চলতি অর্থবছরের মে মাসে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপো ও স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্ট বা বিশেষ তারল্য সহায়তা হিসেবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা ধার দেওয়া হয়।
এ পরিমাণ অর্থ চলতি অর্থবছরের কোনো মাসেই দেওয়া হয়নি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ দুই লাখ ৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়। দেশের মুদ্রাবাজারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা ‘মানি মার্কেট ডাইনামিকস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ব্যাংক খাতে কয়েক বছর ধরে তারল্য সংকট চলছে। এই সংকট মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিপুল পরিমাণ তারল্য সহায়তা দিতে হচ্ছে। মে মাসে সর্বোচ্চ ধার নেওয়ার কারণ হলো ঈদের আগের মাস ছিল। এ সময় ব্যাংকগুলো থেকে মানুষ খরচ করার জন্য প্রচুর টাকা তুলে। ফলে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নিয়ে চাহিদা মেটাতে হয়েছে। এ ছাড়া ভালো ব্যাংক হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ব্যাংকও রেপো এবং স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্ট নিচ্ছে। অপেক্ষাকৃত কম সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নেওয়া অর্থে ওই ব্যাংকগুলো সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড কিনছে। এভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থে সরকারকে ঋণ দিয়ে ওই ব্যাংকগুলো বড় অঙ্কের মুনাফা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মে মাসে স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্টের চেয়েও রেপো হিসেবে বেশি অর্থ ধার করছে। বর্তমানে রেপোর সুদহার ১০ শতাংশ। আর স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্টের সুদহার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে। দৈনন্দিন লেনদেন শেষে কোনো ব্যাংক সিআরআর (আমানতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমা সংরক্ষণ) ঘাটতিতে পড়লে তবেই স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্ট নেয়। ওই মাসে স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্টের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১৬ হাজার ১৮০ কোটি টাকা, যা এপ্রিলের তুলনায় ৩৭ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে মে মাসে রেপোতে ধারের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪ কোটি টাকা, যা এপ্রিলের তুলনায় ৪১ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। রেপোর বিভিন্ন মেয়াদ থাকলেও স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্ট শুধু একদিনের জন্য দেওয়া হয়।
তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো অর্থ জোগানের জন্য প্রথমে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে (কলমানি) যায়। সেখানে পর্যাপ্ত অর্থ না পেলে রেপোর মাধ্যমে মুদ্রাবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে ধার দেওয়া ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রাখতে হয়। কলমানি কিংবা রেপোর মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে না পারলে তবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। এক্ষেত্রে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপোতে ধার নেওয়া হয়। দৈনন্দিন লেনদেন শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত সিআরআর ঘাটতি দেখা দিলে স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্ট হিসেবে ব্যাংকগুলো অর্থ ধার করে। উভয় ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি ট্রেজারি বিল বন্ড তথা সিকিউরিটি বন্ধক রাখতে হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


