ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সেই শঙ্কার মধ্যেই চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনে দেশে প্রবাসীরা ২২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। গত বছরের একই সময় এসেছিল ১৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য আমাদের প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস। যুদ্ধের কারণে এসব দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আতঙ্কে আছেন। তারপরও প্রবাসীরা ঈদের খরচ মেটাতে পরিবারের জন্য রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ জাকাতের জন্যও টাকা পাঠাচ্ছেন। এই দুই কারণেই সংকটের মধ্যেও প্রবাসী আয় বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১১ কোটি ডলার।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলমান রয়েছে। গত অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অর্থ পাচার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আবার ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান আছে। এতে হুন্ডি প্রবণতা কমে যাওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। গত ১১ মার্চ রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৩৫ কোটি ডলার বা ৩৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৯৬৪ কোটি বা ২৯ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে ডলারের দামও বেড়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলো ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা দরে প্রবাসী আয়ের ডলার কিনেছে। এর আগে মঙ্গলবার ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দামে প্রবাসী আয় কিনেছিল ব্যাংকগুলো। বেশি দামে প্রবাসী আয় কেনার কারণে আমদানিতেও ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা ছাড়িয়ে গেছে। এক সপ্তাহ আগেও আমদানির জন্য ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করেছিল ১২২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত মুদ্রার হার–সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানেও ডলারের দাম বেড়েছে। ৩ মার্চ ডলারের গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা। মঙ্গলবার তা বেড়ে হয় ১২২ টাকা ৫৮ পয়সা। আর সর্বশেষ রোববার তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায়।