হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি মহেশখালীর প্রান্তিক লবণ চাষিরা

উপজেলা প্রতিনিধি, মহেশখালী (কক্সবাজার)

সারা দেশে লবণ উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার। এই জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী প্রধান লবণ উৎপাদনকারী এলাকা । এখানকার ৮০ শতাংশ পরিবার লবণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। বছরে এখানে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়। সম্প্রতি লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। দালাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি এই শিল্পে জড়িত প্রান্তিক চাষিরা।

চাষিরা জানান, জমি বর্গা নেওয়া, মাঠের জন্য পলিথিন কেনা ও লবণ বিক্রি-
সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ দালাল চক্রের হাতে। দালালদের খুশি করতে পারলেই কিছুটা লাভের মুখ দেখেন চাষিরা। তাছাড়া হতাশা আর দুঃখের শেষ থাকে না তাদের।

চাষিরা বলেন, গত মৌসুমের চেয়ে মণপ্রতি লবণের দাম ১৫০-২০০ টাকা কমে গেছে। এখন এক মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা দামে। গত মৌসুমে বিক্রি হয়েছে ৫০০-৫৫০ টাকা।

এখন দাম মণপ্রতি ৩০০ টাকা হলেও দালালরা তাদের ২০০ টাকা ধরিয়ে দেয়। বাইরে বিক্রি করলে দালালদের এক মণে ১০০ টাকা কমিশন দিতে হয়। অথচ লবণের মণপ্রতি উৎপাদন খরচ ৩০০ টাকার বেশি । এতে চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে লবণ উৎপাদন অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লবণ চাষি হাসেম বলেন, মালিকরা আমাদের জমি বর্গা দেয় না। তারা দালালদের বর্গা দেয়। দালালরা প্রতি কানি ৫০-৬০ হাজার টাকায় বর্গা নেয়। এরপর তারা আমাদের কাছে বর্গা দেয় ৭০-৮০ হাজার টাকায়। সবকিছু দালালদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। লবণ আমরা বিক্রি করতে পারি না। নিজেরা বিক্রি করলে দালালদের কমিশন দিতে হয়।

চাষি ছৈয়দুল করিম জানান, “আমাদের উৎপাদিত লবণ দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারে। তারপরও বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এ কারণে দেশি লবণের দাম পড়ে গেছে। দালালদের ৫০-১০০ টাকা কমিশন দিয়ে লবণ বিক্রি করতে হয়। আমরা উৎপাদন খরচ তুলতে পারি না। এই পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে টিকে থাকব?

সরেজমিন দেখা যায়, এই দ্বীপ উপজেলার চাষিরা লবণ মাঠে কাজ করছেন। মাঠের ওপর কালো পলিথিন বিছিয়ে সাগরের লোনা পানি জমিয়ে আর সূর্যের তাপে পানি শুকিয়ে ফুটানো হচ্ছে লবণ। লবণের দাম কমে যাওয়ায় তাদের লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া আমদানিকৃত লবণের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে তারা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।

বড় মহেশখালীর লবণচাষি করিম, মালেক, রশিদ বলেন, দালাল চক্র আমাদের কাছ থেকে ১ মণ ধরে নিয়ে নেয় ৫৫-৬০ কেজি লবণ। দালালের বাইরে বিক্রি করতে গেলে মিল মালিক সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে হয়। বাজারে লবণের দাম ৪০০-৪৫০ টাকা মণ হলেও ওরা দেয় ৩০০ টাকা। এই টাকা থেকে দালালদের ৫০-১০০ টাকা কমিশন দিতে হয়। কবে এই সিন্ডিকেট থেকে রক্ষা পাব জানি না?

বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাফর ইকবাল ভূইয়া বলেন, গত বছরের মজুত থাকায় লবণের দাম একটু কম। তবে দালালের বিষয়ে সচেতনতার বিকল্প নেই। চাষিদের সমিতি করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে দালালরা সুযোগ না পায়। চাষিদের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এখন ব্যাংকগুলো চাষিদের সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে।

জামায়াতের সাবেক আমির মকবুল আহমাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও কবর জিয়ারত

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

জহিরের কৃত্রিম পা সংযোজন ও চিকিৎসায় জামায়াতের সহায়তা

শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা, জেলা পরিষদ প্রশাসককে ঘিরে সমালোচনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

মহেশখালীতে অর্ধশতাধিক যুবক নিখোঁজ, মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তারের দাবি

রাঙামাটিতে জল উৎসবে শেষ হলো নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবরণ

মাদকের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পটিয়ার স্বার্থে সবাই এক

শিক্ষার্থীদের রোদে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নিলেন এমপি জসীম উদ্দিন