ইরানে মার্কিন হামলা অব্যাহত, ট্রাম্পের হুমকিতে ডেমোক্র্যাটদের উদ্বেগ

ইরানে মার্কিন হামলা অব্যাহত, ট্রাম্পের হুমকিতে ডেমোক্র্যাটদের উদ্বেগ
প্রতীকী ছবি

ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১২তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সেতুসহ বিভিন্ন নাগরিক অবকাঠামোতে আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে মার্কিন বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক পরিকাঠামো ধ্বংসের কৌশল আন্তর্জাতিক যুদ্ধরীতির সরাসরি লঙ্ঘন।

বিজ্ঞাপন

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কড়া বক্তব্যের সঙ্গে পেন্টাগনের মাঠপর্যায়ের সামরিক অভিযানের এখন পর্যন্ত কিছু পার্থক্য রয়েছে। এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক হামলাগুলো নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে ট্রাম্প এই আক্রমণকে আরো ভয়াবহ রূপ দেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

অন্যদিকে একই ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে ইরানও। দেশটির স্পষ্ট বার্তা—তেহরান যদি তাদের উৎপাদিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করতে না পারে, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের তেল বিক্রি ও সরবরাহব্যবস্থাও পুরোপুরি অচল করে দেওয়া হবে।

উভয় পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থানে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিই নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি চরম সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল প্রায় সাতটার দিকে ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, বুশেহর অঞ্চলের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনারা।

বুশেহরের উপগভর্নর নিশ্চিত করেছেন, আজ সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো। এর আগে স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।

বুশেহরে আক্রমণের পরপরই খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেস্ক শহরের উপকণ্ঠে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন বাহিনী। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খুজেস্তানের উপগভর্নর এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হামলার বিষয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন দফার এই হামলায় ইরানের নৌ-সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

চলতি মাসে ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পাশাপাশি সমুদ্রে নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে মার্কিন বাহিনী।

সেন্টকম জানায়, ইরানি বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজের আসা-যাওয়া ঠেকাতে তারা এ পর্যন্ত নয়টি বাণিজ্যিক জাহাজের পথ ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং একটি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা নিয়োজিত রয়েছে। তারা চরম সতর্ক অবস্থানে থাকার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী শ্যালোমচে (সালামচেহ) সীমান্ত ক্রসিংয়ে মার্কিন হামলায় দুজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হন। সীমান্ত ক্রসিংটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, প্রাণহানি ও হামলার পরও সীমান্ত পারাপার সচল রাখা হয়েছে, কারণ সেখানে বর্তমানে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে সংঘাত নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে’ স্বাক্ষর করেছিল। তবে তা বর্তমানে পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। একদিকে মার্কিন বাহিনী টানা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে পাল্টা জবাব হিসেবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালাচ্ছে তেহরান।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন