ইউক্রেনে পাল্টা হামলার পরিকল্পনা করেছিল ইরান

ইউক্রেনে পাল্টা হামলার পরিকল্পনা করেছিল ইরান
ছবি: সংগৃহীত।

কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ইউক্রেনের হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছিল ইরান। তবে জরুরি কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে আপাতত সেই পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে দেশটি। ইরানি ও পশ্চিমা সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওই হামলায় ইরানের এক বেসামরিক নাবিকও নিহত হন। এর পরদিনই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে এই ঘটনা ‘জবাবহীন রাখা সম্ভব নয়।’

পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, ইরান হয়তো বড় ধরনের ক্ষতি না করে একটি প্রতীকী জবাব দিতে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরে কম ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ইরান থেকে ইউক্রেন ভূখণ্ডে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আঞ্চলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে এক বড় ধরনের যুদ্ধের রূপ দিতে পারত।

কূটনৈতিক তৎপরতায় বরফ গলার ইঙ্গিত

তবে চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় কূটনীতিকদের উদ্যোগে আলোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। ফোনালাপের পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিবিহা কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

ফোনালাপ প্রসঙ্গে আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেন, ‘ইরানও সংঘাত বৃদ্ধি করতে চায় না, তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি যে আমাদের নাগরিক বা স্বার্থের ওপর যেকোনো হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এই ঘটনার সঠিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ পরবর্তীতে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কাল্লাসের সাথেও আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

তেহরানভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেহেদী রহমতি জানান, ইরানি সরকারের একটি অংশ শুরুতেই ইউক্রেনের ওপর পাল্টা সামরিক হামলার বিরোধিতা করেছিল। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন কোনো ছোট বা দুর্বল দেশ নয়। তাদের সামরিক অভিজ্ঞতা আছে এবং তারা আমেরিকা ও ইউরোপের লজিস্টিক সহায়তা পাচ্ছে। নতুন একটি যুদ্ধের ফ্রন্ট তৈরি করে ইরানের কোনো লাভ হবে না।’

ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও রাশিয়ার ভূমিকা:

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পারস্য উপসাগরীয় ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের পর রাশিয়ার সাথে কাস্পিয়ান সাগর কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও রসদ সরবরাহ তেহরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে, রাশিয়ার কাছে ইরানি ড্রোন বিক্রির অভিযোগ এনে কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের ওপর ক্ষুব্ধ।

ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এক বৈঠকে অংশ নেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেখানে জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের নজরদারির সুবিধার্থে রাশিয়া কর্তৃক স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহের বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করেন বলে জানা গেছে।

আপাতত দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনার মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী পাল্টা আক্রমণের হুমকি এড়ানো গেলেও, অঞ্চলটির বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই ক্ষণস্থায়ী শান্তি কতদিন স্থায়ী হবে—তা নিয়ে সংশয় কাটেনি।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন