হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক দেশ গড়তে চায় জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টার

প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সবাইকে নিয়ে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফের ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে আয়োজিত আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশের সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে জনপ্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে তৈরি করা ইশতেহারে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ৪১টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে।

একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে ইশতেহারে ১০টি মৌলিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে পাঁচটি ‘হ্যাঁ’ এবং পাঁচটি ‘না’ রয়েছে। হ্যাঁ-এর মধ্যে রয়েছেÑসততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান। না-এর মধ্যে আছেÑদুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি। ৮৬ পৃষ্ঠার ইশতেহারে ৪১ দফা প্রতিশ্রুতির মধ্যে উঠে এসেছে দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও বেকারত্বমুক্ত একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও দলের সিনিয়র নেতা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক, শিক্ষক, নারী ও ব্যবসায়ী নেতাসহ বিভিন্ন পেশার নেতৃস্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত আমির বলেন, এ ইশতেহারে যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, শিশুর নিরাপদ আবাসস্থল, সুস্থ জাতি গঠনে যা যা দরকার, তার সব আছে। আমরা কোনো দলীয় সরকার চাই না। আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।

তিনি বলেন, জনগণের বিভক্তি নয়, ঐক্য ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। ইশতেহারের বিষয়ে কোনো পরামর্শ বা পর্যবেক্ষণ থাকলে তা দিয়ে সাহায্য করার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, আমি শিখতে চাই। আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। আমাদের স্লোগানÑচলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ।

এ সময় তিনি আরো বলেন, আমি একজন আহত সৈনিক। চতুর্দিক থেকে আমাকে মিসাইল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। কিন্তু আমি অ্যান্টি মিসাইল নিক্ষেপ করতে চাই না। যারা আমার চরিত্র হনন করছে, আমি তাদের সবাইক্ষে ক্ষমা করে দিলাম। কারণ, আমার চরিত্রের সঙ্গে প্রতিশোধ মানায় না। প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি দেশের অনেক ক্ষতি করেছে। আমরা যুবসমাজের হাত ধরে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

ইশতেহারে ২৬ অগ্রাধিকার

ইশতেহারে ২৬ বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন; বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন, যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের প্রাধান্য দেওয়া; নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ; সব পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন; প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ সৃষ্টি; প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ; ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ; সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা।

প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে, বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা; জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন; কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি; ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ (পরিবেশগত শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা) বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবুজ বাংলাদেশ গড়া; ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপক ভিত্তিতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি। আরো রয়েছে শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি; প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সব অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ; সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়; বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা; সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা; দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা; যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সঙ্গে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক-রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে জামায়াত।

দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা; নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা; ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা; সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সব নাগরিকের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

আট ভাগে ৪১ দফা প্রতিশ্রুতি

ইশতেহারে আট ভাগে ৪১ দফা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমভাগে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষায় একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। প্রথমভাগে শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, সুশাসন নিশ্চিতে জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিষদ এবং সারা দেশে উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া উন্নত আইনশৃঙ্খলা ও শান্তির জনপদ গড়তে স্বরাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলার মৌলিক উন্নয়ন; কল্যাণমুখী আইন প্রণয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইন ও বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তথ্য ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের নিশ্চয়তায় তথ্য ও গণমাধ্যমের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

জামায়াতের ভিশনে সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের অঙ্গীকারে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদের আলোকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসা হবে। একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে যেসব আইন ও নীতিমালায় বৈষম্য বিদ্যমান, সেগুলো দ্রুত সংস্কার বা বাতিল করা হবে। সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে সরকার পরিচালিত হবে। সব কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে। তরুণদের দেশ পরিচালনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জামায়াত সরকার গঠন করলে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শাসনক্ষমতাকে জনগণের পক্ষ থেকে একটি আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যা একজন নাগরিক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিদের ওপর অর্পণ করেন।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, ৬৪ জেলা শহর এবং ৫০০ উপজেলা ও ছোট শহরকে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। রাজধানী ঢাকাকে একটি স্মার্ট রাজধানী এবং কমার্শিয়াল সেন্টার, চট্টগ্রামকে যুগোপযোগী ও সুপরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহিতার পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকে একটি স্বাধীন জবাবদিহিমূলক কাউন্সিল গঠন করা হবে, যেখানে প্রতি মাসে সংশ্লিষ্টরা তাদের কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন ও সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেবেন। উন্নয়ন পরিকল্পনা হবে দেশব্যাপী, সবার অংশগ্রহণমূলক, টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং জনগণের মৌলিক প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্যভিত্তিক। নারীদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে মন্ত্রিসভায়।

