হোম > সারা দেশ

ধান সংগ্রহ অভিযানে ভাটা, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে মুনাফা লুটছে মধ্যস্বত্বভোগীরা

আমার দেশ ডেস্ক

রায়গঞ্জ বাজারে বিক্রি করতে আনা ধান। ছবি: আমার দেশ

ধান নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন কৃষক। একদিকে ধানের দাম কম, অন্যদিকে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। এতে ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। খাদ্য বিভাগের কঠোর মানদণ্ড ও অতিবৃষ্টি-জলাবদ্ধতায় ধানের মান নষ্ট হওয়ায় কৃষকেরা গুদামে ধান দিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মান কমে যাওয়ায় কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৩ মে থেকে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৬২৬ মেট্রিক টন ধান।

কৃষকদের অভিযোগ, অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় হাওরের ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়ায় অনেক ধানের রঙ কালচে হয়ে গেছে। অথচ খাদ্যগুদামে ধান দিতে হলে ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা ও উজ্জ্বল মান নিশ্চিত করতে হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ কৃষক গুদামে ধান দিতে না পেরে খোলাবাজারে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। বর্তমানে অনেকেই প্রতি মণ ধান ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

তাদের দাবি, চলতি পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্দ্রতার শর্ত কিছুটা শিথিল করা হলে কৃষকেরা সরকারি গুদামে ধান সরবরাহে আগ্রহী হতেন। এছাড়া শুকনো ধান নিয়েও নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে ধীরে ধীরে খাদ্যগুদামমুখী হতে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা।

জাওয়ার হাওরের কৃষক আলী নুর বলেন, ‘আমার আট কেদার জমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। এখন সংসার চালাতে অন্যের জমিতে ধান কাটছি।’

দেখার হাওরের কৃষক রাজু মিয়া বলেন, ‘গুদামে ধান দিতে আগে লটারিতে নাম উঠতে হয়। এরপর ধান ঝকঝকে না হলে নেয় না। অনেক কষ্টে ভেজা ধান শুকিয়েছি, কিন্তু রঙ কালো হয়ে গেছে। এসব ধান গুদামে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই আগ্রহও হারিয়ে ফেলেছি।’ মাঠিয়ান হাওরের কৃষক আং মালিক বলেন, ‘গুদামে ধান নিতে গেলে পরিবহন খরচই অনেক। এরপর আর্দ্রতা পরীক্ষা করে নানা কারণে ধান ফেরত দেয়। এত খরচ করে আরো ক্ষতির ঝুঁকি নিতে চাই না। তাই বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করছি।’ কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে হাওরের শতভাগ ধান নির্ধারিত আর্দ্রতা ও মান বজায় রাখা সম্ভব নয়। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় খাদ্য বিভাগের শর্ত কিছুটা শিথিল করা প্রয়োজন। পাশাপাশি লটারির পরিবর্তে সহজ পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করলে কৃষকদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। এদিকে কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, গুদামকেন্দ্রিক দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে নিম্নমানের ধানও গ্রহণ করা হয়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বি এম মুশফিকুর রহমান বলেন, গুদামে উজ্জ্বল বর্ণ ও চিটামুক্ত ধান ক্রয় করা হচ্ছে। প্রতিদিন কৃষক ধান বিক্রি করতে আসছেন। কৃষকরা ধান দিতে আগ্রহী। আবহাওয়া ভালো হলে ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওরে এখন বোরো ধান কাটার মৌসুম। হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কৃষকদের ব্যস্ততা থাকলেও সেই ব্যস্ততার আড়ালে লুকিয়ে আছে হাজারো বর্গাচাষির কান্না। কেউ ধান কাটছেন, কেউ রোদে শুকাচ্ছেন, আবার কেউ হিসাব মেলাতে গিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ছেন ঋণ আর লোকসানের ভারে। বিশেষ করে ভূমিহীন বর্গাচাষিদের দুর্দশা এবার যেন আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

হাওরাঞ্চলে বোরো মৌসুমে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন হাজারো ভূমিহীন কৃষক। কিন্তু জমির মালিকানা না থাকায় তারা ব্যাংক থেকে সহজে কৃষিঋণ পান না। ফলে বাধ্য হয়ে এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করতে হয় তাদের। এবার অতিবৃষ্টি, আগাম বন্যা ও জলাবদ্ধতায় হাওরের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এসব বর্গাচাষি।

নিকলীর ছোট-বড় হাওরে এখন ধান কাটার উৎসব চললেও অনেক কৃষকের ঘরে নেই আনন্দ। ফসল হারিয়ে তারা এখন ঋণের কিস্তি, মহাজনের চাপ আর সংসারের খরচ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

এবার টানা বৃষ্টিপাত ও আগাম বন্যায় অনেক কৃষকের জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে ফসল হারিয়ে ঋণের বোঝায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা। অনেকেই এখন ধারদেনার চাপ সামলাতে বাড়িছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক নিকলী শাখার ব্যবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী জমির মালিক ভূমিহীন কৃষকের পক্ষে সুপারিশ করলে কৃষিঋণ দেওয়া সম্ভব। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিকলীতে ৪৩০ জন কৃষকের মাঝে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।’

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি জানান, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সকল হাটবাজারে ধানের মূল্য এক হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। এই মূল্য নিয়ে বিপাকে পড়েছে মেহনতি সাধারণ কৃষক। একদিকে প্রকৃতির বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধান, অন্যদিকে এলাকার ধান ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমিয়ে দিচ্ছে বলে কৃষকের অভিযোগ। এই বিষয়ে লোহাগড়ার স্থানীয় কয়েকজন ধান ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি ও মিলাররা কম দামে ধান ক্রয় করাতে ধানের বাজারে ধস নেমেছে।

এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘লোহাগড়ায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত। আর ধানের মূল্য তো সরকার নির্দিষ্ট একটা দাম দিয়েছে। তবে কেন স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীরা এমন সিন্ডিকেট করেছে, তা আমার জানা নাই। নড়াইল জেলার ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামীম হাসান বলেন, ‘ধান ক্রয়-বিক্রয় ভোক্তা অধিকার আইনে পড়ে না। বিষয়টি কৃষি বিপণন বিভাগের, আপনারা সেখানে যোগাযোগ করুন।’

শিবচরে কুকুরের কামড়ে আহত ১৪, তিন শিশু আশঙ্কাজনক

টঙ্গীতে নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত নূরনবীকে দেখতে জনতার ভিড়!

পাকুন্দিয়ায় ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

ভাঙ্গায় দুই কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

কোরবানির ঈদে গরুর ব্যবসা করতে চান কুমিল্লার এমপি

উখিয়ায় মাদরাসাছাত্রীর লাশ উদ্ধার

রংপুরে দেশীয় অস্ত্রসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

জারিয়া-দুর্গাপুর রেললাইন সম্প্রসারণ পরিদর্শনে ডেপুটি স্পিকার ও রেল প্রতিমন্ত্রী

আকস্মিক পরিদর্শনে এমপি, তিন বিদ্যালয়ে মিলল না শিক্ষক