হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

স্টেডিয়াম, বিপিএল, টিকিট পাপনের ‘৪০০ কোটির খেলা’

আল-আমিন

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি থাকাবস্থায় নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ, বিপিএল আয়োজন, মিডিয়া স্বত্ব বিক্রি, টিকিট বিক্রির টেন্ডার, মুজিববর্ষ আয়োজন, বিদেশ সফর ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের খরচের হিসাবে বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য মিলেছে। এসব খাত থেকে পাপন ও তার লোকজন সুকৌশলে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর পাপন ও তার পরিবারের নামে ৯টি মামলা করে দুদক।

২০২৫ সালের ৫ মে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তার ব্যাংক হিসাবে ৭৪৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় সংস্থাটি। এ ছাড়া পাপন ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১১টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৪৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ৫ জুলাই বিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাপনের দুর্নীতির অনুসন্ধানে আরো নথি চেয়েছে দুদক। এর আগে গত বছর বিসিবিতে অভিযান চালিয়ে ২৩ ধরনের নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ নথি ইতোমধ্যে হাতে এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়ম

পূর্বাচলে বিসিবির স্টেডিয়াম নির্মাণের পরামর্শক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ার নথি তলব করেছে দুদক। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন, ইওআই ডকুমেন্ট, অনুমোদনের চিঠি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব, যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা, এলওআই, কার্যাদেশ, গোপনীয় আনুমানিক ব্যয় ও চুক্তির কপি রয়েছে। এছাড়া ঠিকাদার নিয়োগের পদ্ধতি, দরপত্র, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কার্যাদেশ, চুক্তি, ভূমি উন্নয়ন কাজের বিল, ডিপিপি, প্রকল্প অনুমোদন, বিদেশ থেকে আমদানি করা মালপত্র এবং জমি কেনা বা অধিগ্রহণের রেকর্ডও চাওয়া হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগ এসেছে, স্টেডিয়াম নির্মাণের দরপত্রে কম দর দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দিয়ে বেশি দর দেওয়া পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বিসিবির কর্মকর্তাদের যোগসাজশ পেয়েছে দুদক। প্রয়োজনে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পাপনের বিরুদ্ধে বল কেনার জন্য টেন্ডার আহ্বান করে বাস্তবে বল না কিনেই অর্থ ব্যয় দেখানোর অভিযোগও এসেছে। পাশাপাশি বিসিবির টেন্ডার ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিপিএল, মিডিয়া স্বত্বেও গরমিল

বিসিবির মিডিয়া স্বত্ব বিক্রি, টিকিটিং ও বিভিন্ন ক্রয়-প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুজিববর্ষ উদযাপন, এ আর রহমানের কনসার্ট, ২০১৯ সালের বঙ্গবন্ধু বিপিএল এবং মুজিব শতবর্ষে বিপিএল আয়োজনের আয়-ব্যয়ের রেকর্ডেও গরমিলের অভিযোগ রয়েছে। বিপিএলের তৃতীয় থেকে একাদশ আসর পর্যন্ত টিকিট বিক্রির টেন্ডার, দরপত্র, সেলিং এজেন্সির তালিকা, ভাউচার ও আর্থিক হিসাবও মিলিয়ে দেখছে দুদক।

পাপনের দায়িত্বকালে বিসিবির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিদেশ সফর এবং ক্রিকেট ম্যাচে হেলিকপ্টার ব্যবহারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও অনুসন্ধানে রয়েছে।

দুদক ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা, খাতভিত্তিক ব্যয় ও অডিট রিপোর্টের সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করেছে। আইসিসি ও এসিসির লভ্যাংশ বণ্টন, লজিস্টিকস ও প্রটোকল ব্যয় এবং বিদেশি কোচ নিয়োগ ও বেতন-ভাতার নথিও যাচাই করা হচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানের পর লন্ডনে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর পাপন আত্মগোপনে চলে যান। পরে তাকে লন্ডনে দেখা যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

পাপন কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী। তিনি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিসিবি ছিল পাপনের একক নিয়ন্ত্রণে

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিসিবির সভাপতি হওয়ার পর বোর্ডের ওপর পাপনের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরিচালকদের অনেক ক্ষেত্রেই তিনি গুরুত্ব দিতেন না। তার পছন্দের খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তার ঘনিষ্ঠ না হওয়ায় প্রতিভাবান অনেক ক্রিকেটার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। ক্রিকেটারদের বেতন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও তার সময়ে বোর্ডে বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এসব অভিযোগেরও সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

অভিযোগ ও দুদকের বক্তব্য

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর পাপনের নামে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। সেগুলো পর্যালোচনা শুরু করে দুদক। তাদের একাধিক টিম মাঠপর্যায়ে তদন্ত করতে নামে। এতে পাপনের দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্প অনুমোদন, আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন চুক্তিতে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, পাপনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় রয়েছে। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত পাপনের জামাতা ও অন্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদক জানায়, অভিযোগের পরিধি বড় হওয়ায় এবং বিপুল তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকায় অনুসন্ধানে সময় লাগছে। আরো নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাপন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কাছে যেসব নথি ও রেকর্ড চাওয়া হয়েছিল সেগুলোর অধিকাংশই হাতে এসেছে। সব তথ্য পর্যালোচনা ও পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান বলেন, পাপনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলছে।

ইরানে সরকারপন্থি সমাবেশে গাড়ির ধাক্কায় নিহত ৪

সুনামগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক সালেহ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে শ্রদ্ধা

মতবিরোধের মধ্যেই জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক শেষ

কুকুর বাঁচাতে গিয়ে অটোরিকশা উল্টে নিহত যাত্রী, আহত ২

নেপালের বন্যার পানিতে ভেসে আসা মাছ খেয়ে অসুস্থ অনেকে

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনেই ১৮ হাজার আবেদন

স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বিশকেক ঘোষণায় সই করলেন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নেতারা

কুয়েতে হামলায় মার্কিন সেনা নিহত ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

অনুশোচনা না করা পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চলবে: ইরান