প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনকে নির্বাচন ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ পরামর্শের জন্য অনানুষ্ঠানিক মতামত (ইউও নোট) দিয়েছেন তার রানিংমেট নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ব্যয় তদারকি এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এই মতামত দেওয়া হয়েছে। আসনভিত্তিক সব প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচার থেকে আনুষঙ্গিক সবকিছুতে ব্যয়সীমার লাগাম টানতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই নোটে।
ইসির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তথ্যটি আমার দেশকে নিশ্চিত করেন। অসুস্থতাজনিত কারণে কর্মস্থলে দুদিন অনুপস্থিত থাকা সিইসিকে গত মঙ্গলবার প্রথম কর্মদিবসে চিঠিটি হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। গত ২১ নভেম্বর ইসি পুনর্গঠনের পর এ ধরনের ইউও নোট নতুন কমিশনের মেয়াদকালে এই প্রথম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। তথ্যটি সত্য না মিথ্যাÑআমার দেশ-এর পক্ষ থেকে জানতে চাইলে কিছুক্ষণ নীরব থেকে নির্বাচন কমিশনার বলেন, যখন আলোচনায় উঠবে জানতে পারবেন। ইউও নোটের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাষ্ট্রীয় পলিসির অংশ হিসেবে লিখিত মতামত দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এটাও তারই ধারাবাহিকতার অংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ ব্যয় ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে ইসির নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে কোনো প্রার্থীই থাকতে পারেন না। আর প্রভাবশালী প্রার্থীরা তো বিজয় নিশ্চিতে কোটি টাকার ওপরে ব্যয় করেন। দুর্বল প্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, নির্বাচনের পর যখন ব্যয়ের রিটার্ন ইসিতে জমা দেন, তা পর্যালোচনায় দেখা যায় নির্ধারিত ব্যয়সীমার কম দেখিয়ে থাকেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে তদারকি না হওয়ার কারণে প্রার্থীরা তাদের ইচ্ছামতো ব্যয় করলেও জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে না ইসি।
প্রার্থীদের ব্যয়ের খাত
প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারসামগ্রীর পেছনে ব্যয় (যেমন- ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট), সভা-সমাবেশ, কর্মীদের উপঢৌকন, শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত যানবাহন ও ভোটার স্লিপ। এর বাইরে ভোটকেন্দ্র দখলে নেওয়ার জন্য অবৈধ টাকা দিয়ে মাস্তান ভাড়া করা ও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভোট কেনা। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ ব্যয়ের জন্য অনুদান হিসেবে নিকটাত্মীয়, ব্যবসায়ী ও নিজ রাজনৈতিক দল থেকে টাকা নেন প্রার্থীরা।
নির্বাচনি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি চেকলিস্ট তৈরির পরিকল্পনা করে দেবে কমিশন। কোন খাতে কীভাবে ও কত, কোন প্রক্রিয়ায় ব্যয় করছেনÑতার হিসাব রাখা। যেমন কটি নির্বাচনি প্রচারের স্টেজ হবে, কটি প্রচারের মাইক হবে, কী পরিমাণ পোস্টার ও ব্যানার লাগবে। পাশাপাশি একটি সংসদীয় আসনের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সংখ্যা নির্ণয় করা।
এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার সময় আসনভিত্তিক ব্যয় নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়। এর জন্য দরপত্রেরে মাধ্যমে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়োগ করা হবে। এই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান প্রার্থীদের প্রচার থেকে শুরু করে সবকিছুর কাজ সম্পাদনে সহায়তা করবে। প্রার্থীদের পুরো ব্যয় সরকার থেকে নির্বাহ করা হবে। ভোটের পর প্রার্থীদের যাবতীয় ব্যয়ের খতিয়ান কমিশনকে দেবে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে ভোটে কালোটাকার দৌরাত্ম্য কমবেÑএমনটাই প্রত্যাশা কমিশন-সংশ্লিষ্টদের।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


