ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য ব্যয় হবে ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বেশি।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন টিসিবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ভোজ্যতেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। দরপত্র প্রক্রিয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নে একমাত্র গ্রহণযোগ্য দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয় ইন্দোনেশিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পিটি ট্রিনিটি ছায়া এনার্জি।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১ দশমিক ১৫১ মার্কিন ডলারে সরবরাহ করবে। দুই কোটি লিটার তেলের বিপরীতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা।
টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, আমদানি, পরিবহন ও গুদামজাতকরণসহ অন্যান্য ব্যয় যুক্ত করে প্রতি লিটার তেলের মোট খরচ পড়ছে ১৭৮ টাকা ৫৬ পয়সা। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের গড় মূল্য প্রায় ১৯৫ টাকা হওয়ায় সরকারি এই উদ্যোগে ভোক্তারা লিটারপ্রতি প্রায় ১৬ টাকা ৪৪ পয়সা কম দামে পণ্যটি কিনতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার চাপ কমাতে সরকার নিয়মিতভাবে টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিসিবির জন্য মোট ২৩ কোটি লিটার ভোজ্যতেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২ কোটি ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪ লিটার তেল সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।
এএস