কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিতে কমেছে তাপমাত্রা, ফিরেছে কিছুটা স্বস্তি। তবে এই স্বস্তির মধ্যেই নেত্রকোণায় ৩ জনসহ তিন জেলায় বজ্রপাতে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার নেত্রকোণায় তিন, বগুড়ায় ও হবিগঞ্জে দুইজন করে মারা গেছেন।
খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) উপজেলা প্রতিনিধি জানান, সোমবার উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। সকালে খালিয়াজুরীর জগন্নাথপুরের ফেরি ঘাটে ধনু নদের পাড়ে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে এসে বজ্রপাতে প্রাণ হারায় এক মৎস্য শিকারি। নিহত মৎস্য শিকারি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বাগবেড় গ্রামের আব্দুল মোতালিব (৫৫)।
অপরদিকে দুপুরে উপজেলার সাতগাঁ গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে মোনায়েম খাঁ নামের এক কৃষক। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে আসা শুভ মন্ডল নামে এক ধান কাটার শ্রমিক উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ তিনজনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম। বজ্রপাতে মৃত্যু হওয়াদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মৃতের আত্মীয় স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।
গাবতলী (বগুড়া) উপজেলা প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে পৃথক দুটি ঘটনায় দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে বজ্রপাতে এক যুবক এবং আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে এক পান ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত রোববার বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে। মৃত যুবকের নাম সুমন প্রামানিক (৩৫), তিনি ওই গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ঝড়-বৃষ্টির সময় মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়েন সুমন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে গাবতলী থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের লাঠিগঞ্জ বাজারে ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে উমা চন্দ্র (৫২) নামে এক পান ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত উমা চন্দ্র চকরাধিকা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত কালিদাসের ছেলে। জানা গেছে, ভোরে তিনি নিজ পানের দোকানে ঘুমিয়ে ছিলেন। কালবৈশাখী ঝড়ে পাশের একটি বিশাল বটগাছ দোকানের ওপর উপড়ে পড়লে তিনি নিচে চাপা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গাছ কেটে তাঁকে উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
গাবতলী মডেল থানার ওসি রাকিব হোসেন দুটি মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “কালবৈশাখী ও বজ্রপাতের মৌসুমে সবাইকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ বা হাট-বাজারে পুরোনো গাছের নিচে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উচিত প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) উপজেলা প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। অপর দিকে একই সময়ের বানিয়াচং উপজেলায় বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা গেছেন আরেকজন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম সংলগ্ন গড়দার হাওরে এবং বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মকছুদ আলী (৪০) নিজ জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আক্রান্ত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লার ছেলে।
এদিকে বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুস সালাম (৩৫) বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা মান। এঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত মকছুদ আলীর পরিবারটি দরিদ্র। তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।