কর্মশালায় বিডা চেয়ারম্যান
দেশে বিনিয়োগে জ্বালানী সংকট বড় সমস্যা। গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। এরপর রয়েছে বিদ্যুতের সমস্যা। এ সমস্যা সমাধান খুবই জরুরী এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। কিন্তু রাতারাতি এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এ সংকট সমাধানে এখনই কাজ শুরু করতে হবে। কিন্তু তারপরও এটি সমাধান করতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যাবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় এক প্রশ্নের উত্তরে সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রবাহ ও বিনিয়োগের সুবিধা’ শীর্ষক এ কর্মশালার প্রথম পর্বে বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক (পরিসংখ্যান বিভাগ) নূরজাহান আক্তার। দ্বিতীয় পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি। বিডার নির্বাহী সচিব মো. হুমায়ূন কবির এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন বিডার মহাপরিচালক (অপারেশন-২) মো. মুজিব উল-ফেরদৌস।
বিডার চেয়ারম্যান বলেন, জ্বালানী সংকট সমাধানের জন্য এখন দাপ্তরিক কাজের বড় সময়ই আমাকে জ্বালানী মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানী নিয়ে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শিল্প খাতের বিদ্যুতের সংকট সমাধান সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এখন আমরা যদি বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য কোন পাওয়ার স্টেশনও নির্মাণ করি তাহলে সেটি চালু করতে হলে গ্যাসের প্রয়োজন হবে। কিন্তু আমাদের বিদ্যমান অবকাঠামোতে গ্যাসের সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। আমাদের সরবরাহ লাইন দ্রুত প্রস্তত করতে হবে। এখনই এটা শুরু করলে আগামী দুই বছর পর হয়ত তার সুফল মিলবে।
গত বছর বিডার ‘বিনিয়োগ সামিটের’ পর দেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ কেমন বেড়েছে-এমন প্রশ্নের উত্তরে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, আমি বলতে পারি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু আমাদের পাইপলাইনে যে পরিমাণ বিনিয়োগপ্রস্তাব রয়েছে সেগুলোকে বাস্তবে রূপান্তরে সময় লাগছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওই সময় সবাই নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আর এ কারণে বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণে ছিলেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটা বড় সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এরপর নির্বাচন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। জ্বালানী তেলের একটা সংকট তৈরি হয় এতে। ফলে আমরা এ বছর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের চেয়ে দেশী বিনিয়োগকারীদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিব। আউট সাইডের পরিবর্তে নিজের দেশের বিনিয়োগকারীদের প্রতি ফোকাস থাকবে আমাদের। যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হলে আগামীতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রতি দৃষ্টি দিব।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, চীন আমাদের অনেক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য একটি ইকোনোমিক জোনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমরা খুব দ্রুত এটির উন্নয়ন কাজ শুরু করবো। মংলায় তারা আরও একটি ইকোনোমিক জোন তৈরি করতে চায়। চীন সফরে আমরা সেদেশের সম্ভাব্য বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজন করার চেষ্টা করছি। সেখানে আমরা তাদেরকে কোন কোন খাতে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে সম্ভাব্য সেসব খাতগুলো তুলে ধরা হবে।
ব্যাংকগুলোর খারাপ রেটিংয়ের কারণে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাতের দুর্দশনা অনেক পুরনো। এতদিন এ খাতের সংকটকে স্বীকার করা হয়নি। ভুল ব্যালেন্সশিট তৈরি করে ভুল মুনাফা দেখানো হয়েছিল। এখন আমরা সে ভুলগুলো স্বীকার করছি, এটা আরও তিন বছর আগে হওয়া উচিত ছিল। তা হলে এখন আমাদের এ সমস্যায় পড়তে হতো না। তবে যে কোন সংকট সমাধানের জন্য ভুল স্বীকার করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং খাতের এখন যে অবস্থা তা থেকে নীচে নামার আর সুযোগ নেই। আমাদের এখন ধীরে ধীরে এ সংকট থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) চালু হলেও সেটি কার্যকর না হওয়ার কারণ জানিয়ে বলেন, অনলাইনের পাশাপাশি ম্যানুয়াল সেবা যদি কার্যকর থাকে তাহলে তার সুফল পাওয়া যায় না। ওয়ান স্টপের পরিবর্তে বাংলাবিজ নামে ওয়ান স্টপ গেটওয়ে চালু করা হচ্ছে, এতে ব্যবসা সম্পর্কিত সবগুলো সংস্থার সঙ্গে এপিআই করা হবে। বিজনেস প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি ইউনিক আইডি চালুর কথা জানিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, এখন একজন ব্যক্তির সব ধরনের তথ্য যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের সঙ্গে যুক্ত তেমনী বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার চালু হলে একটি কোম্পানির একই ধরনের তথ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বারবার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর একীভূতকরণের মাধ্যমে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ গঠিত হলে বিনিয়োগকারীদের জটিলতা অনেকাংশে কেমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।