ব্যাংকের উৎসাহ বোনাস দেওয়ার নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে পরিচালন মুনাফা অর্জন, আগের বছরের তুলনায় মূলধন ঘাটতি না বাড়া এবং নতুন করে কোনো নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে বিলম্বিত সুবিধা না নিলেই ব্যাংকগুলো উৎসাহ বোনাস দিতে পারবে।
গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছিল যে, ব্যাংক নিট মুনাফা না করলে কর্মীদের উৎসাহ বোনাস দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি মূলধন ও নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে ঘাটতি থাকলেও বোনাস দেওয়া যাবে না। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে বিলম্বিত ছাড় সুবিধা নিলে উৎসাহ বোনাস দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশনা ছিল।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, যদি কোনো বছরে নিয়ম অনুযায়ী ইনসেনটিভ বোনাস দেওয়া না হয়, তাহলে বিশেষ অর্জনের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বোনাস দেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে এই বোনাস দেওয়ার আগে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। সেগুলো হলো— ব্যাংককে অবশ্যই পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে হবে; আগের বছরের তুলনায় মূলধনের ঘাটতি বাড়া যাবে না; এবং নতুন করে কোনো নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে বিলম্বিত সুবিধা নেওয়া যাবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, আগে নিয়ম ছিল নির্ধারিত শর্তগুলোর কোনো একটি পূরণ না হলে ব্যাংকগুলো কোনো ইনসেনটিভ দিতে পারত না। নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে এই নিয়মটি শিথিল করা হয়েছে। এখন আগের শর্তগুলো পূরণ না হলেও ব্যাংকগুলো ইনসেন্টিভ দিতে পারবে, তবে সেক্ষেত্রে নতুন তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে ব্যাংকের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম সহজ করা হলেও সব ব্যাংক এই সুবিধা পাবে না, কারণ অনেক ব্যাংক নতুন শর্তগুলোও পূরণ করতে পারবে না।
তিনি জানান, এই সুযোগ দেওয়ার মূল কারণ হলো দক্ষ কর্মকর্তাদের ধরে রাখা। ছোট বা সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলো যখন ইনসেন্টিভ দিতে পারে না, তখন কর্মকর্তারা ভালো ব্যাংকে চলে যান। নিয়ম শিথিল করার ফলে কর্মকর্তাদের কর্মতৎপরতা বাড়বে এবং ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় থাকবে।