হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় ব্যয় বাড়বে দেশি এয়ারলাইনসের

কবিতা

ছবি: সংগৃহীত

জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের অ্যাভিয়েশন খাতকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ঠেলে দিয়েছে। দেশি প্রাইভেট এয়ারলাইনসগুলো ইতোমধ্যেই ফ্লাইটের ভাড়া বাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে ওয়ানওয়ে টিকিটের দাম এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ভাড়া বাড়বে আন্তর্জাতিক রুটেও। এর জেরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক একাধিক রুট। ফলে যাত্রী হারানোর আশঙ্কা করছে এয়ারলাইনসগুলো। সব মিলিয়ে অ্যাভিয়েশন ব্যবসায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এয়ারলাইনসের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৫০ শতাংশই যায় জ্বালানি খাতে। তাই জেট ফুয়েলের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি এয়ারলাইনসগুলোর সরাসরি অপারেশনাল খরচ বাড়িয়ে দেবে। এদিকে প্রাইভেট এয়ারলাইনসগুলোর আশঙ্কা তারা যাত্রী হারাবে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ফ্লাইটের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে যাত্রীসংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি দেশি এয়ারলাইনসগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে। এ অবস্থায় সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এয়ারলাইনসগুলো। তাদের মতে, বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ না হলে দেশের অ্যাভিয়েশন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

সূত্র জানায়, দেশে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে জেট ফুয়েলের দাম। মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে লিটারপ্রতি বেড়েছে ১০৭ টাকা। এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় প্রায় স্থবির বিমান চলাচল; তার ওপর জ্বালানি মূল্যের ধাক্কা পরিস্থিতি অনেক জটিল করে তুলেছে। এতে বড় ধরনের লোকসানে পড়ার শঙ্কা করছে দেশি প্রাইভেট এয়ারলাইনসগুলো। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি পুরো অ্যাভিয়েশন খাতের জন্য অশনিসংকেত।

অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক বেশি। তিনি বলেন, দেশে জেট ফুয়েলের কোনো ঘাটতি নেই। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে এবং প্রায় আগের দামে জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। প্রাইভেট এয়ারলাইনসগুলো যাত্রী হারাবে। বিমান যেহেতু সরকারি সংস্থা, তাই তারা এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবের মধ্যে মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে জেট ফুয়েলের দাম দুই দফা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সবশেষ নির্ধারিত নতুন মূল্য গত মঙ্গলবার রাত থেকে কার্যকর হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছে; অর্থাৎ লিটারপ্রতি বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটারের দাম শূন্য দশমিক ৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে এক দশমিক ৩২১৬ ডলার করা হয়েছে; বাংলাদেশি মুদ্রার হিসাবে বেড়েছে ৭০ টাকার বেশি।

চলতি মার্চ মাসেই এটি দ্বিতীয় দফা মূল্য সমন্বয়। এর আগে ৮ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে দাম ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ০.৬২ ডলার থেকে ০.৭৩৮৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ রুটে লিটারপ্রতি মোট মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৭ টাকা, যা প্রায় ৮০ শতাংশ।

বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্ল্যাটসের গড় মূল্য, ডলার বিনিময় হার ও পরিবহন ব্যয় বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ঝুঁকি এবং এশীয় জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে জেট ফুয়েলের দামে এমন ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এশিয়ায় জেট ফুয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৬৩ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এয়ারলাইনস সূত্র জানায়, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক রুটে জেট ফুয়েলের নতুন নির্ধারিত মূল্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি। বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কলকাতায় প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৬২ ডলার, মাস্কাটে শূন্য দশমিক ৬০৩ ডলার, দুবাইয়ে শূন্য দশমিক ৫৮৭ ডলার, জেদ্দায় শূন্য দশমিক ৫৮১ ডলার, দোহায় শূন্য দশমিক ৫৮৪ ডলার, ব্যাংককে এক দশমিক ০৯৮ ডলার, সিঙ্গাপুরে শূন্য দশমিক ৫৮৬ ডলার মূল্যে এয়ারলাইনসগুলোকে জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, জেট ফুয়েলের হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে গত বুধবার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে ভাড়া এক হাজার ২০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া যশোর ও রাজশাহী রুটে ভাড়া বেড়েছে এক হাজার টাকা করে। রিটার্ন টিকিটের জন্য যাত্রীদের এর দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হবে। এতে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট কমানো বা বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে এয়ারলাইনসগুলোকে। শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, কার্গো খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে ছোট ও নতুন এয়ারলাইনসগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের অ্যাভিয়েশন খাতে নতুন এক চাপের বাস্তবতা তৈরি করেছে। জ্বালানি ব্যয় যেহেতু একটি এয়ারলাইনসের পরিচালন খরচের বড় অংশ, তাই এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি পুরো শিল্পকে অস্থির করে তুলবে। খরচ ব্যবস্থাপনা এখন এয়ারলাইনসগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে যাত্রী ভাড়ার ওপর। ভাড়া বৃদ্ধির ফলে প্যাসেঞ্জার গ্রোথ হ্রাস পাবে—এটাই স্বাভাবিক। শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, কার্গো খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ছোট ও নতুন এয়ারলাইনসগুলোর জন্য এ পরিস্থিতি আরো কঠিন আকার ধারণ করবে। জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্য এয়ারলাইনস, যাত্রী ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর সমানভাবে চাপ সৃষ্টি করবে। অথচ সংকটের মাঝেও ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে। পাকিস্তানে সাড়ে ২৪ শতাংশ ও মালদ্বীপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৮০ শতাংশ।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজি ওয়াহিদুল আলম বলেন, জেট ফুয়েলের এই হঠাৎ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অ্যাভিয়েশন খাতের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন হলেও তা ধাপে ধাপে করা উচিত ছিল। একবারে এত পরিমাণ বৃদ্ধি এয়ারলাইনসগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকে চাপে ফেলবে এবং অপারেশনাল স্থিতিশীলতা ব্যাহত করবে। এতে ফ্লাইট ভাড়া বাড়বে, যাত্রী চাহিদা কমবে এবং কিছু রুট বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এক-এগারোর কুচক্রী লে. জে. মামুন রিমান্ডে

মুন্নী সাহার অ্যাকাউন্ট থেকে ১২০ কোটি টাকা উত্তোলন

শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কর্মসূচি আ.লীগের

জুলাই শহীদ পরিবারের ঈদ কাটল শূন্যতা ও দীর্ঘশ্বাসে

বাংলা সাহিত্যে প্রথম ঈদকবিতা ও ঈদসংখ্যা

মহিমান্বিত চাঁদরাত

সরকারের ৩০ দিনের পোস্টমর্টেম

নাড়ির টানে গ্রামের পথে মানুষের ঢল

৩৫ পয়েন্টে থমকে যেতে পারে ঈদ আনন্দযাত্রা

এনটিএমসি ও র‍্যাব সংস্কারে সরকারের ধীরগতি