ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে ‘১০০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগটি অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক গত ৫ নভেম্বর সংস্থার উপ-পরিচালক এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রয়াত লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান এখন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান। তার বড় মেয়ে সিমিন রহমান গ্রুপের সিইও। ছোট মেয়ে শাযরেহ হকও ট্রান্সকম গ্রুপের একজন পরিচালক।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মাহবুবুর জানান, অভিযোগ অনুসন্ধানের কাজ চলছে।
দুদক জানিয়েছে, সিমিনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কোনো ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা বা সম্পদ বা সম্পত্তি জব্দ করার প্রয়োজন হলে তা লিখিতভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ শাখাকে জানাতে বলা হয়। এছাড়াও দ্রুত অনুসন্ধান করার জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
দুদক জানায়, আগের দুদকের তিন মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল ও অবৈধভাবে শেয়ার হস্তান্তরের অভিযোগ এনেছিলেন শাযরেহ। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছিল তার মা, বোন, ভাগ্নেসহ আটজনকে। ওই মামলায় ট্রান্সকমের পাঁচজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। এ তিন মামলার সূত্র ধরে পিবিআই ট্রান্সকম গ্রুপের গুলশানের হেড অফিস থেকে বেশ কিছু নথি জব্দ করে।
উল্লেখ, মহামারি করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে ২০২০ সালের ১ জুলাই ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের মৃত্যু হলে এক মাসের মাথায় গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসেন লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান, বড় মেয়ে সিমিন হোসেন পান সিইওর দায়িত্ব। এর সাড়ে তিন বছরের মাথায় লতিফুরের ছোট মেয়ে শাযরেহ হক মামলার পথে হাঁটায় এ পরিবারের কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব সে সময় প্রকাশ্যে আসে।