নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দরিদ্র পরিবারের মাঝে প্রাণী সম্পদ অফিসের যোগসাজশে ছাগল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপকারভোগী ও ঠিকাদারের লোকজনের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সোমবার (১৮ মে) উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ছাগল বিতরণ কার্যক্রমে এ অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ছাগলের ওজন বাড়িয়ে দেখানোর জন্য অভিনব কৌশলের। মাপের মিটারের ভেতরে চারটি লোহার রিং ঢুকিয়ে রাখা হয়, যার ওজন প্রায় ১ কেজি ৭০০ গ্রাম।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের স্টাফ রাহাত সাংবাদিকদের বলেন, ওজনের ডিজিটাল মেশিনটি অফিসেরই। আমরা আজকেই প্রথম এটি ওপেন করেছি। রিং ঢুকানোর বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনি। ফিটিংয়ের সময় হয়ত ভুল হয়েছে।
উপকারভোগীরা জানান, প্রথমদিকে বিতরণ স্বাভাবিক মনে হলেও পরে কয়েকটি ছাগলের আকার ও ওজন নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে বাইরে এনে ওজন করলে দেখা যায়, কোনো কোনো ছাগলের ওজন সাড়ে তিন কেজি থেকে ছয় কেজির মধ্যে। হাতে গোনা কয়েকটি ছাগলের ওজন আট কেজির কাছাকাছি ছিল।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কিছু উপকারভোগীসহ স্থানীয় জনতা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির দাবিতে অফিসের একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী অলিভিয়া নংমিন, পূর্ণা রিছিল, রবি হাজং ও জয় পদ্ম হাংজ অভিযোগ করে বলেন, অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা এর দায় এড়াতে পারে না। আমরা শুনেছি একটি ছাগলের সর্বনিম্ন ওজন আট কেজি হওয়ার কথা। কিন্তু এখন দেখছি দুটি ছাগল মিলিয়েও অনেক সময় সাড়ে সাত থেকে আট কেজি হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কানিকা সরকার বলেন, মূল ঠিকাদার সরাসরি এখানে আসেন না। তাদের সাব-ঠিকাদার ছাগল ও উপকরণ পৌঁছে দেন, আমরা অফিসিয়ালভাবে তা গ্রহণ করি। আমাদের কাছে সঠিক কোনো তথ্য নেই। সকালে প্রথম পর্যায়ে বিতরণ সঠিক ছিল। আজ ১০০ জনের কাছে দুইটি করে ছাগল বিতরণ করার কথা ছিল।
অফিস সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ছাগলের ওজন কমপক্ষে আট কেজি হওয়ার কথা। যেসব ছাগলের ওজনে সমস্যা পাওয়া গেছে, সেগুলো রিপ্লেস করার ব্যবস্থা করা হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ঠিকাদার পক্ষের প্রতিনিধি সাগর বেপারী বলেন, আমি ৩০টি ছাগল এখানে এনেছি। এর মধ্যে ৬/৭টি ছোট ছাগল ছিল।
অপর ব্যক্তি হোসেন আলী জানান, টাঙ্গাইলের রাসেল ঠিকাদারের আমি একজন কর্মচারী। আমাকে দিয়ে ছাগলগুলো পাঠানো হয়েছে। কিছু ছোট ছাগল থাকতে পারে।
এ বিষয়ে আদিবাসী নেতা ভূতুয়েল কুবি আক্ষেপ করে বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের নামে যদি অনিয়ম করা হয়, তাহলে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। এ ধরনের ঘটনায় সঠিক তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
এএস