হোম > বাণিজ্য

বাজেয়াপ্ত ও অখালাসকৃত পণ্য নিষ্পত্তিতে এনবিআরের নতুন স্থায়ী আদেশ

স্টাফ রিপোর্টার

দেশের কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনগুলোতে আটকে থাকা অখালাসকৃত কিংবা চোরাচালানের অভিযোগে বাজেয়াপ্ত করা পণ্য দ্রুত, স্বচ্ছ ও আধুনিক উপায়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি নতুন স্থায়ী আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

‘স্থায়ী আদেশ নং- ৪৩/কাস্টমস/২০২৬’ শিরোনামের এই আদেশটি আজ সোমবার জারি করা হয়, যা ২০২৩ সালের কাস্টমস আইনের বিভিন্ন ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই আদেশটি পূর্ববর্তী ২০২৩ সালের ২ জুলাই জারিকৃত ৯১ নম্বর স্থায়ী আদেশটিকে প্রতিস্থাপন করবে।

কাস্টমস গুদামগুলোতে পণ্যের জট কমানো, সরকারি রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করা এবং কাস্টমস কার্যক্রমে গতিশীলতা আনাই এই আদেশের মূল লক্ষ্য।

নিলাম কার্যক্রমে অগ্রাধিকার পাবে লাইভ ই-নিলাম

নতুন স্থায়ী আদেশে জব্দকৃত বা অখালাসকৃত পণ্য নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনলাইন বা ‘লাইভ ই-নিলাম’ (Live E-Auction) পদ্ধতিকে প্রধান মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ই-নিলাম সম্ভব না হলে প্রচলিত প্রকাশ্য নিলামের ব্যবস্থা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ই-নিলাম ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ (ASYCUDA World) সিস্টেমের মাধ্যমে খালাস না হওয়া পণ্যের তালিকা ও লট প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ ও জামানত

নিলামের লট প্রস্তুতের পর পণ্যের গুণগত মান, পরিমাণ ইত্যাদি পরীক্ষা করে সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে আমদানির পর প্রথম বছর ব্যতীত পরবর্তী বছর হতে বছরভিত্তিক ১০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সংরক্ষিত মূল্য হ্রাস করার বিধান রাখা হয়েছে। নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য ই-নিলামের ক্ষেত্রে দরদাতাকে ৫ শতাংশ হারে জামানত ই-পেমেন্টের মাধ্যমে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে।

পচনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিশেষ নিষ্পত্তি

নতুন আদেশে পচনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। চিনি, লবণ, ডাল বা সয়াবিন তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পচনশীল পণ্যগুলো এনবিআর নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি টিসিবির কাছে বিক্রি করা যাবে। এছাড়া, খালাস না হওয়া পচনশীল পণ্য যদি খাওয়ার উপযোগী থাকে এবং ৩ মাসের কম মেয়াদ থাকে, তবে তা সরকারি এতিমখানায় বিনামূল্যে হস্তান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যবহারের অনুপযোগী ও ক্ষতিকারক পণ্য ধ্বংস করার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ধ্বংস কমিটি’ গঠনের রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে।

মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য পণ্য হস্তান্তর

আটককৃত সোনা, রুপা, প্ল্যাটিনাম বা হিরের মতো মূল্যবান ধাতু এবং বৈদেশিক মুদ্রা যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাস্টমস গুদামে বা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে। এছাড়া বিস্ফোরক, যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে এবং মাদক, মদ বা বিদেশি সিগারেট বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হবে। শিল্প কারখানার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)-এর কাছে ন্যূনতম মূল্যের ৬০ শতাংশ দামে বিক্রি করা যাবে।

দাবিদারকে নোটিশ ও অর্থ বণ্টন

পণ্য নিলামে তোলার আগে আমদানিকারক বা দাবিদারকে সাত কার্যদিবসের সময় দিয়ে নোটিশ পাঠানো হবে। এই সময়ের মধ্যে সাড়া না দিলে পণ্য নিলামে তোলা হবে। নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে। প্রথমে নিলামের ব্যয় পরিশোধ করা হবে, এরপর যথাক্রমে শিপিং বা কনটেইনার ভাড়া, সরকারি কাস্টমস শুল্ক ও ট্যাক্স এবং জিম্মাদারের পাওনা পরিশোধ করা হবে। অবশিষ্ট অর্থ থাকলে তা পণ্যের মালিককে আবেদনের প্রেক্ষিতে ফেরত দেওয়া যাবে।

নিলাম কার্যক্রমে কোনো প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি বা জালিয়াতির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করাসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আদেশে বলা হয়েছে।

যে দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে আজ

বড় মূলধনি ও অবকাঠামো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে শর্ত শিথিল

তাঁবু-আউটডোর পণ্যে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশের

আওয়ামী সংগঠনগুলোর উসকানিতে গার্মেন্টস শ্রমিকরা আন্দোলন করছে

সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ

সাবসিডিয়ারির ব্যবসা চালুর অনুমতি, ৮ প্রতিষ্ঠানকে সময় বেঁধে দিল বিএসইসি

সিএসইর কমোডিটি মার্কেট: নিবন্ধন সনদের নীতিগত অনুমোদন পেল ৬ ব্রোকারেজ হাউস

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত অক্টোবরেই আসবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

মঙ্গলবার থেকে ৫ দিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

বন্ধ কারখানা চালুতে তহবিল, ঋণ বিতরণে গতি কম