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ভিশনে বলা হয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। যেকোনো স্তরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পদ্ধতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন; প্রশাসনের সব স্তরে সেবাসমূহ ডিজিটালাইজ করে সরাসরি যোগাযোগ ও তদবির বন্ধ করা; শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সংবলিত পাঠ্যক্রম যুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সৎ ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা; সরকারি দপ্তরের সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে, যাতে সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা; দুর্নীতির জন্য শাস্তি নিশ্চিতে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করা; দুর্নীতিবাজদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে; দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সিভিল সোসাইটিসমূহের ভূমিকা আরো সক্রিয় করতে আইনি ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করা; মন্ত্রী ও এমপিসহ সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণী জনসাধারণের সামনে পেশ করতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং দুর্নীতিরোধে সব পর্যায়ের কাঠামোগত পর্যালোচনা করে দুর্নীতি সুযোগগুলোকে প্রতিরোধ করা হবে। বড় বড় দুর্নীতির উৎসসমূহ পর্যালোচনা করে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ভাগে আত্মনির্ভরতার পথে নিজ পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে পররাষ্ট্রনীতি; প্রতিরক্ষানীতি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় ভাগে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাপকভিত্তিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর অর্থনীতি, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটশিল্প, শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে।

ইশতেহারে বেকারত্বের অবসান ও মেধা-যোগ্যতা সংস্থানের ভিশনে বলা হয়েছেÑজামায়াত ক্ষমতায় গেলে ১০ দফা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর মধ্যে রয়েছেÑ১. বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা বেকারত্ব দূর করে প্রত্যেক যুবকের জন্য সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রায় সাত কোটি কর্মক্ষম যুবকের জন্য দুই ভাগে কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। ২. ‘দক্ষতা’ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলাভিত্তিক হিউম্যান স্কিল ডেভেলপমেন্ট গঠন করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা হবে। এর জন্য সব খরচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় করা হবে। ৩. দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পলিসি প্রস্তুত করা হবে। বিদ্যমান শিল্পের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সিড ক্যাপিটাল ফান্ড গঠন, ইনোভেশন ইনকিউবেটর তৈরি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে সহায়তা, আউট সোর্সিং কাজের প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সারদের প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেট ও সহজে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে ডাবল ডিজিট বেকারত্বের হারকে সিঙ্গেল ডিজিটে রূপান্তর করা হবে।

কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, চাকরি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি জাতীয় ওয়ার্কফোর্স ডেটাবেস তৈরি, বিদেশে গমনেচ্ছু বেকার জনশক্তির জন্য নতুন বাজার অন্বেষণ, যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ, কম খরচে বিদেশ যাত্রার জন্য আন্তঃসরকার চুক্তি, বিদেশে যেতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বছরে ৫০ লাখ যুবকের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, নারীদের সম্মান রক্ষা করে নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। মাতৃত্বকালীন সময়ে মায়েদের সম্মতিসাপেক্ষে কর্মঘণ্টা ৫-এ নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।

সরকারি চাকরির আবেদনে ফি নেওয়ার রীতি বাতিল করা, চাকরির বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে নিয়োগ পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ বন্ধ করা, দ্রুত সময়ে নিয়োগ সম্পন্ন করতে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিশেষায়িত ক্যাডারগুলোর পরীক্ষা পৃথক প্রশ্নপত্রে নেওয়ার বাবস্থা করা এবং ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে অঙ্গীকার করা হয়েছে।

চতুর্থ ভাগে স্বনির্ভর কৃষি ও প্রকৃতির স্বাভাবিক বিকাশের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের অঙ্গীকার। এতে আগামীর কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে।

পঞ্চম ভাগে মানবসম্পদ ও জনজীবনের মৌলিক মানোন্নয়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, সংস্কৃতি, ধর্ম ও নৈতিকতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ষষ্ঠ ভাগে রয়েছে সমন্বিত অবকাঠামোগত উন্নয়নের অঙ্গীকার। এতে যোগাযোগ ও যাতায়াত, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত; ভূমি ব্যবস্থাপনার কথা রয়েছে।

সপ্তম ভাগে যুবকদের নেতৃত্বে প্রযুক্তি বিপ্লব ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এতে যুব ও ক্রীড়া, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ডাক ও টেলিযোগাযোগের কথা বলা হয়েছে।

অষ্টম ভাগে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকারে রয়েছেÑসমাজকল্যাণ, নিরাপদ নারী ও শিশু, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণের বিষয়।

ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ম্যানিফেস্টোতে বলা হয়েছেÑআইনের শাসন ও মানবিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে সমাজে বৈষম্য কমানো হবে। বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ তৈরির কথাও উল্লেখ রয়েছে।

সব মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত ম্যানিফেস্টোতে ‘হ্যাঁ’ বলা হয়েছে সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে; আর স্পষ্টভাবে ‘না’ জানানো হয়েছে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজির মতো রাষ্ট্র এবং সমাজবিরোধী অনুশীলনে।

নারীর মর্যাদা, সুরক্ষা ও শিশুকে অগ্রাধিকার দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ

ভিশনে নারীর ন্যায্য সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং শিশুর প্রতি বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বলা হয়েছে, জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠন করে সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ‘নারী চলবে নির্ভয়ে’Ñএ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস, গণপরিবহনে সিসিক্যামেরা স্থাপন, দোতলা বাসে আলাদা কম্পার্টমেন্ট চালু, ইমার্জেন্সি কল নম্বর চালু ও নারীর নিরাপত্তায় ইমার্জেন্সি পোল স্থাপন করা হবে।

‘আমার আয়ে সংসার’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করা হবে। এর জন্য হাঁস-মুরগির খামার, গবাদিপশু পালন, মাছ চাষ ইত্যাদি প্রকল্প তৈরিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। নারীবান্ধব নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট ও নামাজের স্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা

জীবনব্যাপী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সুযোগ চালু করে নারীদের কর্মজীবনে ফিরে আসার পথ তৈরি করা হবে। সরকারি-বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হবে। মানসিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও ক্যানসার সচেতনতায় প্রত্যেক জেলায় নারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

নারীর সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় ‘সম্পত্তি সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করা হবে। উত্তরাধিকার সম্পত্তির মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। নারীর প্রতি সহিংসতায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার চালু করা হবে।

হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন

প্রকৃত হিজড়া শনাক্ত করে পুনর্বাসন করা হবে এবং তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও চাকরির কোটা সংরক্ষণ করা হবে।

নারী, শিশু ও পরিবারের উন্নয়ন

পরিবার কাউন্সিলিং ও মোটিভেশন সেন্টার চালু করা, নিরাপদ বিদ্যালয় কর্মসূচি ও মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অনুদান ও সেবার পরিসর বাড়ানো হবে।

নারীর সম্পদের অধিকার নিশ্চিতে ধর্মীয় প্রচার বাড়ানো হবে। ভিকটিম নারীর সব প্রকার আইনি, মানসিক, পথিক সহায়তার জন্য প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে।

অভাবগ্রস্ত, সুবিধাবঞ্চিত সধবা ও বিধবা নারীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে এককালীন পুঁজি সরবরাহ করা ও তদারকি করা হবে। হাসপাতালে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে নারী ভিকটিম ও নারী আসামির জন্য নারী চিকিৎসকের ব্যবস্থ্য নিশ্চিত করা হবে।

দরিদ্র গর্ভবতী ও প্রসূতি নারী এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে। শিশু খাদ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর থাকবে না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিকিৎসা, শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত নারী উন্নয়নবিষয়ক সংস্কার কমিশন যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তা পর্যালোচনার জন্য একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে।

ইশতেহারের ভূমিকায় যা বলা হয়

তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে একটি নিরাপদ, মানবিক, ইনসাফভিত্তিক, সমৃদ্ধ, উন্নত ও শক্তিশালী বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করার এখনই সময়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ গবেষণা ও গভীর চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা প্রস্তুত করেছে।

