জুলাই বিপ্লবে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রায় দেড় বছর চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার মারা যান ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের শফিকুল ইসলাম শফিক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠাতে চাইলেও তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে আপত্তি জানান। অবশেষে দেশের মাটিতেই মারা যান তিনি।
জানা গেছে, হালুয়াঘাটের দর্শাপাড়া এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে শফিকুল ইসলাম পরিবারসহ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী পূর্ব এলাকায় বাস করতেন। গত বছরের ৫ আগস্ট দুপুরে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অবস্থায় ডান পায়ের উরুতে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) পাঠানো হয়।
শফিকুল ইসলাম সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা ছিলেন। তার গেজেট নম্বর ৭২২। হালুয়াঘাট জুলাই শহীদ ও আহত সেলের প্রতিনিধি রিদওয়ান সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শফিকুল ইসলাম দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সরকারিভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হলেও তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি দেশের মাটিতেই চিকিৎসা ও মৃত্যুবরণ করতে চেয়েছিলেন।
সম্প্রতি তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। গত সোমবার সকাল ৭টায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। পরদিন মঙ্গলবার সকালে হালুয়াঘাট উপজেলার দর্শারপাড় মামা পাগলা মাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়। এ জুলাইযোদ্ধার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির শহীদ ও আহত সেলের সমন্বয়কারী আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেন, আহত জুলাইযোদ্ধারা এখনো পর্যাপ্ত ও উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। একই সঙ্গে অনেক শহীদ পরিবার আজও ন্যায্য বিচার পাচ্ছে না।