আওয়ামী লীগ নেতার জামিনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের উদ্যোগে বর্জন করা হয়। আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্ত নেন আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার মো. ইউনুছের জামিন প্রদানের প্রতিবাদে। তারা আদালতের বিচারক সারাফাত উল্লাহর অপসারণ দাবি করেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি এবং স্থানীয় আদালতের কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বিক্ষোভ ও আদালত বর্জন ব্যাপক প্রভাব ফেলে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের প্রাঙ্গণে আইনজীবীরা সমবেত হন। সমাবেশে অংশ নেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম-এর নেতৃবৃন্দ এবং জেলা পাবলিক প্রসিকিউটরসহ অন্যান্য আইনজীবী।
আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিভিন্ন হামলা, হত্যা ও গুমের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি আদালতের জামিন পেয়েছেন। তারা বলেন, "দীর্ঘ সময় মামলা চলমান থাকলেও আদালত এই ধরনের জামিন দিয়ে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে।"
এছাড়াও তারা উল্লেখ করেন, বিচারক সারাফাত উল্লাহ আওয়ামী লীগ নেতা সমর্থিত রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে বরিশালে এসেছেন। এজন্য তারা অবিলম্বে বিচারকের অপসারণ দাবি করেন।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, "যতদিন উক্ত বিচারক বরিশালে থাকবেন, আদালত কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান আমরা জানাচ্ছি।"
অন্য বক্তারা, যেমন অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ পান্না, এ ঘটনায় বিচারপ্রার্থীদের অসুবিধা এবং স্থানীয় বিচার কার্যক্রমে প্রভাবের ওপর আলোকপাত করেন।
গতকাল সোমবার বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির অফিসে ভাঙচুর এবং নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনায় তালুকদার মো. ইউনুছকে জামিন দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন এবং দাবি জানান, এমন পরিস্থিতিতে আদালতের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।
বিধি এবং আইনিপ্রক্রিয়া সম্পর্কিত তথ্য অনুসারে, জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত আইনানুগ নিয়ম মেনে কাজ করে, তবে রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপট এই ধরনের সংঘর্ষ সৃষ্টি করে।
বিক্ষোভের কারণে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা দৈনন্দিন কার্যক্রমে সমস্যার সম্মুখীন হন। আইনজীবীদের এ ধরনের পদক্ষেপ সামাজিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
এই ধরনের পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আদালত কর্তৃপক্ষকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। পাশাপাশি, আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জনসাধারণের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া, সরকারের উচ্চ আদালতের এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।