চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি অরবিন্দু ধর বাসু ভারতে জমি দখলের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার মায়াপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইসঙ্গে তার ছেলে প্রান্ত ধরকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আজ ভারতের মায়াপুর নবদিপ আদালতে তোলা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, অরবিন্দু ধর বাসুর বাসা চট্টগ্রামের হাজারিগলিতে। ভারতীয় আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড করে সেখানে চোরাইপথে যেত এবং পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুরে জমির ব্যবসা করতো। অরবিন্দু ধর বাসু চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিনের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। বর্তমানে হাজারিগলি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের পাশের বিল্ডিংটি অরবিন্দু ধর বাসুর। তিনি ইসকনের সদস্যও।
চট্টগ্রামের নন্দনকানন ইসকন মন্দিরের সভাপতি পণ্ডিত গধাদর দাস ব্রহ্মচারীর আশ্রিত এবং অনুসারী হিসেবে পরিচিত তিনি।
গত ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ সময় আসামিকে প্রিজন ভ্যানে ওঠানোর সময় তার অনুসারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে আইনজীবীদের একটি অংশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেয়।
এসময় চিন্ময়ের অনুসারী ও ইসকনের সদস্যরা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি স্থাপনা। এই সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫৭ নম্বর আসামি এই অরবিন্দু ধর বাসু।
ভারতের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ‘বেঙ্গল টুডে ১৮’ বলা হয়, অরবিন্দ ধার বাসু জালিয়াতি করে ভারতের মেডিকেল ভিসায় আসেন। জালিয়াতি করে অরবিন্দ ও তার ছেলে ভারতীয় আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড তৈরি করেছে। তিনি ভারতের নবদিপে জায়গা দখল করেন। সেই জায়গায় হোটেল খুলে ব্যবসা করছিলেন তারা।