হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

থামেনি রাজশাহীর দুই শহীদ পরিবারের কান্না

মঈন উদ্দিন, রাজশাহী

ঘটনার প্রায় এক বছর পার হলেও এখনো থামেনি কান্না। সন্তান হারানোর শোক পাথরের মতো চেপে বসেছে রাজশাহীর দুই শহীদ পরিবারে। বলছিলাম গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হওয়া আলী রায়হান ও সাকিব আনজুমের পরিবারের কথা। রাজনীতি, সন্ত্রাস ও বিচারহীনতার এক নির্মম বাস্তবতায় হারিয়ে যাওয়া এ দুই তরুণের পরিবারের একটাই দাবি—ফ্যাসিবাদী যেন আর ফিরে না আসতে পারে আর যেন খালি না হয় কোনো মায়ের কোল।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের হামলায় শহীদ হন সাকিব আনজুম (২৮) । এদিন পুলিশ ও তৎকালীন সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের গুলি থেকে বাঁচতে মহানগরীর শেখেরচক এলাকার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। পরে সেখানেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডাররা। একই সময় শহরের আলুপট্টি মোড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন রাজশাহী কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আলী রায়হান (২৮)। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট তিনি শহীদ হন।

দুটি ঘটনায় আলাদা মামলা হয়েছে, তবে তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। রাজশাহী মহানগর পুলিশ বলছে, দুই মামলারই তদন্ত প্রায় শেষের পথে।

শহীদ আলী রায়হান রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মঙ্গলপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী এ ছাত্র রাজশাহী কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও ২০২৩ সালে মাস্টার্স শেষ করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি।

রায়হানের অন্যতম সহযোদ্ধা রাজশাহী মহানগর শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান আইন ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক নাজির আহমেদ সুপ্ত বলেন, আলী রায়হান ভাই সংগঠনের কাজের জন্য বাড়িতে খুব কম যেতেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগের রাতে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। ফজরের নামাজের পর মোনাজাতে তিনি শহীদের মর্যাদা কামনা করেন। পরে সবার কাছে মাফ চেয়ে বলেন, পরিস্থিতি ভালো না, কখন কী হয় বলা যায় না। সে কথাগুলোই পরে বাস্তবে রূপ নিয়েছিল।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট সকালে নাশতা না খেয়েই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে যান রায়হান ভাই। দুপুর ১টার দিকে মিছিল নিয়ে যখন আমরা আলুপট্টির দিকে এগোতে থাকি। সে সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসীদের গুলি এসে আলী রায়হান ভাইয়ের কপালে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অপারেশনের পর তাকে একটু সুস্থ মনে হলেও পরে শাহাদাত বরণ করেন।

আলী রায়হানের ছোট ভাই রানা বলেন, ভাইয়ের শোকে বাবা-মা একেবারে ভেঙে পড়েছেন। আমাদের শুধু একটা চাওয়া—যারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের কঠোর বিচার হোক। যেন আর কারো ভাই এভাবে মারা না যায়।

শহীদ আলী রায়হানের বাবা মুসলেম উদ্দিন বলেন, সন্তানকে তো আর ফেরত পাব না। কিন্তু যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই, দ্রুত বিচার চাই । এ সময় তিনি সব আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

অন্যদিকে রাজশাহী মহানগরীর হাদির মোড় এলাকার রায়নগরে সাকিব আনজুমের বাসায় গিয়ে ছেলের কথা তুলতেই বাবা মাইনুল হক ডুকরে কেঁদে ওঠেন। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, আমার ছেলেটা অনেক মেধাবী ছিল। ও চলে যাওয়ার পর আমরা কেউ ভালো নেই। মামলাও হয়েছে, কিন্তু বিচার কবে হবে জানি না। এ সময় দেশে ন্যায়বিচার আছে কি না—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সবাই নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, দুটি মামলার তদন্ত শেষের দিকে। সাকিব আনজুম হত্যা মামলায় ৪২ জন এবং আলী রায়হান হত্যা মামলায় ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে মোট আসামির সংখ্যা দুই মামলায় ১৫০ জনের ওপর।

বগুড়ায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

মাদকসেবীদের তালিকা চাই: এমপি আব্দুল আজিজ

মেগা প্রকল্প হবে, মেগা দুর্নীতি নয়: জিএম সিরাজ

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারের পাশে জামায়াতের এমপি মিজানুর

সীমান্ত থেকে দুর্লভ কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার

কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা, ২১ লাখ টাকাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক

নদীতে মাছ ধরার সময় ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

চাটমোহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ'লীগের ইফতার মাহফিল, বিক্ষোভ

নওগাঁয় মুকুলে ছেয়ে গেছে আমবাগান, ভালো ফলনের প্রত্যাশা মালিকদের

সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে উন্নয়নে সহায়তা চাইলেন এমপি মিলটন