বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বাকি আর ৩৬ দিন। এবারের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্যসহ ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সামনে অন্তত চারটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
এগুলো হলো-কিছু আসনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব সৃষ্টি, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সহিংসতা এবং কিছু আসনে বড় দলগুলোর বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনের একাধিক প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।
একাধিক সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নির্বাচন ভণ্ডুল করতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪০ আসনে ব্যাপক সন্ত্রাস চালাতে পারে। সাত জেলাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৫ জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বিরোধ নির্বাচনের দিন সংঘাতে রূপ নিতে পারেÑএমন আশঙ্কা রয়েছে ৬০টির বেশি আসনে।
প্রতিবেদনগুলোতে সংসদ নির্বাচনের সময় বিশেষ করে ভোট গ্রহণের দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটে ব্যাপক আকারের গুজব ছড়ানোর আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এসব প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের কার্যপত্রের বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রতিবেদনের আলোকে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র থাকবে। এর মধ্যে আড়াই হাজার ভোটকেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ ও আট হাজারের মতো ভোটকেন্দ্রে ঝামেলা হতে পারেÑএমন আশঙ্কা রয়েছে। সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে কেন্দ্রভিত্তিক বেশকিছু উদ্যোগের কথাও জানান এই কর্মকর্তা। অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি সিসিটিভির আওতায় থাকবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
নির্বাচনে গণভোটের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে বের হবেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমেও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আমার দেশকে বলেছেন, দেশের যেখানেই নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করা হবে, সেখানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হবে। নির্বাচনের প্রচার থেকে শুরু করে ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় থাকবে। দুষ্টদের কোনোভাবেই আমরা সফল হতে দেব না। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারবেন।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। সরকার যথাসময়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ অটল রয়েছে।
সাত জেলায় সংগঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সাত জেলায় নির্বাচন প্রতিহতের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেÑএমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর মধ্যে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গাজীপুর, নড়াইল ও বাগেরহাটকে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিয়েছি। এছাড়া আরো ১৫ জেলায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতারাও পালিয়ে কিংবা আত্মগোপনে চলে গেছেন। সেখান থেকেই তারা চোরাগোপ্তাভাবে কর্মসূচির নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
মাঠ প্রশাসনের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা সারা দেশ থেকে আসন ও কেন্দ্রভিত্তিক একাধিক প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছি। এতে দক্ষিণাঞ্চল, ময়মনসিংহ বিভাগ, রংপুর বিভাগ ও ঢাকা বিভাগের ৪০ আসনকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। আড়াই হাজারের বেশি কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনার কথাও জানান ওই কর্মকর্তা। এছাড়াও ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিসিটিভি রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমেও নজরদারি করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য আলাদা করে বডিক্যাম কেনা না হলেও বাহিনীগুলোর কাছে বর্তমানে যেসব বডিক্যাম রয়েছে, সেগুলো নির্বাচনের সময় ব্যবহার করা হবে।
রাজনৈতিক বিরোধ নির্বাচনের পরিবেশে প্রভাব ফেলবে
জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও দ্বন্দ্ব নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে উঠে এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো। এ বিষয়ে মাঠ প্রশাসন থেকে যে প্রতিবেদন এসেছে, সেখানেও রাজনৈতিক সংহতির কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির এ সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবও একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটা রোধে মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা খুবই সীমিত। রাজনৈতিক দলগুলোই এটা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাকেই বড় করে দেখছে।
মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাত লাখ সদস্য
সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে ভোট গ্রহণের চারদিন আগে থেকে দুদিন পর পর্যন্ত, অর্থাৎ ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাত লাখের বেশি সদস্য মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ। ৩০০ আসনে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে দুই লাখ ৬০ হাজারের মতো ভোটকক্ষ থাকবে। গোপন বুথ থাকবে প্রায় চার লাখ। উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ সদস্য রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মাঠে থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর ৯০ হাজারের বেশি সদস্য। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন সাড়ে পাঁচ লাখের মতো আনসার-ভিডিপি সদস্য। গ্রামপুলিশ বা দফাদাররা প্রতিটি কেন্দ্রে সাতদিনের জন্য এবং প্রান্তিক ভিডিপি সদস্যরা প্রশিক্ষণসহ মোট আটদিনের জন্য নিয়োজিত থাকবেন। স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাত লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
ওই কর্মকর্তা জানান, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবি ও র্যাব মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে; প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করতে পারবে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে চারজন পুলিশ সদস্য অস্ত্রসহ নিয়োজিত থাকবেন।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা
