প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে গত বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৫২ মিনিটে রহস্যজনক আগুন লাগে। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ৭ নম্বর ভবনের তিনটি ফ্লোর। এতে পুড়ে গেছে তিন মন্ত্রণালয়ের নথি। এ আগুনের ঘটনা নাশকতার আশঙ্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে আগুনের ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এদিকে সেনাবাহিনী ব্রিফিং করে জানিয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আগুনের খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দমকল বাহিনীর ১৯টি ইউনিটের ছয় ঘণ্টা ১৩ মিনিটের চেষ্টায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এ বাহিনীর সদস্যরা জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে তাদের পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়ে সড়ক পার হতে গিয়ে ট্রাকচাপায় অগ্নিনির্বাপক দলের একজন কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
ভয়াবহ আগুনের ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টারাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সচিবালয়ে আগুনের এ ঘটনার বিষয়ে কথা হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্যের সঙ্গে। তাদের মতে, এ আগুন নাশকতামূলক হতে পারে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, ষড়যন্ত্র থেমে নেই। আমাদের ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে যারাই জড়িত থাকবে, তাদের বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘এ ঘটনা নাশকতা কি না, তদন্তের পর বলা যাবে।’
যেভাবে আগুনের সূত্রপাত:
আবদুল গণি রোডের উত্তরপাশে সচিবালয়ের ১ ও ২ নম্বর ফটক গলিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথম দালালনটি ৭ নম্বর ভবন হিসেবে পরিচিত। এ ভবনেই দুই ছাত্র উপদেষ্টা- নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার মন্ত্রণালয়ের দপ্তর। তাদের দপ্তরও আগুনে পুড়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত কয়টার সময় আগুন লেগেছে, তা এখনো স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারছে না। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমরা রাত ১টা ৫২ মিনিটে সচিবালয়ে আগুন লাগার সংবাদ পাই। দুই মিনিটের মাথায় ১টা ৫৪ মিনিটে আমরা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে পেরেছি। তবে সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ সদস্য আমার দেশকে বলেছেন, ‘রাত পৌনে ২টার দিকে আমরা সংকেত পেয়ে দেখতে পাই ৭ নম্বর ভবনের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের ছয়তলা থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। সচিবালয়ের ভেতরে আগুন নেভানোর যে ব্যবস্থা রয়েছে প্রথমে তা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। আগুন বাড়তে থাকলে কিছুক্ষণ পরই ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে- সে বিষয়ে আগুন নেভানোর দায়িত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব হবে না। আমাদের টেকনিক্যাল টিম রয়েছে, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং গণপূর্ত ও শিল্প উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান।
আগুনের সূত্রপাত বিষয়ে জানতে চাইলে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তাদের এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
আগুনে পুড়ে গেছে তিন মন্ত্রণালয়ের নথি:
সচিবালয়ের ৯ তলাবিশিষ্ট ৭ নম্বর ভবনের নিচতলায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি অফিস। ২য় তলা থেকে ৯ম তলা পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি শাখা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; ডাক তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবদের দপ্তর। এ ভবনের মাঝখানে দুটি লিফট আর পূর্ব ও পশ্চিম পাশে একটি করে লিফট এবং পাশাপাশি তিনটি সিঁড়ি রয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর এ ভবনটি পরিদর্শন করেছেন এমন তিনজন সরকারি কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, তিনটি সিঁড়ি ধরে ৭ম তলায় ওঠার পর আমরা আগুনে পোড়ার চিহ্ন পেয়েছি। ৭ম তলার পুরো করিডোর পোড়া যায়নি। সিঁড়ি ও লিফটের আশপাশের কক্ষগুলোই পুড়ে গেছে। তারা জানান, ৭ম তলার পূর্বপাশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তর। ৮ম তলার পূর্বপাশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আর পশ্চিম পাশে ডাক তার ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টার দপ্তর। ভবনটির ৯ম তলার পূর্বপাশে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দপ্তর। এ তলার পশ্চিম পাশে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তর। আগুনে এ ওপরের তিনটি তলা পুড়ে গেছে। এখানে থাকা তিনটি মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ নথিও পুড়ে গেছে বলে জানান তারা।
তিনটি তলা ঘুরে দেখেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি, অধিকাংশ কক্ষই পুড়ে গেছে। আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে, তিনটি মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ নথি হয়তো পুড়ে গেছে। কারণ প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে এ তিনটি তলা পুড়েছে। ফায়ার সার্ভিস নিচতলা থেকে পানি ছিটিয়ে ওপরের দিকে গিয়েছে।
আগুনের ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি:
সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে সংঘটিত আগুনের ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ কমিটি করা হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন- মোহাম্মদ খালেদ রহীম (অতিরিক্ত সচিব) আহ্বায়ক; সদস্যরা হলেন- জননিরাপত্তা বিভাগের প্রতিনিধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি।
এসব সদস্য কমপক্ষে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার হবেন। প্রয়োজনে কমিটিতে এক বা একাধিক সদস্য কো-অপ্ট করা যাবে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আগুনের সূত্রপাতের মূল কারণ উদ্ঘাটন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা, যা বলছেন কর্মকর্তারা:
সচিবালয়ে বর্তমানে ৫৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন বলে একটি পরিসংখ্যানে জানা গেছে। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সচিবালয়ের প্রবেশমুখগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসে ভিড় জমাতে থাকেন। সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের পূর্বদিকের ফটক দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুরোধ করে। এর পরই তারা সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। আগুনের ঘটনাটি ছিল সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর একমাত্র আলোচ্য বিষয়। দিনভর তাদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়।
সেতু মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, ঘটনা যেভাবে ঘটেছে, তাতে এটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, এটি একটি নাশকতা।
সচিবালয়ের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাদের একজন আমার দেশকে বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝতে পারছি, এটি একটি নাশকতামূলক কাজ হতে পারে। বিদ্যুতের শর্টসার্কিটজনিত দুর্ঘটনা হলে একই সময়ে একটি ভবনের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে আগুন লাগত না। আগুনের সূত্রপাত একটি স্থান থেকে হলে এটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যেত। এখন আমাদের নাশকতার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনোভাবেই নাশকতার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও কারিগরি টিম এ বিষয়ে তদন্ত করবে। তারাই চূড়ান্ত অভিমত দেবে বলে জানান তিনি।
ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার:
প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে আগুন লাগার ঘটনায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আমাদের ব্যর্থ করার জন্য এই ষড়যন্ত্রে যে বা যারাই জড়িত থাকবে, তাদের বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।’
বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিজস্ব আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বিগত সময়ে হওয়া অর্থ লোপাট, দুর্নীতি নিয়ে আমরা কাজ করছিলাম। কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটপাটের প্রমাণও পাওয়া গিয়েছিল। আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এখনো জানা যায়নি। আমাদের ব্যর্থ করার এ ষড়যন্ত্রে যে বা যারাই জড়িত থাকবে, তাদের বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।’
সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে গতকাল মধ্যরাতে আগুন লাগে। এ ভবনে ছয়টি মন্ত্রণালয় ও একাধিক বিভাগের অফিস রয়েছে। সেগুলো হলো— যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
আগুন নেভাতে সময় লাগায় প্রশ্ন:
সচিবালয় জনপ্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র। দেশের সকল প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এটি দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই হিসেবে চিহ্নিত। সকল দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে সমাধানে সব ধরনের আগাম ব্যবস্থা রয়েছে এ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে। তাছাড়া পুরো সচিবালয়ের চারপাশে প্রশস্ত সড়ক। প্রতি বছর একাধিকার সচিবালয়ে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়।
সচিবালয়ে ১৯ তলাবিশিষ্ট ভবনও রয়েছে। এ ভবনে আগুন লাগলেও নির্বাপণের ব্যবস্থা রয়েছে সরকারের। এত কিছু থাকার পরও গতকাল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এত বেশি সময় লাগল কেন? এমন প্রশ্ন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
এ বিষয়টি নিয়ে আমার দেশ কথা বলে ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে। আমার দেশকে তিনি বলেন, আগুন লাগার সংবাদ পাওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে আমরা অপারেশন শুরু করতে পেরেছি। এতে আমরা ১৯টি ইউনিট কাজে লাগিয়েছি। পানি আনতে হয়েছে আশপাশের এলাকা থেকে। হোসপাইপ নিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে আমাদের একজন কর্মী ট্রাকের চাপায় নিহত হয়েছেন। এত গভীর রাতেও আমরা সড়কটি একেবারে ফ্রি পাইনি।
সচিবালয়ে লেডারনবহনকারী গাড়ি প্রবেশেও সমস্যা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সচিবালয়ের আগের ফটকগুলোর ওপরের দিক ছিল খোলা। নতুন করে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে ফটক তৈরি করায় গেটগুলোর ওপরে কংক্রিটের ছাদ করা হয়েছে। ফলে আমাদের বড় গাড়ি ভেতরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমাদের অনেক বাধা পেতে হয়েছে গাড়ি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে।