হোম > সারা দেশ

ভারতীয় গরু আসার শঙ্কায় খামারিরা

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রস্তুত দেশি গরু

আমার দেশ ডেস্ক

দিনাজপুরের একটি খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত গরু। ছবি: আমার দেশ

আসছে কোরবানির ঈদ। চলছে সর্বত্র ঈদের প্রস্তুতি। এক সপ্তাহের মধ্যেই সারা দেশে কোরবানির পশুর হাট বসতে শুরু করবে। পশু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারের মালিকেরা। এবার কোরবানির পশুর সংকট হবে না বলে দাবি করছেন খামারিরা তবে ভারতীয় গরু আসার শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুর জেলায় আসন্ন ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি গবাদিপশু। জেলায় চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি পশুর। সেই হিসাবে জেলায় উদ্বৃত্ত বা চাহিদার অতিরিক্ত পশু রয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৬১টি, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো সম্ভব হবে, আশা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও খামারিদের। এদিকে বাইরের দেশের গবাদিপশুর প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, জেলার ১৩ উপজেলায় খামারি রয়েছে ৬২ হাজার ৪০৮টি। এসব খামারির কাছে ও ব্যক্তি পর্যায়ে কোরবানির জন্য ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব পশুর মধ্যে গরু ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি, মহিষ ২৪৮, ছাগল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০টি, ভেড়া ১৩ হাজার ৭২৯ ও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে ১০টি।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৬টি গরুর মধ্যে ষাঁড় সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬১টি, বলদ ১৫ হাজার ৯৪৪টি ও গাভি ৩৭ হাজার ৩৪১টি। নিরাপদ মাংস উৎপাদনের জন্য খামারি ও স্থানীয়রা দেশীয় পদ্ধতিতে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ করেছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দিনাজপুর জেলার উদ্বৃত্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো সম্ভব হবে বলে আশা খামারি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের।

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, জেলায় ২১টি স্থায়ী ও ৪৭টি অস্থায়ী হাটসহ মোট ৬৮টি পশুরহাট রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এসব হাট বসবে।

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি জানান, ঈদুল আজহা সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে এক হাজার ৫৩১টি গবাদিপশু। এর মধ্যে আছে ৬৪২টি ষাঁড়, ১৮৮টি বলদ, ১১৯টি গাভি, ৫৭৮টি ছাগল। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোমা সরকার জানান, তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শে খামারিরা গবাদিপশু মোটাতাজা করেছেন। এসব প্রাণি মোটাতাজা করতে কোনো রাসায়নিক বা অপদ্রব্য ব্যবহার করেনি।

খড়, গম, ডালের ভুসি, কাঁচা ঘাস, খৈল, ধানের কুড়া খাওয়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কাউখালী উপজেলায় কোরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে এক হাজার ৪৭৮টি গবাদিপশুর। ঈদ সামনে রেখে খামারগুলোতে পশু লালনপালনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পশু নিরাপদে বাজারে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে ছয়টি গরু মোটাতাজা করেছেন সদর উপজেলার মধ্য বাশুড়ী গ্রামের খামারি মাওলানা লোকমান হোসেন।

তিনি বলেন, মাদরাসা সামলিয়ে অনেক কষ্টে খামার করেছি। এ বছর গো-খাদ্যের দাম চড়া। গরু মোটাতাজা করতে বাড়তি খরচ হয়েছে। ভারত অথবা অন্য দেশ থেকে পশু না এলে কোরবানির হাটে আমাদের পশুর ন্যায্যমূল্য পাব বলে আশা করছি। তার খামারে দেড় লাখ থেকে তিন লাখ টাকার গরু রয়েছে।

২০টি গরু মোটাতাজা করেছেন সদর উপজেলার উজিয়ালখান গ্রামের উত্তম মৃধা। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বাড়তি খরচ হয়েছে। প্রত্যাশিত মূল্য পেলে লাভের মুখ দেখতে পারব। বিদেশি গরু হাট দখল করলে দেশি গরুর চাহিদা কমবে। সে ক্ষেত্রে লোকসানের শঙ্কা রয়েছে। এ উপজেলায় ছোটবড় মিলিয়ে মোট ৭২৪টি খামার রয়েছে।

