আওয়ামী লীগ নেতার জামিনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা।
মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। এ সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুছকে জামিন দেওয়ার ঘটনায় বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারাফাত উল্লাহর অপসারণ দাবি করেন। তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম বর্জন করার ঘোষণা দেন আইনজীবী সমিতির নেতারা।
সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির অফিসে ভাঙচুর এবং দলের নেতাকর্মীদের মারধর করার মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তারুকদার মো. ইউনুছকে জামিন দেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারাফাতউল্লাহ। আওয়ামী লীগ নেতার জামিনের পরপরই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
তারা জানান, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর যারা খুন, গুম, হত্যাকাণ্ড ও হামলা-মামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, আদালত কোনো প্রকার অনুশোচনা ছাড়াই এসব ফ্যাসিস্টের জামিন দিয়ে দিচ্ছে। এমন ঘটনায় আমরা নির্বাক। ১৭ বছর হামলা-মামলা ও গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোকে আমরা কী জবাব দেব?’
তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কীভাবে তিনি জামিন পেয়েছেন, বিষয়টি দেখা উচিত। তার নামে আরো রাজনৈতিক বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। সেগুলো চলমান থাকলেও আদালতে অন্য মামলায় তাকে আটক দেখায়নি।
অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুছকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন।
এ সময় উল্লিখিত বিচারককে ওবায়েদুল কাদেরের ভাগ্নে বলে স্লোগান দেন এবং তার অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জনেরর ঘোষণা দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, উল্লিখিত বিচারক আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে বরিশালে এসেছেন।
যেখানে বিস্ফোরক মামলায় মানুষজনকে জেলা জজ আদালত থেকে জামিন নিতে হচ্ছে, সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নিম্ন আদালত থেকেই জামিন দেওয়া হচ্ছে। গতকাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস আদালতে এলেন এবং জামিন পেয়ে চলে গেলেন।
তাই অবিলম্বে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের অপসারণ দাবি করেন তারা। তিনি যত দিন বরিশালে থাকবেন, তত দিন উল্লিখিত কোর্ট বর্জন করার ঘোষণা দেন তারা। পাশাপাশি অন্য আইনজীবীদের উল্লিখিত কোর্ট বর্জের আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য বিচারপ্রার্থী। বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জাতীয়ততাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ পান্না, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভেকেট আবুল কালাম আজাদ, আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন মন্টু, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীর্জা রিয়াজ হোসেন, আইনজীবী ফোরামের ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন প্রমুখ।