গাজায় যুদ্ধবিরতি

ট্রাম্পের ১৫ দফার রোডম্যাপ প্রকাশ করল ‘বোর্ড অব পিস’

ট্রাম্পের ১৫ দফার রোডম্যাপ প্রকাশ করল ‘বোর্ড অব পিস’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার চূড়ান্ত পর্যায় বাস্তবায়নে ১৫ দফার একটি বিস্তারিত রূপরেখা বা রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে ‘বোর্ড অব পিস’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নিরস্ত্রীকরণের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই চুক্তির শর্তে সম্মত রয়েছে। তবে এই বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

প্রকাশিত রূপরেখায় গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে—

সামরিক অভিযান বন্ধ ও দায়িত্ব হস্তান্তর

পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরাইল, হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে তাদের সব ধরনের সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। সব পক্ষ চুক্তি অনুমোদনের ১৪ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের সময়সূচি ও পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে (প্রয়োজনে এই সময় বাড়ানো যেতে পারে)। এরপর ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করে প্রশাসনিক দায়িত্ব বুঝে নেওয়া শুরু করবে।

যাচাই কমিটি ও প্রশাসনিক নীতি

প্রস্তাবিত রূপরেখাটির একটি ধাপ থেকে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে পূর্ববর্তী ধাপের প্রতিশ্রুতিগুলো সঠিকভাবে পালিত হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের ওপর। এই তদারকির দায়িত্বে থাকবে নতুন গঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি’ (আইভিসি)। চুক্তির শর্ত কোনো পক্ষ লঙ্ঘন করছে কি না, সেদিকেও নজর রাখবে তারা। গাজা শাসন পরিচালিত হবে ‘এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন, এক অস্ত্র’—এই নীতির ভিত্তিতে। এনসিএজি ফিলিস্তিনি আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পুনর্গঠন

বিদ্যমান পুলিশ কাঠামোতে নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের যুক্ত করা হবে। তবে অন্তর্ভুক্তির আগে সব সদস্যের অতীত রেকর্ড ও যোগ্যতা কঠোরভাবে যাচাই (ভেটিং) করা হবে। যারা যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিকল্প বেসামরিক কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া পুলিশের সব ধরনের অস্ত্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে এনসিএজি-র হাতে।

অস্ত্র ও সুড়ঙ্গ অকার্যকরকরণ এবং সেনা প্রত্যাহার

হামাসের সব ধরনের ভারী অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা, গুদাম ও সুড়ঙ্গগুলো অকার্যকর করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এনসিএজি পর্যায়ক্রমে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে গাজার ইসরাইল-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য সশস্ত্র মিলিশিয়াদের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়। ইসরাইল বা ফিলিস্তিনের বাইরের কোনো পক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তর করা যাবে না। প্রক্রিয়াটি শেষ হলে গাজায় একমাত্র এনসিএজি-ই অস্ত্র রাখা বা নিয়ন্ত্রণের অধিকার পাবে।

সামাজিক শান্তি চুক্তি

গাজার অভ্যন্তরীণ সহিংসতা রোধ এবং যেকোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ, শক্তি প্রদর্শন কিংবা সশস্ত্র মহড়া বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি ‘সামাজিক শান্তি চুক্তি’ সই করা হবে।

আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েন

এনসিএজি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো থেকে ইসরাইলি বাহিনীকে আলাদা রাখতে গাজা উপত্যকায় একটি অস্থায়ী ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) মোতায়েন করা হবে। সব পক্ষ যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে কি না, তা তদারকির পাশাপাশি ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, মানবিক সহায়তা ও জরুরি সরবরাহ পৌঁছানোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এনসিএজি-কে সার্বিক সহায়তা দেবে এই বাহিনী। তবে ফিলিস্তিনি সমাজের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা কোনো সরাসরি পুলিশি দায়িত্ব আইএসএফ পালন করবে না।

সূত্র: আল আরাবিয়া ইংলিশ

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন