বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ভাটি অঞ্চলের চকবাজার মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ধলেশ্বরী-মেঘনা সংযোগস্থল গুজাদিয়া খাল এবং অষ্টগ্রাম-চাতলপাড় অলওয়েদার সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর পাড়ে আরসিসি পাইলিং, রিটেইনিং ওয়াল ও ব্লক না থাকায়, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাজারের মাটি ধসে যাচ্ছে। যেকোনো সময় দোকানঘর নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ভাটি অঞ্চল নামে খ্যাত চাতলপাড় ইউনিয়নের চকবাজার মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর পাড়ে আরসিসি পাইলিং, রিটেইনিং ওয়াল ও ব্লক না থাকায়, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাজারের মাটি ধসে যাচ্ছে। যেকোনো সময় দোকানঘর নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।
সরেজমিনে চকবাজার গিয়ে দেখা গেছে, মেঘনার তীব্র স্রোতে চকবাজারের বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধসে পড়ার হুমকির মুখে। বাজারের মাটি ইতোমধ্যে ভেঙে নদীতে চলে গেছে।
চকবাজারের মুদি ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম জানান, ‘গত বছর মেঘনার স্রোতে তার একটি দোকানঘর বিলীন হয়ে গেছে। আবার নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায়, তার আরেকটি দোকানঘর যেকোনো সময় নদীতে চলে যেতে পারে। তিনি বলেন, ঘেঘনান ভাঙনে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।’
স্থানীয়রা জানান, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে চাতলপাড়ের বিভিন্ন গ্রামে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে চকবাজার সংলগ্ন একটি মসজিদ, বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে
চাতলপাড় ইউনিয়নের আয়তন ২৩.৬৩ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৪৪ হাজার ৮৬ জন। এ ইউনিয়নের পশ্চিম ও উত্তর সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলেছে মেঘনা নদী।
মেঘনা নদীর তীব্র স্রোতে চাতলপাড় বড়বাজার, চকবাজার ও বিলেরপাড় এলাকার বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী শাসন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে এলাকাকে রক্ষা করতে হবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিনয় রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনার ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কিছু পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। নদীভাঙন থেকে এই এলাকাকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনা নাছরীন বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
নদীভাঙন রোধেন বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, হাওরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে।
অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। এ সময় তিনি ভাঙন রোধে চলমান কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। পরিদর্শন শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এমপি বলেন, হাওরের মানুষ এমনিতে একটিমাত্র ফসলের ওপর নির্ভরশীল, যা হারিয়ে তারা চরম হাহাকারের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তার ওপর এ অকাল নদীভাঙন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে জেলা প্রশাসক, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে জরুরি যোগাযোগ করেছি। তিনি আরো জানান, ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। আশা করছি, নদীর নাব্য সংকট নিরসনে ও ভাঙন রোধে খুব দ্রুতই ড্রেজিং (চরকাটা) কাজও শুরু হবে। পরিদর্শনকালে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।