নির্বাচনি জনসভায় এটিএম আজহারুল ইসলাম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির মজলুম জননেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা দেশপ্রেমিক ও ইসলামের পক্ষের শক্তি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা জীবন বাজি রেখে নতুন করে এই বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে, সেই অগ্রসৈনিকেরাই ১০ দলীয় জোটের কান্ডারি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর টাউন হল মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।
এ টি এম আজহার আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট জালিম সরকার বিনা কারণে বিনা দোষে আমাকে ১৪টি বছর জেলের অন্ধকার কুঠিরে বন্দি করে ফাঁসির কাস্টে রেখেছিল। আমাকে বিনা কারণে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। ’২৪-এর জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাংলার তৌহিদি জনতা ও ইসলামপ্রিয় মানুষ এবং আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে নতুন করে জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি যত দিন বেঁচে আছি, মানুষের জন্য ন্যায়ের পক্ষে ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাব।’
নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, সামনে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন । এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে এখনো ব্যর্থ রয়েছেন। সবার জন্য সমান সুযোগ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কয়েক দফা সাক্ষাৎ করেছি। তার পরেও যদি এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করে বা বিগত সরকারের পদাঙ্ক অনুকরণ করে, তাহলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা তা কখনো মেনে নেবে না, অন্যায় কোনো নির্বাচন হতেও দেবে না। আর কখনো দিনের ভোট রাতে হবে না, কেউ কেন্দ্র দখল করে ছিল মারতে পারবে না। সবাই নির্ভয়ে নির্দ্বিধায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দেবে।
গণভোট সম্পর্কে এ টি এম আজহার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ইতিপূর্বে দলমত-নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে স্বাক্ষর করেছিল। যেখানে সবাই ঐক্যমত পোষণ করেছিল। এখন সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন পড়ছে। সেই গণভোটে ফ্যাসিবাদের দোসর একটি পক্ষ প্রকাশ্যে না ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জুলাইয়ের বিরোধিতা করছে। তাই সামনে নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ’র পক্ষে সিল মারতে হবে।
দুর্নীতি সম্পর্কে নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন, একসময় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছিলেন। ওই সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কারো নামে এক পয়সারও দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়মের অভিযোগ কেউ তুলতে পারেনি। কোনো নেতাকর্মীর নামে কখনো কোনো দুর্নীতির মামলা হয়নি। তাই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দুর্নীতি করতেও জানে না, আগামীতে কাউকে দুর্নীতি করতেও দেবে না। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের কাজ হলো মানুষের কল্যাণে কাজ করা, ইসলামের খেদমত করা, দেশকে এগিয়ে নিতে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই একসাথে চলা। জামায়াত কখনো কাউকে অন্য চোখে দেখে না। দেশের কল্যাণে, ইসলামের পথে, ন্যায়ের জন্য যারাই কাজ করবে, তাদের পক্ষেই আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষ ভোট দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।