দেশের সব ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এবার নির্বাচনের আগের চারদিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দুদিন মোট ৭ দিন প্রতিটি কেন্দ্র পাহারার ব্যবস্থা করেছে সরকার। এছাড়াও ভোট গ্রহণের দিন এবং তার আগে ও পরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। এ ছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচল এবং ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব লাইসেন্সধারী ব্যক্তির অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনও নিষিদ্ধ থাকবে বলেও জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারকে সহযোগিতা করবে বিএনপি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান আমার দেশকে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ হচ্ছে পূর্বশর্ত। শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পরই আমরা এ ধরনের একটি পরিবেশ তৈরির বিষয়ে জোর দিয়েছি। এখন দেশে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। এটা ধরে রাখার দায়িত্ব সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোরও।
তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরে প্রথম যে কথাটি বলেছেন, সেটা হচ্ছে শান্তি ও সৌহার্দ্য। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সরকারও বেশ আন্তরিক বলেই আমরা মনে করি। সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি হলে সেটা অতিক্রম করার জন্যও আমরা সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বিএনপি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। আমার দেশকে তিনি বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীর প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। নির্বাচনকে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর করার বিষয়ে আমাদের দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে আমরা একগুচ্ছ প্রস্তাব ও সুপারিশ দিয়েছি।
তিনি বলেন, ভোটাধিকার হরণ ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখার কারণে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিদায় নিয়েছে তা থেকে আমাদের সবারই শিক্ষা নিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে কাউকে এমন অপদস্ত অবস্থায় বিদায় নিতে না হয়, সে জন্য আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই বেশ সতর্কতার সঙ্গে নিতে হচ্ছে এবং আমরা সেটা নিচ্ছিও। আমরা বিশ্বাস করি একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সব রাজনৈতিক দলের ঐকান্তিক ইচ্ছা রয়েছে। নির্বাচনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব রোধ করার পরামর্শ দিয়ে বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, গুজবের ওপর ভিত্তি করে অনেক অপ্রীতিকরণ ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড যাতে নির্বাচনে রোধ করা যায়, সেজন্য আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমাদের মিডিয়া সেল কাজ করছে। তাদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সেটার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রশাসনের পক্ষপাতহীন আচরণ দাবি জামায়াতের
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা গুজব ছড়ানোর যে শঙ্কা বা চ্যালেঞ্জের কথা বলা হচ্ছে এ বিষয়ে সরকারকেই খোঁজ নেওয়া উচিত। কারণ সরকারের কোনো কোনো এজেন্সি বা গোয়েন্দা সংস্থা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে অনেকে তা মনে করেন। অনেক সময় বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে ছবি বা ফটোকার্ড যেভাবে ছড়ানো হয়, তা দক্ষ কোনো সংস্থা ছাড়া সম্ভব নয়। কোনো দল বা ব্যক্তিকে ক্ষমতায় রাখাই যেন কোনো কোনো এজেন্সির এজেন্ডা হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন হচ্ছি যে, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও সরকার তা পারছে না। কাউকে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে রাত-দিন যেভাবে ব্যাপক সিকিউরিটি দিচ্ছে-তা নিয়ে মানুষের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাছাড়া একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান যেভাবে দীর্ঘদিনের রেওয়াজ বা প্রটোকল ভেঙে বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, এতে সরকারের নির্লিপ্ততা নাকি ইন্ধন আছে? এ ধরনের বৈঠকের কোনো নজির নেই। তাই আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নানা গুজব ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতের শঙ্কার যৌক্তিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছি।
ফ্যাসিবাদের দোসরদের দূরে রাখার দাবি এনসিপির
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক লিয়াজোঁ কমিটি আরিফুল ইসলাম আদীব বলেছেন, সরকারের ভেতরে আওয়ামী লীগের দোসররা জেঁকে বসে আছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও বিতর্কিত করতে তারা বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। তারা এখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অপচেষ্টা বাস্তবায়নের কাজ করতে পারে। সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা। এটা সরকারের সামনে এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই প্রশাসনের ভেতরে একটি আওয়াজ উঠেছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসছে। এর ভিত্তিতে প্রশাসনের একটা অংশ মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আমলাতন্ত্রের রীতিনীতি ভুলে গিয়ে বৃহত্তর ওই রাজনৈতিক দলটির পক্ষে কাজ করছে। এতে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের জন্য বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আগামী নির্বাচনের প্রার্থী আদিব। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। মূল প্রার্থীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংঘাত হচ্ছে অনেক জায়গায়। এগুলোও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে।
তিনি বলেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য সবাই উন্মুখ হয়ে আছেন। ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাতায়াতের পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোরও রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল একমত। এখন সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরো সক্রিয় হতে হবে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার আমার দেশকে বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই এক দলকে তারা ক্ষমতায় বসিয়ে দিচ্ছে এমন অবস্থা। এলাকাগুলো শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রে সয়লাব। ভোটারদের বিশেষ মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। প্রতিপক্ষ দলের নেতাকর্মীদের হুমকিও নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সব মিলিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছু নেই। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং সুষ্ঠু ভোটের অনুকূল নির্ভীক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।