এতে বলা হয়, এই ইশতেহার একটি পরিকল্পিত, দূরদর্শী ও বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি। এটি চটকদার, মন ভোলানো বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতির দলিল নয়; এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাস্তবায়নযোগ্য স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ওপর। এর ভিত্তি হিসেবে রয়েছে স্বচ্ছ, গতিশীল ও যোগ্য নেতৃত্ব, দক্ষ ও সৎ কর্মীবাহিনী, সুস্পষ্ট উন্নয়ন লক্ষ্য ও জনকল্যাণকেন্দ্রিক নীতি।

দেশের সব ধর্ম, অঞ্চল, নারী-পুরুষ ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একতা, মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়েই জামায়াতে ইসলামী জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে এক অনন্য নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের ইশতেহার।

স্বাগত বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি আজ বিশাল দায়িত্বের ভার নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। এই দায়িত্ব জামায়াতের পক্ষ থেকে নয়, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা তিলে তিলে স্বপ্ন দেখতেন সাম্য ও ন্যায়ের বাংলাদেশ পাবেন, উন্নত দেশের মতো শিশুর অধিকার পাওয়া যাবে, সব মানুষ তার অধিকার পাবেÑতাদের সেই সব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের জনগণের প্রত্যাশা খুবই সীমিত। কিন্তু গত ৫৪ বছরে সেই অধিকার ও মর্যাদার জায়গা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি কি নাÑসেটাই প্রশ্ন। আমাদের সম্পদেরও অভাব নেই, অভাব হলে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হতো না। আমাদের অভাব হচ্ছেÑসততা, দায়বদ্ধতা ও চরিত্রের। এখন দেশের চেয়ে ব্যক্তি ও দলকে বড় হিসেবে দেখা হয়। বিরাজমান বৈষম্য দূর করতেই চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্রসমাজ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছিল।

জামায়াত আমির বলেন, আজকের এই ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠান কোনো দলীয় নয়, বরং কীভাবে জাতি আগামী জীবনকে সাজাতে চায়, তার জ্বলন্ত দলিল। আমাদের পাঁচ বছর সময় দিলে ইনশাআল্লাহ তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, মানুষ তার অধিকার বুঝে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা কৃষকদের মধ্যে বিপ্লব আনতে চাই। বিশ্বের অন্য দেশ আগাতে পারলে আমরা কেন পারব না? জাতির ড্রাইভার ভালো হলে দেশ ভালোভাবে চলবে। আমাদের সমস্যা মাথাগুলো। এই মাথাগুলো ঠিক হতে সততা ও কমিটমেন্ট লাগে।

ঘোষিত ইশতেহার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই ইশতেহারে লাখ লাখ মানুষ মত দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। এই ইশতেহার জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, শান্তি ও শৃঙ্খলাবান্ধব। দেশের শিল্পগুলোকে শিশুর মতো লালন করা হবে। যুবকদের হাতে বেকার ভাতার পরিবর্তে কাজ তুলে দেওয়া হবে।

নারী শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা কমানোসহ নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মায়েরা সমাজ গড়বে, তাদের সুযোগ দিতে হবে। শিশু ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা সব জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ গড়ব। এছাড়া শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জীবনকে তুলে আনা হবে।

ইশতেহার প্রণয়নে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পেশার ২৫০-এর বেশি বিশেষজ্ঞের সমন্বয় তৈরি করা জনগণের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘জনতার ইশতেহার’ নামে একটি ওয়েবসাইটে সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হলে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় চল্লিশ হাজার মতামত দেন এবং তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। ওয়েবসাইটে দেওয়া মানুষের প্রত্যাশা ও মতামত ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে।

নবনির্বাচিত এমপিদের এবার শপথ পড়াবেন সিইসি

ভোটের প্রচারে ভারত নিয়ে নীরব বিএনপি-জামায়াত

সরকারি চাকরিজীবীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারের বাধা কাটতে যাচ্ছে

মাঠের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ভোটযুদ্ধ

ভোটে মুক্তিযুদ্ধ বনাম জুলাই বিপ্লব

রাজধানীতে ধর্মীয় উপাসনালয়ে গিয়ে শান্তি ও ঐক্যের প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের পৃষ্ঠপোষকতা

নির্বাচনের আগেই প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

মামুনের পক্ষে বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী

নতুন সরকারের শপথের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন