হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা ছিল হাফিজের

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে গ্রেপ্তার

আল-আমিন

অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজ। ছবি: সংগৃহীত

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও থেমে নেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের তৎপরতা। এমন অভিযোগের মধ্যেই সামনে এসেছে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজের নাম। রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা এবং দেশ-বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর তাকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, তার ব্যবহৃত যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক এবং সাংগঠনিক তৎপরতা খতিয়ে দেখতে গিয়ে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর আরো সক্রিয় হয়ে ওঠেন হাফিজ। ঢাকা ও নিজের জেলা টাঙ্গাইলে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো এবং ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মসূচিতে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল হাফিজের। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য তিনি টেলিগ্রামে একটি গ্রুপ খুলেছিলেন। ওই গ্রুপে আগে সক্রিয় ছিলেন তার আরো দুই সহযোগী— কারাগারে থাকা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া।

বিশেষ করে ভারতের কলকাতায় অবস্থানরত স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের সঙ্গে হাফিজের যোগাযোগ ছিল বলে দাবি তদন্তসংশ্লিষ্টদের। পঙ্কজ দেবনাথ ছাড়াও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের ভাষ্য, বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনার মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছিল। এ লক্ষ্যে নানা ধরনের তৎপরতার পরিকল্পনা করেছিলেন হাফিজ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার কথিত ভারত থেকে ফেরার বিষয়টি সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার পরিসরে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। এ উদ্দেশ্যে সাইবার সেলে সমন্বিত প্রচারণার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, হাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ। তাদের যোগাযোগের ধরন, অর্থায়ন এবং কথিত পরিকল্পনার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত শনিবার রাতে রাজধানীর বনানী এলাকায় একটি বাসা থেকে হাফিজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর পল্লবী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করা হয়। এতে গ্রেপ্তার দেখানো হয় হাফিজকে। মামলার অপর আসামে গুলশান আরা ও দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া। তারা বর্তমানে কারাগারে।

পরে তাকে সাইবার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় আদালতে হাজির করলে আদালত চার দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করে। হাফিজ এখন ডিবির হেফাজতে রয়েছেন। তাকে সেখানেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া হাফিজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন হাফিজ। এ সময় সামরিক বাহিনীর সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তাও তখন যোগ দেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের এ সদস্য তিনি।

এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। ২০১৪ সালে মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এছাড়াও হাফিজ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন পাননি।

সূত্র জানায়, হাফিজ নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা নামে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলেন। সেখানে সংযুক্ত হন গুলশান আরা ও দেবাশীষ। এছাড়াও আরো একাধিক ব্যক্তি এতে জড়িত ছিলেন। তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ঢাকাসহ একাধিক জেলার নেতাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করে আওয়ামী নেতাকর্মীদের সাইবার সেলে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিতেন। ভারতে পলাতক আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তাদের কাছ থেকে কোন অর্থ তার কাছে এসেছে কি না সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি তার ঘনিষ্টজনদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

পাহাড় অস্থিতিশীল করার নীলনকশা

বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় আসছে একক কমান্ড

মাঠে পুরোদমে সক্রিয় আওয়ামী সফট পাওয়ার

এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি

১০ আমদানিকারকের কাছে জিম্মি ৮৩ লাখ পরিবার

বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে কী ঘটেছিল

পাঁচ বছরে জাপান বিনিয়োগ করবে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার

জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প

অসুখের সঙ্গে আসে ঋণ, চিকিৎসায় নিঃস্ব পরিবার

জামিনে মুক্ত অপরাধীরা ফের পুরোনো অপরাধে