নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে অন্য সামুদ্রিক পথও বন্ধের হুমকি ইরানের

নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে অন্য সামুদ্রিক পথও বন্ধের হুমকি ইরানের
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র যদি তার সামরিক হুমকি ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের কড়াকড়ি আরো বাড়ানো হবে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সামুদ্রিক প্রণালি ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাগের জোলগাদর এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘মার্কিন সরকারের নৌ অবরোধ ও যুদ্ধংদেহি মনোভাব অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের কড়াকড়ি আরো বাড়াবে ইরান। সেই সঙ্গে অন্যান্য কৌশলগত প্রণালি ও নৌপথগুলোও অবরুদ্ধ করা হবে।’

জোলকাদর আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ হওয়ার খেসারত দিতে হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশ্ব জ্বালানি বাজার, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদেরও।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করার পরপরই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বজুড়ে মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে পরিবাহিত হতো। টানা পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত লোহিতসাগরেও অবরোধ জারি করেছে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের এই সামুদ্রিক অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহনব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে।

রেকর্ড অনুযায়ী, গত জুন মাসেও সৌদি আরব লোহিতসাগর পথ দিয়ে দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রপ্তানি করেছিল, যা এখন অনেকটাই থমকে গেছে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন