হোম > সারা দেশ

সব আসনে বিএনপির হেভিওয়েট নেতারা মনোনয়নপ্রত্যাশী

নেত্রকোনার পাঁচ আসন

কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, নেত্রকোনা

হাওর-পাহাড় ও সমতল মিলে নেত্রকোনা অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি। জেলার মানুষের রাজনৈতিক চিন্তা-ধারার মধ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্য। কখনো স্থানীয় বাসিন্দারা এককভাবে কোনো একটি দলের মধ্যে ডুবে যাননি।

স্বাধীনতার পর থেকে ভোটের মাঠে প্রায় সমান প্রভাব ছিল আওয়ামী লীগ ও জাতীয়তাবাদী শক্তির। এরই মধ্যে নীরবে স্ফীতি ঘটেছে ইসলামপন্থিদের। তবে এই জেলা থেকে কোনো ইসলামি দলের নেতার জাতীয় সংসদের যাওয়ার নজির নেই।

জেলার ১০টি উপজেলা নিয়ে পাঁচটি সংসদীয় আসন গঠিত। আগামী নির্বাচন ঘিরে সরগরম ভোটের মাঠ। নানা কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী ও প্রার্থীরা। ভোটারদের মন জয় করতে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন বিএনপির হেভিওয়েট ও কেন্দ্রীয় নেতারা। দলের টিকিট পাওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন স্থানীয় নেতারা। তাদের বিপরীতে আশা জাগানিয়া অবস্থান তৈরি করতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা নিজেদের জয়ের ব্যাপারে স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবায়ন দুঃসাধ্য। তবে ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে ইসলামপন্থিদের সম্ভাব্য জোট। সেটি হলে যে কোনো প্রার্থীকে তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

বড় দলগুলোর পাশাপাশি মাঠ চষে বেড়াচ্ছে ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, গণঅধিকার পরিষদসহ অন্য দলগুলোর নেতাকর্মীরা। তবে এসবের অধিকাংশেরই নেই কমিটি ও স্থানীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান।

নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা)

গারো পাহাড়ি অঞ্চলের এ আসনে পাল্টাপাল্টি রাজত্ব করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদীরা পলাতক থাকায় একক আধিপত্য পেয়েছেন জাতীয়তাবাদীরা। আগামী নির্বাচনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কেন্দ্রীয় ও হেভিওয়েট নেতারা এবারো মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্থানীয় নেতারা। তারা সবাই নানা কর্মসূচি নিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সমঝোতা না হলে কোন্দলে ডুবতে পারে দলের ভাবমূর্তি। নেতিবাচক ফল আসতে পারে নির্বাচনে।

এবার বিএনপির টিকিট চাইছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জেলা বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. হামিদুর রহমান রাশেদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এজমুল হোসেন পাইলট।

ব্যারিস্টার কায়সার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য লড়েছি। যাতে মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারে। সেই সুযোগ এখন হাতের নাগালে। এলাকার মানুষের যে সাড়া তাতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয় পাবে।’

জামায়াত দলের কলমাকান্দা উপজেলা শাখার আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাসেমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে নানা কর্মসূচি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

এছাড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক মাওলানা খায়রুল বাশার মাঠে সরব আছেন।

নেত্রকোনা-২ (সদর ও বারহাট্টা)

এ আসন থেকেই জেলার পুরো রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হয়। এখানে ফ্যাসিবাদী আমলের দেড় দশক ছাড়াও অধিকাংশ সময় প্রভাব ছিল আওয়ামী লীগের। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে সেই কালিমা দূর হয়েছে। মাঠটি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বিএনপি। এবারো এখানে দলটির কেন্দ্রীয় ও হেভিওয়েট নেতারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের সঙ্গে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন স্থানীয় নেতারা।

বিএনপির টিকিট প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এটিএম আবদুল বারী ড্যানি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আরিফা জেসমিন নাহীন, জেলার সাবেক সহ-সভাপতি ডা. দেলোয়ার হোসেন টিটো ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী খোরশেদ আলম মিয়া উল্লেখযোগ্য।

ডা. আনোয়ারুল বলেন, ‘আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। এলাকার ভোটাররা ধানের শীষকেই সমর্থন দেবেন। বলা যায়, ধানের শীষের জোয়ার বইছে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে এলাকার মানুষ এটিসহ জেলার সব আসন উপহার দেবে।’

জামায়াত প্রার্থী হিসেবে সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা এনামূল হক ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।

এছাড়া খেলাফত আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী মোহাম্মদ আবদুর রহিম রুহী, গণঅধিকার পরিষদের হাসান আল মামুন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ ও কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠানও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ।

এনসিপি নেতা ফাহিম বলেন, ‘এলাকার ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। তাদের মাঝে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। আমরা নতুন দল হিসেবে তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছি। সর্বোপরি ভালো ফলের আশা করছি।’

নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া ও আটপাড়া)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, জেলা শাখার সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, জেলার সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভুইয়া দুলাল, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শিল্পপতি সৈয়দ আলমগীর খসরু, কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের সহকারী মহাসচিব ও জেলার সাবেক উপদেষ্টা শিল্পপতি রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা মেজর সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক রায়হান আমিন তালুকদার রনি, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সজল।

বিএনপি নেতা দেলোয়ার বলেন, ‘আসনটি মূলত ধানের শীষের। এলাকার ভোটাররা অপেক্ষা করছেন কখন তাদের ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থীকে জয়যুক্ত করবেন।’

জামায়াতের টিকিট পেয়েছেন জেলা শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও আটপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলাওয়ার হোসেন সাইফুল। তিনি একবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাওয়ায় প্রচারে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন।

এছাড়া খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা তরিকুল ইসলাম নুরানী নানা কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছেন।

নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী)

হাওরাঞ্চলের এ আসনে একটি নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, তিনি বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এই হেভিওয়েট নেতা এখানে বার বার জনগণের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এবারো মনোনয়নপ্রত্যাশী। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক কর কমিশনার কাজী ইমদাদুল হক, বিএনপি নেতা ফারুখ আহমেদ।

কাজী ইমদাদুল বলেন, হাওর পাড়ের ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন।

জামায়াতের টিকিট পেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলটির ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আল হেলাল তালুকদার। এছাড়া এনসিপির মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম শুভ এবং খেলাফত আন্দোলনের মদন উপজেলা আহ্বায়ক মাওলানা আবদুল মান্নান সরব আছেন।

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা)

একক উপজেলার এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দাপট প্রায় সমান ছিল। নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদীরা পলাতক থাকায় রাজত্ব করছেন জাতীয়তাবাদীরা। এবার ধানের শীষের কাণ্ডারী হতে চান জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ খান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এ.এস.এম শহীদুল্লাহ ইমরান, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মুহাম্মদ আলীর ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুবুল আলম রানা।

জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা তুলে দেওয়া হয়েছে জেলা শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাসুম মোস্তফার হাতে। তিনি নানা কর্মসূচি নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। মাঠ চষে বেড়াচ্ছে দলের নেতাকর্মীরাও।

অধ্যাপক মাসুম বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি। তাদের পাশে আছি। মানুষ আমাদের দলের প্রতি আস্থা রাখছে। ভোটারদের ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। এখানে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার তৈরি হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস আছে।’

এছাড়া খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা হাবিবুল্লাহ খান, এনসিপির উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী আনোয়ার হোসেন কাজলও মাঠে সক্রিয় আছেন।

ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘ দেড় দশক পরে নির্বাচনেরে পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ভোট দিতে তারা মুখিয়ে আছেন। তাদের প্রত্যাশা একটাই দলগুলো যেন আর কোনো চাঁদাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত, টেন্ডারবাজ ও অর্থ পাচারকারীকে মনোনয়ন না দেন। তাহলে তাদের দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ না-ও হতে পারে।

শরিফুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি শিক্ষিত আর সৎ প্রার্থী ছাড়া ভোট দিয়াম না।’ হোসনে আরা বলেন, ‘নারী বান্ধবপ্রার্থী যে দলেরই হোক তাকেই ভোট দিয়াম।’ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সততার পাশাপাশি আমরা এলাকার উন্নয়ন, আমাদের পাশে সব সময় পাইÑ এমন প্রার্থীকে ভোট দেব।’

এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে জেলার পাঁচটি আসনেই প্রার্থী দেব। এলাকার মানুষ মুখিয়ে আছে নতুন প্রার্থীদের গ্রহণ করতে। সেই দিক থেকে আমরা ভালো ফলের আশাবাদী।’

জেলা জামায়াত আমির অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ বলেন, ‘মানুষ সব দলকে দেখেছে, জুলাই বিপ্লবের পর ভোটাররা নতুন কিছু চান। এছাড়া জামায়াত এখন গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আশা করছি, জেলার সব আসনে জনগণ দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করবে।’

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, দলের সব নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ আছেন। দল যাকেই মনোনয়ন দেবে সবাই তার হয়ে মাঠে থাকবেন। এছাড়া বিএনপি নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। জেলার সব আসনে ধানে শীষের জোয়ার বইবে।

ঝিনাইদহে খাজনার নামে চাঁদাবাজি, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

কুসিক প্রশাসক পদে আলোচনায় টিপু ও আবু

সহকারী শিক্ষিকাকে হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন

আমার দেশে সংবাদ প্রকাশের পর মানববন্ধনের ডাক

ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ

ব্যবসায়ীদের মার্জিমাফিক চলছে রংপুরে নিত্যপণ্যের বাজার

লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১০ দোকান পুড়ে ছাই

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন এমডি হলেন ভারতীয় প্রকৌশলী রমানাথ

দেড় বছর পর আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে আগরতলা-ঢাকা বাস চলাচল শুরু

বকশীগঞ্জে আলুর বাজারে অস্থিরতা, লোকসানের আশঙ্কায় চাষিরা