বন্যার ঝুঁকিতে সাড়ে ৯ লাখ গাজাবাসী

বন্যার ঝুঁকিতে সাড়ে ৯ লাখ গাজাবাসী
ছবি: এপি

গাজায় যুদ্ধের চতুর্থ শীত শুরু হয়েছে। অথচ এখনো মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ আশ্রয় নেই লাখ লাখ ফিলিস্তিনির। ছেঁড়া ত্রিপল ও অস্থায়ী তাঁবুতে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন বাস্তুচ্যুত এসব মানুষ। এরই মধ্যে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় তাদের আশ্রয়স্থলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বন্যার মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে ৪ লাখের বেশি মানুষ রয়েছেন বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে।

গাজার রাজধানী গাজা সিটি থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক ইব্রাহিম আল-খলিল এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর চারটি শীতকাল পার হতে চলেছে। কিন্তু এখনো কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি পর্যাপ্ত আশ্রয় পাননি। যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষকে আবারও শীত মোকাবিলা করতে হচ্ছে ছেঁড়া ত্রিপল ও অস্থায়ী তাঁবুতে।

সাম্প্রতিক ঝড় তাদের আশ্রয়ের নাজুক পরিস্থিতি আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে। কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে অনেক তাবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো কোনো তাঁবুর ত্রিপল ছিঁড়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে বিছানার তোশক, বালিশ, কাপড়চোপড়সহ তাদের শেষ সম্বলটুকুও। অনেক পরিবার কয়েক দিন ধরে নিজেদের আশ্রয়স্থল মেরামত ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঝড়ের মুখে সেসব প্রচেষ্টা কাজে আসেনি।

গাজায় বন্যার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা ব্যাপক। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এমন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে বন্যার ঝুঁকি মাঝারি থেকে উচ্চপর্যায়ের। তাদের মধ্যে ৪ লাখের বেশি মানুষ এমন স্থানে রয়েছেন, যেগুলো বন্যার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

শুধু অস্থায়ী তাঁবুতে থাকা মানুষই ঝুঁকিতে নেই। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ২ হাজার ৩০০টির বেশি ভবনে প্রায় ৪৪ হাজার ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছেন। এসব ভবন ধসে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

আলজাজিরার সাংবাদিক ইব্রাহিম আল-খলিল বলেন, তাঁবুতে ছেঁড়া ত্রিপল জোড়া লাগিয়ে বা সাময়িক মেরামত করে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। গাজায় বাস্তুচ্যুত বহু পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, তাদের প্রয়োজন স্থায়ী ও উপযুক্ত আশ্রয়। একই সঙ্গে নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রীও দরকার।

তার মতে, এসব প্রয়োজন মেটাতে গাজায় জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয় ও পুনর্গঠনের সামগ্রী প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি শীত ও বন্যার ঝুঁকিও বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আরো বাড়াবে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন