রাঙ্গামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ের জল উৎসবের মধ্যদিয়ে শেষ হলো বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। শুক্রবার বেলা ১১টায় চিংহ্লা মং চৌধুরী মারী ষ্টেডিয়ামে মারমা সাংষ্কৃতিক সংস্থা (মাসস) কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা (জল উৎসব) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।
মন্ত্রী বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের সুষম উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। পার্বত্যাঞ্চলের অঞ্চলের উন্নয়নে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাহাড়ের মানুষের সংকট নিরসনে কাজ শুরু করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সকল ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীকে ‘বাংলাদেশি’ জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
সাংগ্রাই উদযাপন কমিটির আহবায়ক পাই চিং মংমরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উৎসবে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লে,কর্ণেল মোহাম্মদ একরামুল রাহাত, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রকিব উদ্দিন, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, মাসস কাপ্তাই উপজেলার সভাপতি মংসাথোয়াই মারমা প্রমুখ।
সাংগ্রাইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো 'জলকেলি' বা পানি খেলা। মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, এই মৈত্রী পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে যাবে গত বছরের সব। মঞ্চে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ গান পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি রঙিন পোশাকে সেজে তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। এছাড়া শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন, যা পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
আয়োজকরা বলছেন উৎসবের মাধ্যমে সবার মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি করা। তারা মনে করেন, জলকেলি বা সাংগ্রাই কেবল মারমা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি নয়, বরং এটি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে মৈতী ও একতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম।