নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলাকে একটি মানবিক জনপদ ও সমৃদ্ধ পর্যটন এলাকায় রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, “আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। সস্তা হাততালির জন্য মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে আসিনি।”
রোববার দুপুরে দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ ও নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তরুণ সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ দখলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যদি সাধারণ মানুষের সম্পদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দুর্গাপুর গড়তে চাই, যেখানে সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে।”
দুর্গাপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, এলাকায় নতুন রেললাইন স্থাপন, সোমেশ্বরী নদী ও মহাদেও নদীর ওপর সেতু নির্মাণসহ একাধিক বড় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।
বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবৈজ্ঞানিকভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, কুল্লাগড়া, দুর্গাপুর সদর, লেংগুরা, খারনৈ ও রংছাতি ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা এবং চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডা. দিবালোক সিংহ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।