প্রায় দীর্ঘ আড়াই বছর পর পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। রয়্যাল ফুটওয়ার পিএলসি নামে একটি কোম্পানিকে মূলধন সংগ্রহের এ অনুমতি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় রয়্যাল ফুটওয়্যারকে ১২ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে সংস্থাটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। কোম্পানিটি ইনিশিয়াল কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের (আইকিউআইও) মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর) কাছ থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করবে। প্রতিটি শেয়ারের অফার মূল্য হচ্ছে ১০ টাকা। এ হিসাবে অভিহিত মূল্যেই শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পেল রয়্যাল ফুটওয়্যার।
তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ মার্চ সবশেষ কোম্পানি হিসাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমতি পেয়েছিল টেকনো ড্রাগস। একই বছরের জুলাই মাসে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এরপর থেকে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে আর কোনো কোম্পানি অনুমতি পায়নি।
অবশ্য ২০২৪ মাসের জুন মাসে দুয়ার সার্ভিসেস নামে একটি কোম্পানি আইকিউআইও’র মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের অনুমতি পেয়েছিল। তৎকালীন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের কমিশন এ অনুমোদন দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর শিবলী রুবাইয়াতসহ কমিশনের কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বে বিএসইসি পুনর্গঠিত হয়। ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর রাশেদ মাকসুদ কমিশন দুয়ার সার্ভিসের মূলধন সংগ্রহে বিগত কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করে। কিন্তু কোম্পানিটির নানা অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে কমিশন মূলধন সংগ্রহের আবেদন বাতিল করে দেয়। এরপর রাশেদ মাকসুদ কমিশন কোনো কোম্পানির মূলধন সংগ্রহে অনুমোদন দেয়নি। ফলে মূলধন সংগ্রহে দীর্ঘ খরায় পড়ে দেশের শেয়ারবাজার। গত ৪ জুন রাশেদ মাকসুদসহ কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করলে মাসুদ খানকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে সরকার। ফলে রয়্যাল ফুটওয়্যার নতুন কমিশনের প্রথম আইকিউও।
এদিকে বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রয়্যাল ফুটওয়্যার একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী কোম্পানি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত জুতা কোম্পানি রস (ROSS) এ জুতা সরবরাহ করে থাকে। পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত অর্থে কোম্পানিটি ঋণ পরিশোধ, খুচরা যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল ক্রয় এবং আইকিউআিইও ব্যয়ে ব্যবহার করবে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এর নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব বিবরণী অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৮২ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) পুনর্মুল্যায়ন ব্যতীত ১৫ টাকা ৭৪ পয়সা ও পুনর্মুল্যায়নসহ ২৭ টাকা ৫৪ পয়সা। কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার হিসাবে রয়েছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট এবং আন্ডার রাইটার হিসাবে রয়েছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট ও ইসি সিকিউরিটিজ।
ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ডের অবলুপ্তির অনুমোদন
আজকের কমিশন সভায় ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড নামে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড অবলুপ্তির অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। ফান্ডটির ১০ বছর পূর্ণ হওয়ায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। ফান্ডটির মোট ইউনিট ক্যাপিটাল ফান্ড ১০৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ইউনিট প্রতি ফেসভ্যালু ১০ টাকা।
মার্জিন লোনের বিধিমালার খসড়া অনুমোদন
কমিশন সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫-এর সংশোধন প্রস্তাব(খসড়া) অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এটি খুব শিগগির জনমত যাচাইয়ের জন্য পত্রিকায় ও কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।