শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় কয়েকদিনের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। এতে জনমনে ফিরে আসছে স্বস্তি। তবে অস্বস্তি তৈরি করেছে আটা ও পেঁয়াজের দাম। এ দুটি পণ্যের দাম হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
সপ্তাহ দুয়েক আগেও খুচরা বাজারে দুই কেজির মোড়কজাত আটা বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে একই মানের প্যাকেট এখন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে। পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়ছে। অতি প্রয়োজণীয় এ নিত্যপণ্যের কেজি দেড়শ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।
কয়েকদিন আগেও যে বেগুন (গোল) বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়, তা এখন পাওয়া যাচ্ছে ১২০ টাকায়। লম্বা বেগুনের দাম কমে এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই ভাবে সপ্তাহ দুয়েক আগেও যে কাঁচামরিচ ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, তা এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ১৬০ টাকার শিম গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। একই হারে কমেছে পটোল, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, কাঁচা কলাসহ অন্যান্য সবজির দামও।
কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সবজির দাম দ্রুত কমছে, আগামী সপ্তাহে আরো কমতে পারে। সব মিলিয়ে সবজির বাজারে এক ধরনের স্বস্তি ফিরেছে।
অনেক দিন ধরেই ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে থাকা সবজিগুলো এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল নয়াবাজার, শান্তিনগর ও কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এ চিত্র দেখা গেছে। তবে অন্যান্য বাজারের তুলনায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজির দাম তুলনামূলক কিছুটা কম লক্ষ করা গেছে।
গতকাল কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হতে দেখা যায় ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, ঝিঙে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এছাড়া পটোল ৫০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, কাঁচা কলা ৩০ টাকা (হালি), লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা (প্রতিটি), ফুলকপি (ছোট) ৩০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি (ছোট) ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং মুলা ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়।
পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচু ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা এবং আলু মানভেদে ১৬ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে দাম বেড়ে গাজর ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। রাজধানীর অন্যান্য কাঁচাবাজারে মানভেদে সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার এলাকা থেকে কারওয়ান বাজারে আসা হেলেনা বেগম বলেন, কয়েক মাস ধরে সবজি অতিরিক্ত দামে বেচাকেনার পর বেশিরভাগ সবজি এখন ৫০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।
চাল, ডিম ও মুরগির বাজার স্থিতিশীল থাকলেও মসুর ডাল (চিকন) ও পোলাও চাল বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের দাম পাঁচ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৯২৫ টাকায়।
আটার দামে অস্বস্তি বেড়েছে। সপ্তাহ দুয়েক আগেও খুচরা বাজারে দুই কেজির মোড়কজাত আটা বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে সেই একই প্যাকেট এখন কিনতে হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। খোলা আটার দাম সামান্য বাড়লেও মান নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ ক্রেতাদের পাশাপাশি বিপাকে বেকারি ও রেস্তোরাঁ মালিকরাও। হঠাৎ দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।
অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে গত তিন বছর ধরেই গমের দাম নিম্নমুখী। গম আমদানিতে কোনো ট্যাক্সও নেই। প্রশ্ন উঠেছেÑগম থেকে তৈরি আটার দাম কেন বাড়ছে? ব্যবসায়ীরা বলছেন, টাকার বিপরীতে ডলারের দাম এখন ১২২ টাকা ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ মূলত রাশিয়া, ইউক্রেন ও ব্রাজিল থেকে গম আমদানি করে থাকে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও কিছুটা বেশি দামে গম আমদানি করছে সরকার। সেটিকেও কারণ বলছেন কেউ কেউ। তবে মোট আমদানির ১০ শতাংশ আসছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তাই দাম বৃদ্ধির পেছনে বেশিরভাগ যুক্তিই খোঁড়া বলছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, বেশিরভাগ খাদ্যপণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমতির দিকে থাকলেও দেশের বাজারে বেড়ে যাওয়া খুবই রহস্যজনক। অথচ সরকার নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছে।
আমদানি করা আদা ও রসুনের দামও কিছুটা বেড়ে বর্তমানে আদা ১৫০ থেকে ২২০ টাকা এবং রসুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরু ও মোটা জাতের চালের দাম এক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকলেও মাঝারি জাতের চালের দাম কিছুটা কমে বর্তমানে মানভেদে পাইজাম ও আটাশ ৫৮ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু জাতের মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল ৭২ থেকে ৮৫ টাকা এবং মোটা জাতের স্বর্ণা ও চায়না ইরি ৫৪ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের দামও কিছুটা কমেছে। কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, রুই, কাতলা, মৃগেল ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০-২৩০ টাকা, কোরাল ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনে পাঁচ টাকার মতো কমে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।