গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শতবর্ষী ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণে ও নবরূপায়ণে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয় একটি পরিবার। প্রায় শতবর্ষের পুরোনো এ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারে এগিয়ে এসেছে পরিবারটি। এর ফলে আবার ফিরবে বিদ্যালয়টির পুরোনো জৌলুস। শিক্ষার্থীরা আরো ভালো পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে; এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিদ্যালয়টির পুরোনো অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের এ উদ্যোগ এলাকায় বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
১৯৪০ সালেরও আগে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির সবকটি ভবনই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুরোনো ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, নষ্ট হয়ে গেছে জানালা-দরজা। ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবুও সীমিত অবকাঠামোর মধ্যে বাধ্য হয়েই প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় মরহুম আজিতউল্লাহর পরিবারের আর্থিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবনগুলো নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এলাকাবাসী জানায়, ব্যক্তিগতভাবে হাতে নেওয়া প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এছাড়াও সম্প্রতি তাদের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়টির ঐতিহ্যবাহী অবকাঠামো অনেকাংশে পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
সংস্কার প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক ও বিদ্যালয়ের ১৯৬০ ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্র জলিলুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আমরা নিজেদের পারিবারিক উদ্যোগে ভবনগুলোর ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ শুরু করেছি। আশা করি প্রাক্তন শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীরাও আগামীতে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে এগিয়ে আসবেন।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শামসুল আজাদ শীতল বলেন, ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ। বিদ্যালয়টির পুরোনো জৌলুস ফিরিয়ে আনতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মণ্ডল বলেন, এই মহতী উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীরা আরো ভালো পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংস্কার কাজের অগ্রগতি দেখতে সম্প্রতি সাঘাটা-ফুলছড়ি আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তিনি উদ্যোগটির প্রশংসা করে বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে মরহুম আজিত উল্লাহ সাহেবের পরিবারের অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এমন সামাজিক উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সরকারি পর্যায় থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মকবুলার রহমান মণ্ডল স্থানীয় জনপদে একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি জীবদ্দশায় পঞ্চায়েতপ্রধান এবং দীর্ঘ ৩৬ বছর ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয় একটি কালের সাক্ষী হয়ে জরাজীর্ণ ভবনে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। বিদ্যালয়টির উন্নয়ন ও পাঠদানের মান ফিরে এলে এ অঞ্চলের অন্যতম শিক্ষাঙ্গন হিসেবে পুনরায় পরিচিতি পাবে বলে আশা করছেন শিক্ষানুরাগীরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



