অবসান
৮ জুলাই
কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন রুট ব্যবহারের অভিযোগে কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ৮ জুলাই থেকে পুনরায় ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
ইরানের পাল্টা হামলা ও সেনা নিহত
জুলাইয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহ
ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা হিসেবে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, জর্ডান ও কাতারে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালির জাহাজে আঘাত হানে। এসব হামলায় জর্ডান ও ইরাকে চারজন মার্কিন সেনা নিহত হন।
লোহিতসাগরে হুথিদের নৌ অবরোধ
২০ জুলাই
যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট বা অধ্যায় উন্মোচন করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ২০ জুলাই লোহিতসাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়।
টানা বোমা হামলার পর বিরতি
২৫ জুলাই
টানা ১৩ রাত ব্যাপক বিমান হামলার পর ২৫ জুলাই বোমা হামলা সাময়িক স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ভালো আলোচনা’ চলছে।
বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ও নতুন হুমকি
২৮-৩১ জুলাই
২৮ জুলাই হোয়াইট হাউসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। এরপর ৩১ জুলাই ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরান চাপ সহ্য করতে না পারা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর আঘাত’ অব্যাহত রাখবে। মার্কিন গণমাধ্যমেও খবর আসে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বোমাহামলার পরিকল্পনা করছে।
ইরানের কড়া কূটনৈতিক বার্তা ও হুঁশিয়ারি
১ আগস্ট
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ১ আগস্ট সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপ করেন। এতে ওয়াশিংটন বা ইসরাইলের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘অনুপাতিক ও প্রমাণিত জবাব’ দেওয়ার হুমকি দেয় তেহরান।
হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের
চূড়ান্ত পর্যায়
ইরানের অনড় অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কূটনৈতিক মধ্যস্থতার পর শেষ মুহূর্তে সামরিক হামলা বাতিল করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলো তাকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখায় সব পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের কঠোর রণকৌশল, প্রাণহানি এবং জ্বালানি খাতে বিশ্বব্যাপী মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কাই মূলত ট্রাম্পকে শেষ মুহূর্তে সামরিক অভিযানের চিন্তা থেকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

