ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে সরব রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচনের দিন তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও এই আসনে মাঠে গণসংযোগ করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন দল দুটির প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও বিএনপি, এনসিপি, ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তবে প্রচার চালাচ্ছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক এমপি ও দলের কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী, ইসলামী আন্দোলনের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান রাসেল।
জামালপুর-১ আসন গঠিত মোট ১৫টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে। গারো পাহাড়, নদনদী ও চরাঞ্চল নিয়ে বেষ্টিত এই আসনে মোট ভোটার রয়েছে চার লাখ। ২০০১ সালের পর থেকে বিতর্কিত ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পাঁচটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চারবার ও বিএনপি একবার জয়লাভ করে। এই আসনে বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ আসনটিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদকে হারিয়ে বিএনপির এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। ২০১৩ সাল থেকে সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের নেতা কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালায় আওয়ামী লীগ। এতে বিএনপি ও জামায়াত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এ আসনের আ.লীগের নেতাকর্মীরা পলাতক কিংবা আত্মগোপনে ।
নির্বাচনকে টার্গেট করে বিএনপি থেকে জামালপুর-১ আসনে সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম মাঠে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা দুইজন আগামী নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন।
দুই নেতার অনুসারীরা আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করায় স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপে বিভক্ত। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রতিনিয়তই এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দল ত্যাগীদের মূল্যায়ন করলে মিল্লাতের মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করেন বিএনপির বিরাট একটি অংশ ।
এছাড়াও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক পুলিশ প্রধান আবদুল কাইয়ুম বিএনপির মনোয়ন পেতে কেন্দ্রে জোর লবিং চালাচ্ছেন। তার পক্ষে নেতাকর্মীদের মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। অনুসারীদের ধারণা, সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম ক্লিন ইমেজের মানুষ। তাই দল নানা দিক বিবেচনা করে তাকেই মনোনয়ন দেবেন।
নির্বাচনি মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী। জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী হিসেবে এই আসনে বিএনপির বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে বেশ গণসংযোগ করছেন তিনি।
এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এই আসনে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনও। এই আসনে দলটি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আরিফ খান রাসেলকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে । ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও তার কর্মী সমর্থক নিয়ে প্রতিনিয়ত মিটিং মিছিল ও সমাবেশ করছেন।
নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে উপজেলা ও পৌর কমিটির পাশাপাশি ইউনিয়নে কমিটি গঠনের কাজ চলছে । তবে এখনো এই আসনে এনসিপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা দিতে পারেনি ।
এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদও নির্বাচনে অংশ নিতে কমিটি গঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার আহমেদ সুমন।
জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ইসলামী দল। একটি গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক দল হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছি। বিগত তিনটি প্রহসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। তাই ভোট দেওয়ার জন্যে ভোটাররা উন্মুখ হয়ে আছে। তিনি বলেন, বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জের মানুষ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীকেই বিজয়ী করবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি আরিফ খান রাসেল বলেন, জামালপুর-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমাকে এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। আশা করি, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে ন্যায় নীতির পক্ষে রায় দিবে।
স্থানীয় ভোটাররা বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে এ আসনের ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন নাই। আগামীতে ভয় শঙ্কামুক্ত অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এ আসনের ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারবেন। এমনটাই প্রত্যাশা এখানকার ভোটার ও সাধারণ জনগণের।