বিদ্যুৎ সংকট বৃদ্ধির দায় রিকশাশ্রমিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, অবিশ্বাস্যভাবে চলমান বিদ্যুৎ সংকট বৃদ্ধির দায়ও চাপানো হচ্ছে রিকশা শ্রমিকদের ওপর। এই সংকট মোকাবেলায় আগে সরকার এবং উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদেরকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।
রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতি আয়োজিত রিকশা শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবির সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক আরো বলেন, রিকশা শ্রমিকসহ অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষের বাঁচার দাবি পূরণ করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা শ্রমিকবান্ধব সরকার। শ্রমজীবীদের মানবিক জীবন নিশ্চিত না হলে শ্রমিকদের কাছে গণতন্ত্র কোন অর্থ বহন করবেনা। রিকশা শ্রমিকদের মানবাধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনা।
অনতিবিলম্বে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নির্বিচারে ডাম্পিং ও তাদের ওপর বেশুমার চাঁদাবাজির সন্ত্রাস বন্ধ করার দাবি জানান পার্টির এই সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আটক করা সকল রিকশা ছেড়ে দিতে হবে। রিকশা চালকদের থেকে বেশুমার চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আগামীতে রিকশা শ্রমিকদের জীবন জীবিকা বাঁচাতে আন্দোলনের বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।
সংগঠনের সভাপতি জামাল সিকদারের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, বাংলাদেশ বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক আহসান বিল্লাল, কেন্দ্রীয় নেতা তুহিন খান, মোহাম্মদ শান্ত প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জীবিকার তাগিদে বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে নিজেদের ও পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে রিকশা ডাম্পিং, পুলিশি হয়রানি ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে এসব শ্রমিক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


