হোম > বাণিজ্য

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছু হটল এনবিআর

কাওসার আলম

চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) শুরুতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চার লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের মাঝপথে আরো ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে বড় ধরনের হোঁচট খায় এনবিআর। প্রতি মাসেই রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ক্রমেই পিছিয়ে পড়ে সংস্থাটি। গত ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয় প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। আদায়ে বড় ধরনের হোঁচট খেয়ে অবশেষে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে চার লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। যদিও কাগজে-কলমে লক্ষ্যমাত্রায় কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক সদস্য আমার দেশকে বলেন, অর্থবছর শেষে চার লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে চাই। এটি অর্জন করতে পারাটাও আমাদের সন্তুষ্টির কারণ হবে। তিনি বলেন, নতুন এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে রাজস্ব আদায়ে ১৬ শতাংশের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। গত বছর রাজস্ব আহরণে তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে এমন কোনো ম্যাজিক পরিবর্তন হয়নি যে, আরো বড় ধরনের রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছর শেষে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস- এ তিনটি বিভাগ মিলে চার লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৯ মাসে আদায় হয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাকি তিন মাসে এনবিআরকে আদায় করতে হবে এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। গড়ে প্রতি মাসে আদায় করতে হবে ৪৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে বিগত সময়ে এনবিআরে একমাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ হিসাবে নতুন রেকর্ড গড়েই রাজস্ব আদায়ের নতুন এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে এনবিআরকে। লক্ষ্যমাত্রা কমানো হলেও এটি অর্জন করাও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ বিভাগ প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এনবিআরের রাজস্ব আহরণের পরিমাণ তিন লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। যদিও অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আহরণের এ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত আকারে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে চার লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ হিসাবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে আদায়ের পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৬১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এ হিসাবে গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল তিন শতাংশের মতো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগের অবাধ লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে অর্থনীতিতে বিপর্যস্ত অবস্থা দেখা দেয়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা ব্যবসায়ী অলিগার্কি গোষ্ঠীর আত্মগোপন কিংবা গ্রেপ্তারের কারণে অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে শ্লথগতি তৈরি হয়। এসব কারণে গত অর্থবছরে রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি ঘটেনি।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিনিয়োগে গতি সঞ্চারের আশাবাদ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটে শিল্প কলকারখানার উৎপাদনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক খাতে গত আট মাসে রপ্তানির পরিমাণ টানা কমেছে। মার্চে রপ্তানি আয় বাড়লেও আগের বছরের তুলনায় পিছিয়ে আছে। অপরদিকে এডিপি বাস্তবায়ন হারেও গতি আসেনি। ফলে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করতে হবে।

এএস

নিয়োগ-ছাঁটাই প্রক্রিয়া সঠিক কি না তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিটি

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করার অঙ্গীকার বামা ও বিএসএর

টানা ৮ মাস কমার পর রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৩ শতাংশ

আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ

১৩১ তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে নারী স্বতন্ত্র পরিচালক নেই

আয়কর রিটার্ন কী? নতুন করদাতাদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড

জ্বালানি সংকটে শিল্পে বিপর্যয়

আমিরাতের ওপেক ত্যাগ নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে সৌদি

চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড

বিভিন্ন দেশ কেন স্বর্ণের মজুত গড়ছে