হোম > আমার দেশ স্পেশাল

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা

কেরানীগঞ্জে শুভাঢ্যা খাল খনন

রাকিব হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ

দখল, দূষণ ও আবর্জনায় মৃতপ্রায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শুভাঢ্যা খাল পুনরুদ্ধারে প্রায় ৩১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। খাল পুনঃখনন, দুই পাড়ের উন্নয়ন ও সুরক্ষা, পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পাড় সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শুরুর পর বছর পেরিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চুনকুটিয়া ঝাউবাড়ি এলাকায় শুভাঢ্যা খালের পুনঃখননকাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। খননকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে।

অনুসন্ধানে গত এক বছরে খননকাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চোখে পড়েনি। বিভিন্ন জায়গায় বর্জ্য ও দূষণের কবলে মানুষ অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ। কিন্তু সব চিহ্নিত দখল কিংবা স্থাপনা সরানো হয়েছে—এমন প্রমাণ মেলেনি। দুই পাড়ের সুরক্ষা প্রকল্পের নামেই রয়েছে। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না রেখে কিছু অংশ বালু দিয়ে ভরাট করায় জলাবদ্ধতা রয়েই গেছে। বুড়িগঙ্গা-শুভাঢ্যা-ধলেশ্বরী সংযোগ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। খালের দুই পাড়ের রাস্তার সৌন্দর্যবর্ধন ও খালে নৌকা চলাচল ফিরিয়ে আনা অন্যতম প্রত্যাশারও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বরং খননকাজকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা বন্ধ, ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়া, দুর্গন্ধ ও যান চলাচলে বিঘ্নসহ স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ‘ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলাধীন শুভাঢ্যা খাল পুনঃখনন এবং খালের উভয় পাড়ের উন্নয়ন ও সুরক্ষা (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে। প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া-ঝাউবাড়ি এলাকায় প্রকল্পের বাস্তব কাজের উদ্বোধন করা হয়।

১৪.২৬ কিমি খনন

প্রকল্পের একটি সরকারি টেন্ডারসংক্রান্ত তথ্য থাকলেও প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের খালের দৈর্ঘ্য ১৩ থেকে ১৪ কিলোমিটার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পের ডিপিপি ও চূড়ান্ত নকশা অনুযায়ী কোন অংশে কত কিলোমিটার কাজ হবে, তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে হালনাগাদভাবে প্রকাশ করা জরুরি। কাজের চলমান অবস্থার অনেক তথ্যই জনসমক্ষে আনা হয়নি।

২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বেগুনবাড়ী, চরকুতুব ও গোলামবাজার এলাকায় ১৫টি ছোট-বড় টংঘর উচ্ছেদ করা হয়। ওই সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, খালের দুই পাশে ৫৯টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। তবে ওই সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই খাল খননকাজ চলমান রয়েছে।

প্রকাশ্য সরকারি সূত্রে বর্তমান প্রকল্পের আওতায় উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনার পূর্ণাঙ্গ হালনাগাদ সংখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ময়লা-আবর্জনায় বিপর্যস্ত খালের দুই তীর

শুভাঢ্যা খালের সবচেয়ে বড় সমস্যা দূষণ। খাল খননের আগে ময়লা সরিয়ে না নেওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। খালের দুই পাড়ের রাস্তা বন্ধ রয়েছে। খাল খননকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ের কয়েকটি রাস্তায় পানি জমে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালির আবর্জনায় খাল ঢেকে রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং রাস্তায় চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। খননকাজ চললেও খালপাড়ে পড়ে থাকা ময়লা দ্রুত সরানো না হলে দুর্গন্ধের সমস্যা আরো তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

৩১৭ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রশ্ন

শুভাঢ্যা খালকে ঘিরে এর আগেও একাধিকবার সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৭ সালে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান, ২০১২ সালে খনন ও উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কয়েক বছর পর আবার খাল দখল ও দূষণে আক্রান্ত হয়।

এবারের প্রকল্পের ব্যয় ৩১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। জানা গেছে, আগে আরো বড় প্রকল্পের ছক আঁকা হয়েছিল। সে তুলনায় কাটছাঁট করে নতুন প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছিল প্রকল্প উদ্বোধনের সময়। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাই স্থানীয়দের প্রশ্ন—খনন শেষ হওয়ার পর খালটি কে রক্ষণাবেক্ষণ করবে, বর্জ্য ফেলা বন্ধ করবে কে, নতুন করে দখল ঠেকাবে কীভাবে এবং দুই পাড়ের উন্নয়নকাজ কতটুকু বাস্তবায়িত হবে।

এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের শুভাঢ্যা খাল খনন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মেজর শাকিব আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে। তিনি জানান, ২০২৭ সালের জুন মাসে খননকাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। তার দাবি, ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দিনরাত কাজ করা হচ্ছে।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ডিসি অফিস যেভাবে সার্ভে করেছে, তাদের সার্ভে অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আমাদের উচ্ছেদের টিম প্রস্তুত আছে। তারা অবৈধ স্থাপনা নির্ধারণ করে দিলে আমরা উচ্ছেদ করব।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমএল সৈকত আমার দেশকে জানান, জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার চাওয়া হয়েছে। তারা নতুন করে সার্ভে করে দিলে শুভাঢ্যা খালের দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

তিনি বলেন, কাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ হবে, যা ময়লা অপসারণ করলে দৃশ্যমান হবে। দুই পাড়ের উন্নয়ন ও সুরক্ষা, পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, পাড় সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং দুই পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। প্রথম পর্যায়ে ১৪.২৬ কিলোমিটার খাল খনন, ৭.২ কিলোমিটার খালের পাড় বাঁধাই এবং দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সম্পন্নের কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

অবৈধ রিসোর্টে আগুন কেড়ে নিল ১০ জীবন

বন্ধের পথে জনতা ব্যাংকের আরব আমিরাত কার্যক্রম

বিপুল বকেয়া ও অবকাঠামোগত দুর্বলতায় ধুঁকছে টেলিটক

চিকিৎসার মানচিত্রে অন্ধকারে উপজেলা

যুদ্ধের ভয়াবহতায় জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার

কুকি-চিনের নাথান বম আবার আলোচনায়

কৃষির বি-স্ট্রং প্রকল্পে পদে পদে অনিয়ম-দুর্নীতি

গণহত্যাকারী দল হিসেবে আ.লীগের বিচার কতদূর

তালিকায় নাম, আছে মামলাও—তবু অধরা ছিনতাইকারীরা

টানা ফ্লাইট বাতিলে আর্থিক চাপে এভিয়েশন খাত