হোম > আমার দেশ স্পেশাল

বদলি-পদোন্নতিতে মন্ত্রী-এমপিদের তদবির, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

বেলাল হোসেন

সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতিতে মন্ত্রী-এমপিদের তদবির বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক সহকারী প্রকৌশলীকে ঢাকায় বদলির সুপারিশ করে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে একই সচিবের কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন একজন সংসদ সদস্য ও একজন প্রতিমন্ত্রী।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চার যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নে সুবিধা পাইয়ে দিতে মন্ত্রী-এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের এমন তদবিরের ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে চাকরিসংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পছন্দমতো বদলি ও পদায়ন পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সুপারিশ করাচ্ছেন। কখনো মৌখিক, আবার কখনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ডিও লেটারের মাধ্যমে এসব তদবির করা হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নজরে আসার পর এ প্রবণতা বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে দায়িত্বপালনকারী অনেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি করে অন্তর্বর্তী সরকার। অনেক ক্ষেত্রে ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে কর্মরত অনেক কর্মকর্তাকে জেলা পর্যায়ে বদলি করা হয়। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের বড় অংশই ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মন্ত্রী-এমপিঘনিষ্ঠ। বিএনপি সরকার গঠনের পরও ক্ষমতাচ্যুত সরকারঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থেকে সরানো হয়। তবে সম্প্রতি ওইসব কর্মকর্তার অনেকেই বিএনপির মন্ত্রী-এমপিদের আনুকূল্য পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার বদলি পদায়নের জন্য মন্ত্রী-এমপিদের ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে ডিও লেটার পাঠাচ্ছেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনিকে ঢাকায় বদলির সুপারিশ করেন। পরদিন একই কর্মকর্তার বদলির সুপারিশ করে একই সচিবকে চিঠি দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। দুই চিঠির বক্তব্যও প্রায় অভিন্ন।

চিঠিতে মনিরুজ্জামানকে সৎ ও দক্ষ প্রকৌশলী উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি ও তার পরিবার জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় একটি নির্মাণাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে পড়ে মাথায় আঘাত পান তিনি। এতে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। বর্তমানে ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপ চলছে। শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে ঢাকা মেট্রো এলাকায় বদলির সুপারিশ করা হয়।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহকে চিঠি দিয়ে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২১তম ব্যাচের চার যুগ্ম সচিবের পদোন্নতি বিবেচনার অনুরোধ জানান। তারা হলেন—জাহিদুল ইসলাম, ড. আমজাদ হোসেন, মল্লিকা খাতুন ও মাহফুজুর রহমান। মন্ত্রী তাদের সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ করেন। পরে উপদেষ্টা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সভাপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার খুবই কঠোর। ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির বন্ধে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২০ বিধি অনুযায়ী এ ধরনের তদবিরকে বিধিমালার লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদবিরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য তার ডসিয়ারে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের আবেদন সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ নির্দেশনা অনুসারে নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা সরকারের দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পদায়নসহ

চাকরিসংক্রান্ত নানা বিষয়ে তদবির করছেন। এ ধরনের প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি প্রতিপালনে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অবশ্যই প্রতিপালন করতে হবে। সুপারিশের মাধ্যমে চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা শৃঙ্খলাপরিপন্থি ও আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাস

১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাস, জিপিএ ৫ কমেছে ৫২%

মাঠে পুরোদমে সক্রিয় আওয়ামী সফট পাওয়ার

রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে বিদেশি শ্রমিক

‘বন্ধু’ দীপের বক্তব্যে তদন্তে নতুন মোড়

মসলা উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগেও কমছে না আমদানিনির্ভরতা

সাত দফা আদায়ে চাপ বাড়াতে চায় জামায়াত জোট

এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি

আলোচিত তাহসিফের লাশ মিলল তুরাগে

জাহাজভাড়া বাড়ল ৭০০ টাকা, দিতে হবে ‘পরিবেশ ফি’