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আসন্ন ঈদুল আজহায় চাহিদার চেয়ে আট হাজার ৭৫৭টি পশু উদ্ধৃত্ত রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জানান, উপজেলা এলাকায় পশুর মধ্যে ষাঁড় ৯ হাজার ৩২৯টি, বলদ দুই হাজার ৪০৫টি, গাভি/বকনা দুই হাজার ৮২৪টি, মহিষ ৪৮টি, ছাগল ১০ হাজার ৯৮২টি, ভেড়া দুই হাজার ১২৬টি। খামারির সংখ্যা রয়েছে চার হাজার ৯১২টি। উপজেলায় মোট পশুর চাহিদা রয়েছে ১৮ হাজার ৯৫৭টি। সেখানে পশু রয়েছে ২৭ হাজার ৭১৪টি। উদ্ধৃত্ত থাকছে আট হাজার ৭৫৮টি পশু।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার খামারগুলোতে চলছে ব্যস্ততা। ছোট-বড় শত শত খামারে দিন-রাত পরিশ্রম করে কোরবানির পশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা। শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও গরুকে গোসল করানো হচ্ছে, কোথাও খাবার দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও ক্রেতাদের সঙ্গে চলছে দরদাম। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বেড়েছে ব্যস্ততা।

শিবচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার শিবচরে ৬৬৫টি ছোট-বড় খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ২১ হাজার ২০০টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার ৯৮০টি গরু, কয়েকটি মহিষ এবং প্রায় ১০ হাজার ২৩০টি ছাগল ও ভেড়া। অথচ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৯ হাজার।

উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত শিবচরের অন্যতম বড় খামার ‘নাইম খান এগ্রো ফার্ম’ এ গিয়ে দেখা যায়, ভিন্ন এক কর্মচাঞ্চল্য। এই গরুর খামারের প্রতিটি গরুকে আলাদা যত্নে লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ১৬০টি গরু, চারটি মহিষ, ২৩০ ছাগল এবং কিছু ভেড়া।

শিবচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র বলেন, এবার শিবচরে কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কাজ করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফা কামালসহ ১৫ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী খামারিদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। সাড়ে চার শতাধিক বাণিজ্যিক ও তিন হাজার ১১৯টি প্রান্তিক খামারে কোরবানির এসব পশু লালন-পালন করছেন খামারিরা। চলতি বছর উপজেলায় রেকর্ডসংখ্যক পশু কোরবানির জন্য মোটাতাজা করা হয়েছে।

তবে গবাদিপশুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশুর উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এতে পশুর দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিক্রি ও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মাদারগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ১৫০টি। বিপরীতে খামার ও পারিবারিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে ৭ হাজার ৩৫০ পশু। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৬৬ গরু, ১৫৪ মহিষ, ৯ হাজার ২১৪ ছাগল, ১ হাজার ৭২০ ভেড়া এবং ৪৬টি অন্যান্য পশু রয়েছে। গরুর খামারি আব্দুর রহমান জানান, তিনি এবার দেশি জাতের ২৫ গরু লালন-পালন করছেন। গরুকে খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুট্টা এবং ধানের গুঁড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়াচ্ছেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে তার। কয়েকদিন পরই বিক্রির জন্য এসব গরু বাজারে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান বলেন, খামারিদের গবাদিপশুকে দানাদার খাদ্য ও কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভিটামিন খাওয়াতে বলা হয়েছে। নিষিদ্ধ রাসায়নিক ও হরমোন ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে মানসম্মত মাংস উৎপাদনে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

বিস্কুট কিনতে বেরিয়ে নির্মম হত্যার শিকার এক শিশু

সক্ষমতা যাচাইয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘অগ্নি নির্বাপণ মহড়া’

সুন্দরবনের ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর অস্ত্রসহ আটক

চিরিরবন্দরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা ও ভাইকে হত্যা

পীরগাছায় দেড় কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

পাকুন্দিয়ায় ২৬ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে ৩ জনের মৃত্যু

তিতাসে হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

‎সিদ্ধিরগঞ্জে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরের মৃত্যু

এক দশক বাবুর্চিই ডাক্তার