হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

খবর নেই বিনিয়োগে

কাওসার আলম

দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের উল্লেখযোগ্য খবর নেই। নতুন শিল্প স্থাপন, বিদ্যমান কারখানার সম্প্রসারণ কিংবা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ—কোনো ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ব্যাংকে আমানত বেড়েছে, কিন্তু বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের নিচে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ধস নেমেছে, কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচিতেও ব্যয় হচ্ছে ধীরগতিতে। বিদেশি বিনিয়োগের সর্বশেষ হিসাবেও এক প্রান্তিকের ব্যবধানে পতন দেখা গেছে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, জ্বালানির ব্যয়, উচ্চ ঋণসুদ, মূল্যস্ফীতি এবং ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে বিনিয়োগে গতি ফেরার লক্ষণ নেই। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে বিনিয়োগ বাড়বে—অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যবসায়ী মহলে এমন প্রত্যাশা থাকলেও নতুন সরকার গঠনের আট মাস পরও তার কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আমার দেশকে বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। এর প্রধান নির্দেশকগুলো ছিল—বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব আয় তলানিতে নেমে যাওয়া এবং ব্যাংক খাতের তীব্র তারল্য সংকট। এসব সংকট উত্তরণে অভ্যন্তরীণভাবে প্রণীত ও স্বউদ্যোগী সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, বন্ধ কারখানা চালু ও বেসরকারি ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও পুঁজিবাজারে গতি ফিরবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪.৭৫ শতাংশে। টানা ছয় মাস ধরে এ প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের নিচে। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সবশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, আগস্টে ব্যাংকে আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আমানত বেড়েছে ১২ শতাংশ। জুলাইয়ে আমানতের পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা। আমানত বাড়ার কারণে সুদের হারেও নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গড় ঋণসুদ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১২.১৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে ১১.৮৬ শতাংশে নেমেছে। জুলাইয়ে তা আরো কমে ১১.৮১ শতাংশ হয়েছে। ঋণসুদ কিছুটা কমলেও বেসরকারি ঋণপ্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগে গতি ফেরেনি। বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট হওয়া উচিত বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

শিল্পে নতুন বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সূচক মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ছিল ৩০৭ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই মাসে তা ছিল ৪৫৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। মূলধনি যন্ত্রপাতির পাশাপাশি অন্যান্য মূলধনি পণ্যের আমদানিও কমেছে।

তথ্যানুযায়ী, গত জুনে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি ১০.৬৩ টাকা করা হয়। সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়। এ কারণে মূল্যস্ফীতিতেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশে দাঁড়ায়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ে আর উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারের চাহিদা সংকুচিত করে। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ে, অন্যদিকে পণ্য বিক্রির অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে মুনাফার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় উদ্যোক্তারা নতুন কারখানা স্থাপন এবং উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) আমার দেশকে বলেন, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন পরিবেশ, নিরাপত্তা ও মুনাফার নিশ্চয়তা। কিন্তু বর্তমানে এর কোনোটিই নেই। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। পুলিশকে একা মুভ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ পুলিশের মধ্যে এখন নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তাহলে সাধারণ জনগণের কী অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে পাগলও বিনিয়োগ করবে না।

বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল হলে সরকারি উন্নয়ন ব্যয় অর্থনীতিতে চাহিদা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ১.৮৫ শতাংশ। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে ব্যয় হয়েছে ৫,৭০৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ২.৩৯ শতাংশ। এ বছর তার চেয়েও কমে গেছে। এডিপি বাস্তবায়নের এ হার বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বিদেশি বিনিয়োগের সর্বশেষ প্রান্তিকভিত্তিক হিসাবেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এর পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে নিট এফডিআই কমেছে ২২.৪৫ শতাংশ। তবে আগের বছরের একই প্রান্তিকে নিট এফডিআই ছিল প্রায় ৩০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরে নিট এফডিআই বেড়েছে ১২.৮ শতাংশ। তবে নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ কমেছে ৪.৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি এসেছে মূলত বিদ্যমান বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ থেকে।

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) প্রেসিডেন্ট রুপালী হক চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন। বাজারে চাহিদা কমে আসছে। বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো প্রধানত একটি পণ্য—তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে শুল্ক নিয়ে বিরোধ ও বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে চীন থেকে বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্থর প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোও বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকঋণের চড়া সুদহার এবং জ্বালানি সংকট উদ্যোক্তাদের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষ করে শিল্পকারখানার প্রয়োজন অনুযায়ী, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে গত জুলাইয়ে ফিকি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া, বন্দরে বিলম্ব, গ্যাস সংকট ও দুর্বল ব্যাংকব্যবস্থাকে বিনিয়োগের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে। এতে বলা হয়, মৌলিক ব্যবসায়িক অনুমোদন পেতেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। বিভিন্ন সেবা পেতে ২৩টি সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনও বিনিয়োগকারীদের জন্য জটিলতা তৈরি করে।

অন্যদিকে ব্যাংক খাতের দুর্বলতাও দেশীয় বিনিয়োগে চাপ তৈরি করছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের অনুপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩.২ শতাংশ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের বিপুল ঋণ খেলাপি হয়ে পড়লে নতুন উদ্যোক্তাকে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ও আগ্রহ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ভালো প্রকল্পের অর্থায়নও কঠিন হয়ে ওঠে এবং ঋণঝুঁকির খরচ বাড়ে।

বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্প পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে। কিন্তু চার মাস পরও এ কর্মসূচির আওতায় ঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫০ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার ঋণ আবেদন পেয়েছে। কর্মসূচির অর্থায়ন সহজলভ্য হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংককে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাই ও ঋণঝুঁকির দায় বহন করতে হয়। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা দুর্বল, তাদের পুনরুজ্জীবনের জন্য ঋণ অনুমোদনে ব্যাংকগুলো সতর্ক থাকছে।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ হতে পারে। সংস্থাটি বিনিয়োগ কার্যক্রমের শ্লথগতি, রপ্তানির গতি হারানো, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি খাতের সংকট এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতাকে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে শুধু নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা যথেষ্ট নয়; বিনিয়োগের পথে বিদ্যমান বাধাগুলোও দূর করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও দৃশ্যমান উন্নতি প্রয়োজন। দেশীয় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে না ফিরলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আস্থা ফিরে পাবেন না। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে অবকাঠামো ও

সেবার মান বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন ড. জাহিদ।

পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ আমার দেশকে বলেন, বিগত সময়ে গৃহীত ভুল নীতির কারণে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে, যা এখন সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারনির্ভর বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগে গতি ফিরিয়ে আনতে হলে দ্রুত জ্বালানি সংকটের সমাধান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশের সমন্বিত সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমরা এখনো বর্তমান সময়ের উপযোগী, উদ্ভাবনী ও দূরদর্শী কৌশল নিতে পারিনি। আমরা মূলত সস্তা শ্রম ও বিভিন্ন প্রণোদনার গতানুগতিকভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছি। অথচ আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশের মানোন্নয়নের মাধ্যমে সফলভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রাকৃতিক ও কৌশলগত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও উন্নয়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং সবুজ অর্থায়নের মতো বর্তমান সময়ের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সম্ভাবনাময় বিষয়গুলোকে বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আমরা এখনো পিছিয়ে রয়েছি।

তিনি আরো বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য জিও পলিটিক্সের মাধ্যমে যে সম্ভাবনার দ্বারগুলো উন্মোচিত হয়, সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে এশিয়ার অনেক দেশ বিদেশি বিনিয়োগে ভালো করেছে। কিন্তু আমাদের বিনিয়োগ আকর্ষণ কৌশলে আমরা এখনো ভূরাজনীতির তেমন সদ্ব্যবহার করতে পারিনি, শুধু গতানুগতিক ধারা অনুসরণ করে আসছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগে গতি ফেরানোর জন্য ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ও সুশাসনের সমস্যা মোকাবিলা করে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ঋণের ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবসা পরিচালনার অনিশ্চয়তা কমাতে হবে।

অনুমোদিত প্রকল্পের অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সেবা সময়মতো নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তব উৎপাদনে রূপ নিতে পারে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক সেবার পূর্বানুমান যোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বছরের শুরুতে পাঠ্যবই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-সহকারীরা কী করছেন

নার্সিং প্রতিষ্ঠান বাড়লেও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন

দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যতিব্যস্ত বিএনপি

এলপিজির সংকট বাড়ছেই, মাঠের চিত্র পায়নি সরকার

আইনের ফাঁক ও তদবিরে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা

বিচারিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিচারক পদে পদোন্নতি

বিদেশি বীজনির্ভরতা কাটাতে কৃষিতে নতুন পরিকল্পনা

ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে নানামুখী চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, হুমকি বিনিয়োগ বন্ধের