সেমিনারে বিএসইসি চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজারে নানা ধরনের অনিয়ম ও কারসাজির ঘটনায় গত দেড় বছরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর বিপরীতে ৫ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে আদায়ের পরিমাণ কম হলেও জরিমানার অর্থ একদিন না একদিন সরকারের কোষাগারে জমা হবে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পথ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। সিএমজেএফ সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীবের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএসইসি কমিশনার সাইফুদ্দিন আহমেদ, ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, সিএসই চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাইম সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মনিরুজ্জামান।
গত দেড় বছরে পুঁজিবাজারের সংস্কার ও আইন কানুন প্রণয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এতো অল্প সময়ে এতো বিধি বিধান আইন কানুন অতীতে কখনও প্রণীত হয়নি। অনেকে বলেন, বিএসইসির কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে। তাহলে এতো নিয়ম, বিধি বিধান কিভাবে হয়েছে? আমরা তো (কমিশন) কেবল নির্দেশনা দিয়েছি আর মনিটরিং করেছি। বিএসইসির কর্মকর্তারাই সেগুলো বাস্তবায়ন করেছেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ভালো কোম্পানি কেন পুঁজিবাজারে আসছে না সেজন্য আমরা পাবলিক ইন্টারেস্ট এনটিটির জন্য একটা আইন করছি। একটা কোম্পানির সেলস, মার্কেট শেয়ার, অ্যাসেট, ওয়ার্কফোর্স, ডেট ইত্যাদির সমন্বয় করে পাবলিক ইন্টারেস্ট এনটিটি হিসাবে আইডেন্টিফাই করা হবে। এটা করতে গেলে বিভিন্ন প্রভাবশালী বা স্বার্থান্বেষী মহলের কাছ থেকে নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। তারা চায় না, তাদের কোম্পানিগুলো পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানির আওতায় আসুক। এ জন্য সরকার ও অন্যান্য পলিসি মেকারর্সদের সহযোগিতা লাগবে। শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির বিকল্প নেই উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে প্রচুর ভালো কোম্পানি আছে কিন্তু ১০ শতাংশও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়।