লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করে পাঁচ কৃষকের সাত একর জমির তরমুজ নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ ঘটনায় দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
জানা যায়, উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের সরদারপাড়া এলাকার কৃষক ওসমান গণি, আবুল বাশার, শাফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও শাহীনুর রহমান তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে সাত একর জমিতে হাইব্রিড ‘মাধুরী’ জাতের তরমুজ চাষ করেন। তিন মাস আগে রোপণ করা এ ক্ষেতে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বাবদ ১৪-১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই তরমুজ বাজারজাতের উপযোগী হতো। কৃষকদের প্রত্যাশা ছিল তরমুজ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আয় হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে তিস্তার বর্তমান চরাঞ্চলটি ছিল দহগ্রামের জনবসতি এলাকা। নদীভাঙনে বসতভিটা বিলীন হলে পরিবারগুলো অন্যত্র সরে যায়। কয়েক বছর আগে চর জেগে উঠলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সেখানে বিভিন্ন ফসলের আবাদ শুরু করেন। তিন মাস আগে ওই জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়। জমি নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুল মান্নানের সঙ্গে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল মান্নান ও তার ছেলে হাবিবুল্লাহ রাতের অন্ধকারে আগাছানাশক ছিটিয়ে ক্ষেত নষ্ট করে দেন। এ ঘটনায় কৃষক ওসমান গণি বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত রোববার ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা। কৃষক শাফিউল ইসলাম জানান, গরু-ছাগল বিক্রি ও ঋণ নিয়ে তারা চাষাবাদ করেছেন। বিষ প্রয়োগে গাছগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ন্যায়বিচার চান। অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় এবং তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, তিস্তার চরে তরমুজ ক্ষেতে আগাছানাশক প্রয়োগের বিষয়টি সরেজমিন দেখা হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ অনেক। গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখতে সেচ, ডিএপি সার বা প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) তাজরুল ইসলাম সরদার বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।