ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি যুবক। সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, বজলুর রশীদ (৩৮) ও মনোহার আলী (৩৬)। তাদের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায়। বজলুর রশীদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে ও মনোহার আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে।
নিহত মনোহার আলীর ভায়রা ভাই মিলন সর্দার তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মনোহার আলী চার বছর আগে সুদে টাকা নিয়ে ইরাকে পাড়ি জমান। বজলুর রশীদ দেড় বছর আগে সেখানে যান। তবে তাদের কারও বৈধ কাগজপত্র ও আকামা ছিল না। ইরাকে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন।
কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী প্রাইভেটকার তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তাদের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তাদের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত মনোহার আলীর স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তান রয়েছে।
মনোহার আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী ঋণ করে ইরাকে গিয়েছিল। সেখানে সে ভালো অবস্থায় ছিল না। এর মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর এলো। এখন আমরা কীভাবে চলব? আমাদের সন্তানদের কে দেখবে? সরকারের কাছে দাবি, যেন দ্রুত আমার স্বামীর লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার ছোট ভাই দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। ভোররাতে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা তার লাশটি যেন দ্রুত দেশে আসে, সেজন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। বজলুর রশীদের স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তান রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, লাশ দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে পরিবারের প্রতি আমার বার্তা- তারা যেন দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো তাদের লাশ দেশে আনার ব্যাপারে দূতাবাসকে যেনো চিঠি দেওয়া হয়।
এমই