সন্দ্বীপে উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশার মানুষদের সঙ্গে আজ সকাল ১১ টায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, সড়ক ও রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, নৌপরিবহন সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব, এলজিইডি সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর প্রতিনিধিরা।
দুই দিনের সফরের প্রথম দিন বিভিন্ন প্রকল্প ও চলমান অবকাঠামোগত কাজ পরিদর্শনের পর দ্বিতীয় দিনের এই সভাকে কেন্দ্র করে সন্দ্বীপবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিগত কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো উন্নয়ন-দাবিগুলো আজ সরাসরি সরকারি প্রতিনিধিদের সামনে উপস্থাপিত হয়।
বক্তারা সন্দ্বীপের দীর্ঘদিনের নৌ-সড়ক অবকাঠামো সংকট, ফেরিঘাটের সমস্যা, গুপ্তছড়া–বাঁশবাড়িয়া নৌরুটে নিয়মিত ড্রেজিং-এর প্রয়োজনীয়তা, রিংরোড নির্মাণ, দেলোয়ারখাঁ ও গুপ্তছড়া সড়ক প্রশস্ত-করণ, বিদ্যুৎ সংযোগ সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সরাসরি বলেন, “দুর্নীতি গত ১৬ বছর ছিলো, এখনও আছে।” তিনি আক্ষেপ করে জানান, উন্নয়নকাজের অগ্রগতির প্রধান বাধা হচ্ছে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা, যা দূর না হলে কোনো প্রকল্পই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।
স্থানীয় বক্তারা বলেন, তারা কাউকে দোষারোপে বিশ্বাস করেন না; বরং এই সফরকে ইতিবাচক-ভাবে কাজে লাগিয়ে যুক্তিসঙ্গত দাবি তুলে ধরতেই তারা সভায় অংশ নিয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে প্রতিশ্রুত প্রকল্পগুলো অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে উল্লেখ করে তারা জানান, ফেরিঘাটে সারাবছর ড্রেজিং নিশ্চিত না হলে যাতায়াত সংকট দূর হবে না। একই সঙ্গে উপজেলার পুরনো রাস্তাঘাট সংস্কারের জন্য এলজিইডির মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা জোর দিয়ে বলেন।
সংশ্লিষ্ট সচিবরা ও দপ্তর প্রধানরা বক্তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং একে একে প্রতিটি দাবি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ সংযোগ বৃদ্ধি ও লোড উন্নয়নের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা রিংবাঁধ রক্ষায় নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন এবং ফেরিঘাট এলাকায় নিয়মিত ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সভায় জানান, সন্দ্বীপবাসীর উপস্থাপিত সব দাবি সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে, যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠানো হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—বাস্তব উন্নয়নের সূচনা হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে দ্বীপবাসীর একটাই প্রত্যাশা—সন্দ্বীপ যেন অবশেষে তার নৌ, সড়ক, বিদ্যুৎ ও জনসেবায় দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে বাস্তব উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।
এর আগে সকাল ১০টায় একই স্থানে আসন্ন নির্বাচন-কালীন প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি পৃথক সভা করেন জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান।