হোম > আমার দেশ স্পেশাল

১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাস, জিপিএ ৫ কমেছে ৫২%

চট্টগ্রাম বোর্ড

কায়ছার হামিদ, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.০৭% । যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শুধু পাসের হার নয়, কমেছে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২,৯২৯ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬,০৯৭ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩,১৬৮ জন; যা প্রায় ৫২%। গত বছর এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫২.৫৭% ।

চট্টগ্রাম নগরীতে পাসের হার সবচেয়ে বেশি। এখানে পাসের হার ৬৬.২০%। নগরীর বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৪৫.৫৯%। অন্য জেলাগুলোর মধ্যে কক্সবাজারে ৪৩.৩৪, বান্দরবানে ৪১.৪২%, রাঙামাটিতে ৩৩.২৪ এবং খাগড়াছড়িতে ২৯.৮৫%।

বিভাগভিত্তিক ফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে বেশি, ৭৪.৪২%। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪.১৪ এবং মানবিক বিভাগে ৩৮.৩৬%।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন—বোর্ড সচিব অধ্যাপক জহিরুল হক স্বপন।

১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

বোর্ডের গত ১৫ বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৭২.২৯% । ২০১৩ সালে ৬১.২২, ২০১৪ তে ৭০.৩৬, ২০১৫ সালে ৬৩.৪৯, ২০১৬ সালে ৬৪.৬০, ২০১৭ সালে ৬১. ০৯, ২০১৮ সালে ৬২.৭৩ এবং ২০১৯ সালে ৬২.১৯%।

২০২০ সালে করোনার কারণে পরীক্ষা না নিয়ে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে পাস করানো হয়। ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৮৯.৩৯%। ২০২২-এ তা কমে ৮০.৫০%-এ দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে আনুমানিক ৭৪.৪৫% এবং ২০২৪ সালে ৭০.৩২% পাস করেন। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫২.৫৭%। এবার তা আরো কমে ৫২.০৭%-এ নেমেছে।

অকৃতকার্য ৪৬ হাজারের বেশি

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ডের ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৬ হাজার ১৬৯ জন। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৪৮ জনই পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে তিনটি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি। এসব কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।

এর মধ্যে মেরন সান কলেজ থেকে দুজন, সৃজনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাঁচজন এবং বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন পরীক্ষায় অংশ নেন। ২৮৩টি কলেজের সম্মিলিত ফলাফলের হিসাবে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

১০টি কলেজে পাসের হার ১০%-এর নিচে এবং ১৮২টি কলেজে পাসের হার ১০ থেকে ৫০%-এর মধ্যে। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করেছে মাত্র ছয়টি কলেজ। এসব কলেজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিলেন সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৩৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছেন।

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ৪৪ জন, কোয়ান্টাম কসমো কলেজের ৬০ এবং কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৭ জন পরীক্ষার্থীও শতভাগ পাস করেছেন। এছাড়া রামুর রায়ু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয় এবং লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয়জন পরীক্ষার্থী সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

জিপিএ ৫ ও পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫০ হাজার ১৬৬ জন। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৫৪ হাজার ৬৬৭ জন ছাত্রী এবং ৪১ হাজার ৬৬৮ জন ছাত্র। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৫৭% ছাত্রী। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বেশি।

হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার ৩২৪ ছাত্রী এবং ১৯ হাজার ৮৪২ জন ছাত্র পাস করেছে। এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে মোট জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২,৯২৯ জন। এর মধ্যে ১,৫৯৬ ছাত্রী এবং ১,৩৩৩ জন ছাত্র।

পাসের হার কমার কারণ

ফলাফল প্রসঙ্গে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা এবং অভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হয়েছে। এ কারণে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে থাকতে পারে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার প্রভাবও থাকতে পারে।

বোর্ড সচিব অধ্যাপক জহিরুল হক স্বপন জানান, ২০২০ সালে নতুন সিলেবাস ঘোষণার পর এবারই প্রথম শিক্ষার্থীরা পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছে। জিপিএ ৫ কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে গবেষণা করা প্রয়োজন। বোর্ড এ বিষয়ে অনুসন্ধান করবে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক গোলাম মহিউদ্দিন জানান, ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগটা সম্প্রতি কমেছে। তারা একটি বিষয়ে সময় নিয়ে চিন্তা না করার কারণে তাদের সৃজনশীলতা হ্রাস পেয়েছে। আধুনিক ডিভাইসগুলোর ভালো দিকটার দিকে শিক্ষার্থীদের বেশি সময় দিতে হবে।

এছাড়াও অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে এ সংকট থেকে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে জানান এই শিক্ষাবিদ।

এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাস

বদলি-পদোন্নতিতে মন্ত্রী-এমপিদের তদবির, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

মাঠে পুরোদমে সক্রিয় আওয়ামী সফট পাওয়ার

রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে বিদেশি শ্রমিক

‘বন্ধু’ দীপের বক্তব্যে তদন্তে নতুন মোড়

মসলা উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগেও কমছে না আমদানিনির্ভরতা

সাত দফা আদায়ে চাপ বাড়াতে চায় জামায়াত জোট

এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি

আলোচিত তাহসিফের লাশ মিলল তুরাগে

জাহাজভাড়া বাড়ল ৭০০ টাকা, দিতে হবে ‘পরিবেশ ফি’