হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতুসহ হবে ৫০০ কিমি এক্সপ্রেসওয়ে

সড়ক ও যোগাযোগ উন্নয়নে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা

সোহেল রহমান

দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় গতি আনতে আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ও চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। একই সঙ্গে দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, অ্যাক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, গণপরিবহনের আধুনিকায়ন, বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু এবং রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রণীত সরকারের ‘ফাইভ-ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)’-এ সড়ক ও পরিবহন খাতের জন্য মোট ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে জাতীয় যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রাম থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও সীমান্ত এলাকায় দ্রুত পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলা, বন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সীমান্ত এলাকা এবং এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ককে চার লেনের মহাসড়কের মাধ্যমে যুক্ত করতে জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে করিডোর চিহ্নিত করে চাহিদাসম্পন্ন রুটগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাঁচ বছরের মধ্যে ৫০০ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ শেষ করে তা চালুর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মহাসড়ক ও বাজারের সঙ্গে দুর্বল যোগাযোগ থাকা গ্রামগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক উন্নয়ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে এসব পথ পাকা করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ককে অর্থনৈতিক করিডোরের সংযোগ সড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে অ্যাক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ এবং ওভারপাস-আন্ডারপাস নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে জাতীয় অ্যাক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ নীতি চালুর পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে নিয়ন্ত্রণ স্টেশন স্থাপন করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে দেশব্যাপী অ্যাক্সেল লোড প্রয়োগ ব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

সেতু অবকাঠামো সম্প্রসারণেও বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এক বছরের মধ্যে এসব সমীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচিতে দ্বিতীয় যমুনা, দ্বিতীয় পদ্মা, রাজবাড়ী-পাবনা, মেঘনা-চাঁদপুর এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এসব অবকাঠামো বাস্তবায়ন হলে জাতীয় যোগাযোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগও জোরদার হবে বলে পরিকল্পনায় প্রত্যাশা করা হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করা হবে। এক বছরের মধ্যে দেশব্যাপী এর বাস্তবায়ন কর্মসূচি নেওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় পর্যায়ে দুর্ঘটনা কমানোর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া চালক ও সহকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক ইউনিফর্ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বল্পমেয়াদে পোশাকের মান নির্ধারণ এবং পরে তা পরিবহনকর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পাঁচ বছরের মধ্যে শতভাগ কর্মীকে এর আওতায় এনে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আওতায় চালকদের প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স প্রদান, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্বল্পমেয়াদে আইনের খসড়া তৈরি করে এক বছরের মধ্যে তা পাস ও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

সড়ক ও মহাসড়কে ছিনতাই, চুরি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য পর্যায়ক্রমে যানবাহন ট্র্যাকিং সিস্টেম বা ভেহিকল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিবহন হাবগুলোতে সিসিটিভি ও মনিটরিং ব্যবস্থা স্থাপন করে নজরদারি বাড়ানো হবে। দীর্ঘমেয়াদে দেশব্যাপী একটি সমন্বিত নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এতে আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তাও জোরদার হবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন খাতে বীমা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে যানবাহন বীমার আওতা বাড়ানো হবে।

প্রথম পর্যায়ে এ বিষয়ে নীতি ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পরে ধাপে ধাপে দেশব্যাপী বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে পরিবহন খাতকে পূর্ণাঙ্গ বীমা কাভারেজের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এতে যাত্রী ও পরিবহন পরিচালনাকারী উভয় পক্ষই আর্থিক সুরক্ষা পাবে।

নগর এলাকায় যানজট কমাতে গণপরিবহন সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শহরের প্রান্তে ট্রাক স্ট্যান্ড ও পণ্য পরিবহনের ডিপো স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিকল্পনায় নগরজুড়ে শেয়ার্ড পার্কিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি সমন্বিত ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। এতে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্য রয়েছে।

সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল ঠেকাতে জাতীয় পর্যায়ে জরিপ পরিচালনা করা হবে। এরপর বড় শহর ও মহাসড়কে দুই চাকার যানবাহনের জন্য পৃথক লেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাঁচ বছরের মধ্যে প্রধান নগর ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে এসব লেন চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মেট্রোরেলের পাশাপাশি ঢাকায় ও আশপাশ এলাকায় মনোরেল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান বা এসটিপি ২০২৫-২০৪৫-এর আওতায় সম্ভাব্যতা যাচাই করে ঢাকায় মেট্রোরেলের ফিডার ব্যবস্থা হিসেবে মনোরেল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রথমে প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত এবং পরে দীর্ঘমেয়াদে মনোরেল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

অন্যদিকে যানজট কমাতে ঢাকায় পরিবেশবান্ধব সাইকেল রাইড শেয়ারিং সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অ্যাপভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালুর আগে চাহিদা, রুট ও স্টেশন নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

এক বছরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নগর এলাকায় সাইকেল স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীসহ অন্যান্য বড় শহরে এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

বায়ুদূষণ কমাতে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এ বিষয়ে পরিকল্পনা ও পাইলট প্রকল্পের নকশা তৈরি করা হবে।

পরবর্তী ধাপে ইভি বাস ও চার্জিং অবকাঠামো চালু বা মোতায়েন করা হবে। পাঁচ বছরের মধ্যে নগর পরিবহন ব্যবস্থার বড় একটি অংশকে বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে কম-কার্বন ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নগর পরিবহনে রিকশার ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে এর চলাচলকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রিকশাচালকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বল্পমেয়াদে রিকশাচালকদের মৌলিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পর এক বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট রিকশা জোন ও ফিডার রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটাল মনিটরিং ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা গড়ে তুলে রিকশাভিত্তিক নগর পরিবহনকে আরো সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্য রয়েছে।

সব মিলিয়ে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় সড়ক অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপত্তা, পরিবেশ, প্রযুক্তি ও গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি নগর ও গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থায় গতি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালনে জরুরি নির্দেশনা

সোবোসলাইয়ের শেষ মুহূর্তের গোলে লিভারপুলের নাটকীয় ড্র

রোমাঞ্চকর জয়ে মারেসকা যুগের শুভসূচনা

গফরগাঁওয়ে তিন মাসে ৬ বার ট্রেন লাইনচ্যুত

স্টার্ক ঝড়ে দুদিনেই টেস্ট শেষ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ পরওয়ারের

‘তিন শূন্য দিয়ে লিটনকে বিচার করছি না’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শূন্যতা পূরণেই হুমায়ূন কবিরকে নিয়োগ

পাঁচ বছর পর মোংলা বন্দরে সিবিএ নির্বাচন, মাঠে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় সপরিবারে হত্যা, গ্রেপ্তার ২