হোম > বাণিজ্য

ভারতের বন্ড বাজার ক্ষতিগ্রস্ত, সতর্ক বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

স্টাফ রিপোর্টার

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য রুপির ওঠানামার বিপরীতে সুরক্ষা নেওয়াকে আরো ব্যয়বহুল ও জটিল করে তুলেছে। ফলে ভারতীয় বন্ডের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা শেয়ারবাজারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে।

রুপির মান স্থিতিশীল রাখতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার মধ্যে আর্বিট্রেজ ট্রেড সীমিত করার বিধিনিষেধও রয়েছে। এটা মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা কমিয়েছে। তবে এর বিনিময়ে বিদেশি বন্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য অনশোর ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) এবং অফশোর নন-ডেলিভারেবল ফরোয়ার্ড (এনডিএফ) উভয় বাজারেই ঝুঁকি মোকাবিলার খরচ বেড়ে গেছে।

অনশোর বাজারে এক বছরের ঝুঁকি মোকাবিলা খরচ প্রায় ৩০ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। অফশোর বাজারে এ বৃদ্ধির হার আরো বেশি, সেখানে এনডিএফ ঝুঁকি মোকাবিলা খরচ বেড়েছে প্রায় ৭০ বেসিস পয়েন্ট।

আরবিআইয়ের এ পদক্ষেপের পরপরই এনডিএফ ঝুঁকি মোকাবিলা খরচ গত ১২ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এর ফলে ঝুঁকি মোকাবিলা করা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি কার্যকর করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইস্টস্প্রিং ইনভেস্টমেন্টসের পোর্টফোলিও ম্যানেজার ম্যাথিউ কোক বলেন, এ ধরনের উচ্চঝুঁকি মোকাবিলার ব্যয় ভারতীয় সরকারি বন্ডের প্রায় সব মুনাফা গ্রাস করে নিচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা যে পরিমাণ ঝুঁকি নিচ্ছেন, তার বিনিময়ে তারা এখন অনেক কম প্রতিদান পাচ্ছেন।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম এমনিতেই ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। তার ওপর আরবিআইয়ের নতুন এ পদক্ষেপগুলো ভারতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে আরো নেতিবাচক করে তুলেছে।

ভারত তার চাহিদার তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে এবং এর জন্য দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ক্লিয়ারিং হাউসের তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভারতীয় সরকারি বন্ড বিক্রি করে দিয়েছেন। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণার পর বিক্রির এ গতি আরো বেড়েছে।

কিছু বিনিয়োগকারী বলছেন, আরবিআইয়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং কারেন্সি হেজিংয়ের ওপর তার প্রভাবের পর বিদেশি বিনিয়োগ ফিরে আসার একমাত্র কারণ হয়তো আর তেলের দাম থাকবে না।

ফার্স্ট সেন্টিয়ার ইনভেস্টরসের এশিয়ান ফিক্সড ইনকামের প্রধান নাইজেল ফু বলেন, তেলের দাম এ পর্যায় থেকে কমে এলেও ভারতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের মনোভাব খুব দ্রুত পরিবর্তন হবে বলে আমি মনে করি না। এক্ষেত্রে তিনি রুপির স্থিতিশীলতা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা একবার বাজার থেকে বেরিয়ে গেলে সাধারণত তারা বেশ ধীরগতিতে ফিরে আসেন, বিশেষ করে যখন মুদ্রাসংক্রান্ত ঝুঁকিগুলো রয়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উন্নতি ঘটার জন্য বন্ড থেকে প্রাপ্ত মুনাফার হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির প্রয়োজন হতে পারে।

বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহজীকরণে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করবে ইউএনডিপি

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে এখনো ‘মুজিব শতবর্ষ’

উৎপাদন ধসের পর ক্রয়াদেশ হারানোর শঙ্কা পোশাক খাতে

শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ৭৩ টন কাগজ জব্দ

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কত কমল

কৃষিকে আধুনিক করতে পার্টনার প্রকল্পে অগ্রগতি

‘ডাবল সার্ভার’ বন্ধে ছয় সপ্তাহ সময়: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

কর ফাঁকি রোধে স্বয়ংক্রিয় ইন্টিগ্রেটেড প্রোফাইল চালু করবে এনবিআর

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ

অননুমোদিত ৩১ ঋণ অ্যাপ নিয়ে সতর্ক করল বিএফআইইউ